কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ প্রয়োজন
- আপডেট সময় : ০২:৩৩:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 11
দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে জেলার ৮টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি স্থানে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন কবলিত ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থান নদীগর্ভে বিলীন হওয়া থেকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ’টি জিও ব্যাগ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে প্রাপ্ত সরকারি তথ্যে জানা গেছে, দেশের সবচেয়ে দারিদ্র্য পীড়িত এই জেলায় ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় সাড়ে ৪ শতাধিক চর রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে জেলাটি প্রতি বছরই একাধিকবার বন্যার সম্মুখীন হয়। সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ইতোমধ্যে জেলার ৫টি উপজেলার ২৪টি ইউনিয়ন আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৪৯২টি পরিবারের মানুষ। এছাড়া গত তিন মাসে নদীভাঙনে ১৪৯টি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে এবং ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি জলমগ্ন হয়েছে।
বর্তমানে কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, উলিপুর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩৩টি পয়েন্টে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
নদীভাঙনের শিকার স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, তীব্র স্রোতের কারণে চোখের সামনে তাদের আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। রৌমারীর সুখেরবাতি এলাকার বাসিন্দা ছমিরন বেওয়া (৬০) বাসস’কে বলেন, ‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। দুই দিনের মধ্যে ঘরবাড়ি ভেঙে বিলীন হয়ে গেল। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, তা জানি না। সরকারি সাহায্য বা বাঁধ দ্রুত না দিলে আমাদের আর বেঁচে থাকার উপায় থাকবে না।’
একই এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সবুর মিয়া বলেন, ‘কষ্টের ফসল আমন ধানের বীজতলা নদী টেনে নিয়ে গেছে। নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর দাবি জানাচ্ছি।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানান, ঝুঁকিপূর্ণ নদী তীর রক্ষার জন্য ২৫০ কেজি ওজনের মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫শ’টি জিও ব্যাগের সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সুখেরবাতি এলাকার জন্য ৩৪ হাজার ৬শ’টি এবং কোদালকাটি এলাকার জন্য ৩০ হাজার জিও ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ নদী তীর রক্ষা এবং নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ সরবরাহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক বরাববও পাঠানো হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই