ধসে পড়ল ৮ম তলার ছাদ, আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হলো রোবট
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
- / 94
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) এলাকার দুটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আট ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রণ আসেনি। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানির গুদামে আগুন লাগে। রাত ১০টা পর্যন্ত চেষ্টার পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ফায়ার সার্ভিসের ২৩টি ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ঘটনাস্থলে যোগ দিয়েছে। এছাড়াও আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত করা হয়েছে রোবট।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, আগুন নেভাতে একটি রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটিতে লাগানো পাইপ দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি ছেটানো হচ্ছে।
এদিকে আগুন লাগা ভবনের ৮ তলার ছাদ ধসে পড়েছে। ভেতরে থেমে থেমে ছোট ছোট বিস্ফোরণ ঘটছে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রচণ্ড তাপের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের কাছাকাছি যেতে পারছেন না এবং দূর থেকে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া
ভবনের আশপাশের কয়েকশ মিটার দূর থেকেও আগুনের কড়া তাপ অনুভূত হচ্ছে। আগুনে দিশেহারা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ক্রমেই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন। সময় যত গড়াচ্ছে, আগুনের লেলিহান শিখা তত উঁচু হচ্ছে।
আগুনের তাপে পাশের একটি তিনতলা ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানার ভবন অতিরিক্ত গরম হয়ে গেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এসব কারখানার কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পানি ছিটিয়ে ভবন শীতল রাখার চেষ্টা করছে।

ভবনটিতে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করতেন। তবে দুর্ঘটনার সময় সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, আগুন লেগেছে ভবনের ৭ম তলায়, যা মূলত গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। শ্রমিকরা সাধারণত দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কাজ করতেন। ভেতরে এখন কোনো শ্রমিক নেই, সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
আগুন লাগা কারখানার সিকিউরিটি গার্ড মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টায় ডিউটি শেষে তিনি বাড়ি ফেরেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে খবর পান– কারখানায় আগুন লেগেছে। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি কারখানায় আসেন।

রফিকুল জানান, সাত তলা বিশিষ্ট ভবনটিতে প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় তোয়ালে কারখানা। তৃতীয় থেকে সপ্তমতলা পর্যন্ত মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির কারখানা। যেটির নাম জি ওয়ান মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিজ। চীনা মালিকানাধীন কারখানাটিতে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করেন।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, ভবনের পাঁচ, ছয় ও সাত তলায় প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে নিচের তলাগুলোতেও। সব ইউনিট একযোগে কাজ করলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি যে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভেতরে কেউ আটকা পড়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।





















নিরাপত্তা কৌশল যেন সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়: প্রধানমন্ত্রী