ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 20

আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন ব্যবস্থার। আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন তৎকালীন সরকার প্রধানসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির পর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক গণঅভ্যুত্থানে।

২০২৪ সালের এই দিনে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় ছিল থমথমে পরিস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে রাজপথে। দুপুরের পর সেই ঢল রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন শুধু শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরাই নন; যোগ দেন সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এতদিন উদ্বিগ্ন মায়েরা, সন্তানদের ঘরে ফিরতে বলা বাবারা, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে গণভবন ত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় সবার দৃষ্টি ছিল সেনাপ্রধানের নির্ধারিত ভাষণের দিকে। দুপুর ২টায় ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে বিকেল ৩টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সেনাপ্রধানের ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন সবাই। ছাত্র-জনতার জনসমুদ্র ততক্ষণে গণভবনে পৌঁছে যায় বিজয় মিছিল নিয়ে। গণভবনের বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হন হাজারো মানুষ। গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় সেদিনের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ

আপডেট সময় : ১১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট। ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন ব্যবস্থার। আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন তৎকালীন সরকার প্রধানসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানির পর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এক গণঅভ্যুত্থানে।

২০২৪ সালের এই দিনে সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকায় ছিল থমথমে পরিস্থিতি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল নামে রাজপথে। দুপুরের পর সেই ঢল রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেন শুধু শিক্ষার্থী বা রাজনৈতিক কর্মীরাই নন; যোগ দেন সন্তানের নিরাপত্তার জন্য এতদিন উদ্বিগ্ন মায়েরা, সন্তানদের ঘরে ফিরতে বলা বাবারা, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ।

এমন পরিস্থিতিতে এক পর্যায়ে গণভবন ত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় সবার দৃষ্টি ছিল সেনাপ্রধানের নির্ধারিত ভাষণের দিকে। দুপুর ২টায় ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে বিকেল ৩টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান শেখ হাসিনার দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সেনাপ্রধানের ঘোষণার পরপরই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয় উল্লাসে ফেটে পড়েন সবাই। ছাত্র-জনতার জনসমুদ্র ততক্ষণে গণভবনে পৌঁছে যায় বিজয় মিছিল নিয়ে। গণভবনের বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হন হাজারো মানুষ। গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় সেদিনের উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো এলাকা।