কৃষিকে ভালো রাখলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 86
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজে জড়িত। তাই কৃষিকে ভালো রাখলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। আজ (বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকার কৃষিলোন মওকুফ করা হবে। কৃষককে সহযোগিতা করতে তাদের কৃষিকার্ড দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে রাজশাহীর বরেন্দ্র প্রকল্পগুলোকে চালু করবে। সেই সঙ্গে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে।’
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ক সচল করবো, ট্রেনিং দিয়ে মা-বোনদের দক্ষকর্মী হিসেবে গড়ে তুলবো। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মায়ের হাতে আমরা ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করবো। রাজশাহীতে আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে চাই, যেন বৈদেশিক মুদ্রা দেশে থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, আমরা ঝগড়া বিবাদে যেতে চাই না, কোনো সমালোচনা করলে পেট ভরবে না, আমি কারো সমালোচনায় যেতে চাই না, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকারকে সঠিক তদন্ত করতে হবে। আমরা সহযোগিতা করবো।’
জনসভায় সবার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা হিন্দু-মুসলিম সকলকে নিয়ে থাকতে চাই। আজ গণতন্ত্রকে রক্ষা করার সময়।’
তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার কথা, আমরা দেশে শান্তি চাই। ১২ তারিখ সুষ্ঠু নির্বাচনে, ধানের শীষ বিজয়ী হলে, ১৩ তারিখ থেকেই শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা।
একই সাথে ভোটারদের নির্বাচন বানচালের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘ অনেক বছর ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু অধিকার ফিরে পাওয়ার আশা হারায়নি শেষ পর্যন্ত। স্বৈরাচার পতিত হলেও নির্বাচনকে আবারও নস্যাৎ করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সাথে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিতে হবে সেইসব মানুষকে, যাদের জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা আছে।
বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের পথেই হাঁটতে চায় তার দল। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিও আহ্বান জানান, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে যেন তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হয়।
কর্মসংস্থান বাড়াতে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পাশাপাশি আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং রাজশাহীর আইটি পার্ক চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি—যাতে দেশের ভেতরে ও বাইরে কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
বরেন্দ্র অঞ্চলের কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমানের কণ্ঠে শোনা যায় আক্ষেপ, জানান ক্ষমতায় গেলে আবারও এই প্রকল্প চালু করা হবে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি। জানান পদ্মা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রের পানির সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করবে বিএনপি।
এর আগে জাতীয় পাতাকা ও বিএনপি’র দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে কোরআন তিলাওয়াত করেন ওয়ালিউল হক রানা।
তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
রাজশাহীর সমাবেশ শেষ করে সড়ক পথে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পথে বিকেলে নওগাঁর এটিএম মাঠে আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
এই সভায় নওগাঁ ছাড়াও জয়পুরহাট জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
এরপর সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনি এলাকা বগুড়া শহরের আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠের সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। রাতে বগুড়ায় অবস্থান শেষে শুক্রবার রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তিনি।
পরে রংপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় যোগ দেবেন।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতেও বগুড়ায় অবস্থান করবেন তারেক রহমান।
শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর শনিবার রাতেই তার ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

























আরএফএল গ্রুপে ১০০ জনের চাকরির সুযোগ