ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাফাহ সীমান্ত ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলতে সম্মত ইসরাইল

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 74

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার পর মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলতে দেবে বলে সোমবার জানিয়েছে ইসরাইল।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রাফাহ পুনরায় খোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অংশ। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এই ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে।

সপ্তাহান্তে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সফররত মার্কিন দূতেরা রাফাহ পুনরায় খোলার জন্য ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব নেতারা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা বহর প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজা মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবাহের ওপর অঞ্চলটি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজা ছাড়ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বেদুইনরা

জেরুজালেম থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এএফপি সোমবার জানায়, ‘পূর্ণ ইসরাইলি তল্লাশি ব্যবস্থার আওতায় কেবল পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য’ রাফাহ পুনরায় খোলার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ইসরাইল।

কার্যালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ‘সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিহত সব জিম্মির অবস্থান শনাক্ত ও ফেরত দিতে হামাসের শতভাগ প্রচেষ্টার’ ওপর নির্ভর করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের লক্ষ্যে তারা রোববার গাজা উপত্যকার একটি কবরস্থানে তল্লাশি চালিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, ‘এই অভিযান সম্পন্ন হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যা সম্মত হয়েছে তার আলোকে, ইসরাইল রাফাহ ক্রসিং খুলে দেবে।’

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজার সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক আলি শাআথ বলেছেন, এ সপ্তাহেই ক্রসিংটি ‘উভয় দিকের চলাচলের জন্য’ খুলে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে শাআথ বলেন, ‘গাজায় থাকা ফিলিস্তিনিদের কাছে রাফাহ শুধু একটি ফটক নয়—এটি একটি জীবনরেখা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।’

ইসরাইলি গণমাধ্যমেও খবর এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেরুজালেমে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহুকে রাফাহ পুনরায় খোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হামাসের ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু ওবাইদা রোববার বলেন, ‘জিম্মির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে থাকা সব তথ্য ও বিস্তারিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে দেওয়া হয়েছে’—এখানে তিনি গিভিলির কথাই উল্লেখ করেন।

তিনি যোগ করেন, ‘আল-কাসাম ব্রিগেডস সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষ (ইসরাইল) বর্তমানে একটি স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে।’

গিভিলি ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে নেওয়া ২৫১ জন জিম্মির সবাইকে—জীবিত বা মৃত—এরই মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরাইলি পুলিশের এলিট ইয়াসাম ইউনিটের নন-কমিশন্ড কর্মকর্তা গিভিলি হামলার দিনই নিহত হন এবং তার মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে গাজায় থাকা সব জিম্মিকে হস্তান্তরের কথা ছিল।

গিভিলির পরিবার পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ—যার মধ্যে রাফাহ পুনরায় খোলাও রয়েছে—শুরু করার তীব্র বিরোধিতা করেছে, যতক্ষণ না তারা তার মরদেহ ফিরে পায়।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তার পরিবার জানায়, ‘সবচেয়ে আগে রানকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়।

ইসরাইলি পাল্টা হামলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের আবাস গাজা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়—যে অঞ্চলটি ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত ইসরাইলি অবরোধ এবং আগের দফার সংঘাতের কারণেই তীব্র সংকটে ছিল।

গত নভেম্বরে গাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাফাহ সীমান্ত ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলতে সম্মত ইসরাইল

আপডেট সময় : ০১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় শেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার পর মিসরের সঙ্গে গাজার রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং ‘সীমিতভাবে’ পুনরায় খুলতে দেবে বলে সোমবার জানিয়েছে ইসরাইল।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রাফাহ পুনরায় খোলা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর অংশ। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে এই ক্রসিংটি বন্ধ রয়েছে।

সপ্তাহান্তে জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সফররত মার্কিন দূতেরা রাফাহ পুনরায় খোলার জন্য ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব নেতারা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার গাজায় আরও বেশি মানবিক সহায়তা বহর প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজা মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জাম, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবাহের ওপর অঞ্চলটি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজা ছাড়ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি বেদুইনরা

জেরুজালেম থেকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এএফপি সোমবার জানায়, ‘পূর্ণ ইসরাইলি তল্লাশি ব্যবস্থার আওতায় কেবল পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য’ রাফাহ পুনরায় খোলার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ইসরাইল।

কার্যালয়ের এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ‘সব জীবিত জিম্মিকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিহত সব জিম্মির অবস্থান শনাক্ত ও ফেরত দিতে হামাসের শতভাগ প্রচেষ্টার’ ওপর নির্ভর করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, শেষ জিম্মি রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধারের লক্ষ্যে তারা রোববার গাজা উপত্যকার একটি কবরস্থানে তল্লাশি চালিয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, ‘এই অভিযান সম্পন্ন হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যা সম্মত হয়েছে তার আলোকে, ইসরাইল রাফাহ ক্রসিং খুলে দেবে।’

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন গাজার সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক আলি শাআথ বলেছেন, এ সপ্তাহেই ক্রসিংটি ‘উভয় দিকের চলাচলের জন্য’ খুলে দেওয়া হবে।

গত বৃহস্পতিবার দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে শাআথ বলেন, ‘গাজায় থাকা ফিলিস্তিনিদের কাছে রাফাহ শুধু একটি ফটক নয়—এটি একটি জীবনরেখা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।’

ইসরাইলি গণমাধ্যমেও খবর এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার জেরুজালেমে বৈঠকের সময় নেতানিয়াহুকে রাফাহ পুনরায় খোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

হামাসের ইজ্জেদিন আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু ওবাইদা রোববার বলেন, ‘জিম্মির মরদেহের অবস্থান সম্পর্কে আমাদের কাছে থাকা সব তথ্য ও বিস্তারিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে দেওয়া হয়েছে’—এখানে তিনি গিভিলির কথাই উল্লেখ করেন।

তিনি যোগ করেন, ‘আল-কাসাম ব্রিগেডস সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষ (ইসরাইল) বর্তমানে একটি স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে।’

গিভিলি ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে নেওয়া ২৫১ জন জিম্মির সবাইকে—জীবিত বা মৃত—এরই মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইসরাইলি পুলিশের এলিট ইয়াসাম ইউনিটের নন-কমিশন্ড কর্মকর্তা গিভিলি হামলার দিনই নিহত হন এবং তার মরদেহ গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে গাজায় থাকা সব জিম্মিকে হস্তান্তরের কথা ছিল।

গিভিলির পরিবার পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ—যার মধ্যে রাফাহ পুনরায় খোলাও রয়েছে—শুরু করার তীব্র বিরোধিতা করেছে, যতক্ষণ না তারা তার মরদেহ ফিরে পায়।

রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে তার পরিবার জানায়, ‘সবচেয়ে আগে রানকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে হবে।’

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১ হাজার ২২১ জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে গাজা যুদ্ধের সূচনা হয়।

ইসরাইলি পাল্টা হামলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের আবাস গাজা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে যায়—যে অঞ্চলটি ২০০৭ সাল থেকে আরোপিত ইসরাইলি অবরোধ এবং আগের দফার সংঘাতের কারণেই তীব্র সংকটে ছিল।

গত নভেম্বরে গাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, সেখানে নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।