গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় হাইতির
- আপডেট সময় : ০৯:৫১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 23
Brazil's Matheus Cunha (9) celebrates after scoring his side's opening goal with teammates during the World Cup Group C soccer match between Brazil and Haiti in Philadelphia, Friday, June 19, 2026. (AP Photo/Petr David Josek)
মরক্কো ম্যাচে ড্রয়ের পর হাইতির বিপক্ষে পূর্ণ তিন পয়েন্টের খোঁজে নেমেছিল ব্রাজিল। ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ছয়টায় শুরু হওয়া ম্যাচে শতভাগ সফলতা বাগিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর হতাশা আর তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ব্রাজিল হাইতির বিপক্ষে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (২০ জুন) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এল কার্লো আনচেলত্তির দল। আর প্রথম দল হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট পেলেও গোলব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে এখন ব্রাজিল। আগের ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে থাকা মরক্কো (+১) এখন দুই নম্বরে নেমে গেছে। হাইতির বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতা স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তিনে। ফলে শেষ ম্যাচে পয়েন্ট পেলেও টানা দুই ম্যাচ হারা হাইতির আর শীর্ষ তিনে ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
‘সি’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথমার্ধটা শুধুই ব্রাজিলের ছিল। টোটাল শট, অন টার্গেট শট এবং সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থেকে বিরতির আগেই তিন গোল আদায় করে নেয় সেলেসাওরা। দ্বিতীয়ার্ধেও বল পজিশনে স্পষ্ট আধিপত্য ধরে রাখলেও আর কোনো গোল করতে পারেনি ব্রাজিল। দলের হয়ে মাতেউস কুনিয়া দুটি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একটি গোল করেন।
জয়ের খোঁজে ইবানিয়েজ ও ইগর থিয়াগোকে বাদ দিয়ে দানিলো ও মাতেউস কুনিয়াকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন কার্লো আনচেলত্তি। কোচের আস্থার প্রতিদান দারুণভাবে দেন কুনিয়া। ম্যাচের ৬৩তম মিনিট পর্যন্ত মাঠে থাকা এই ফরোয়ার্ডের পা থেকেই প্রথম দুটি গোল উপহার পায় ব্রাজিল।
অবশ্য প্রথমার্ধের ১২তম মিনিটে রাফিনিয়ার গোল অফসাইডে বাতিল না হলে লিডটা আরও আগেই আসতে পারত। ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়েছিলেন বার্সেলোনা উইঙ্গার। তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; শট নেওয়ার মুহূর্তে রাফিনিয়া অফসাইড পজিশনে থাকায় সহকারী রেফারি পতাকা তুললে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
তবে ফিলাডেলফিয়ার গ্যালারি তথা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হলুদ জার্সিধারী দর্শকদের উল্লাসে মাতাতে বেশি সময় নেননি কুনিয়া। ২৩তম মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিড প্রথম শটটি ঠেকালেও ফিরতি বলে (রিবউন্ড) কুনিয়ার নেওয়া শট আশ্রয় নেয় জালে। ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের লিড দ্বিগুণ করেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে দারুণ এক মুভ শুরু করে কুনিয়াকে ডিফেন্সচেরা থ্রু পাস দেন ভিনিসিয়ুস। সেখান থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনিয়া।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে হাইতি গোলকিপার জনি প্লাসিডকে একা পেয়ে তাঁর দু-পায়ের ফাঁক দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
এর আগে প্রথমার্ধের ৪০তম মিনিটে চোটে পড়েন রাফিনিয়া। তাঁর বদলি হিসেবে নামেন ব্রাজিলের বোর্নমাউথে খেলা তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান। রাফিনিয়ার চোট কতটা গুরুতর, তা তাৎক্ষণিকভাবে খালি চোখে বোঝা না গেলেও ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক্সক্লুসিভ ফুটেজ এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন। গত মার্চে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময়ই একই জায়গায় চোট পেয়েছিলেন তিনি, যার ফলে প্রায় দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে মার্তিনেল্লির একটি শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। এর আগে ৬৪তম মিনিটে লুকাস পাকেতার বদলি হিসেবে নামার মাত্র চার মিনিটের মাথায় আগুনে শটে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এই আর্সেনাল উইঙ্গার।
৭৭তম মিনিটে কুনিয়ার বদলি হিসেবে বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে নেমেই জাল কাঁপিয়েছিলেন এনদ্রিক। ডিফেন্সচেরা এক ক্রস কাজে লাগিয়ে হাইতি গোলকিপারের দু-পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, অফসাইডের কারণে রেফারির বাঁশিতে মলিন হয়ে যায় তাঁর গোল উদযাপনের হাসি। লাইন ভেঙে আগেই তিনি ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন।
ম্যাচের যোগ করা সময়েও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গোলবঞ্চিত হয় ব্রাজিল। দানিলো সান্তোস হাইতির ডিফেন্ডার দুভার্নের পেছনে বল বাড়িয়েছিলেন মার্তিনেল্লির উদ্দেশ্যে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মার্তিনেল্লি দ্রুত গতিতে হাইতির গোলপোস্টের দিকে ছুটে যান। হাইতির গোলকিপার জনি প্লাসিড মার্তিনেল্লিকে রুখতে সামনে এগিয়ে এলে ফাঁকা পজিশনে থাকা এদেরসন সিলভার উদ্দেশ্যে নিখুঁত এক স্কয়ার পাস বাড়ান আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। কিন্তু গোললাইনের মাত্র দুই গজ দূরত্বে বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন সিলভা। বল নিয়ন্ত্রণে নিজের পায়ের ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারায় তাঁর শটটি গোলপোস্টের বাইরে লেগে সাইড-নেটিংয়ে চলে যায়। ফলে একেবারে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই