ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 62

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। তবে আলু আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছ–মাংসের দামে চড়া ভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস ও মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি হালি লেবু মিলত ৪০-৬০ টাকায়। কিন্তু রমজানের প্রথম দিনেই পণ্যটি যেন মধ্যবিত্তকে চোখ রাঙাচ্ছে। আকারভেদে তিনগুণ বেড়ে ১০০-১২০ ঠেকেছে লেবুর হালি। বেগুনের দামও অনেকটা নাগালের বাইরে। কেজিপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ-শসার দামও কম নয়।

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ খেজুরের। বাজারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোক্তারা বলছেন প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

তালতলা বাজারে নিয়মিত বাজার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শওকত হোসেন শাওন। তিনি বলেন, রমজান এলেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দু’দিন আগেও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বিক্রি হলেও আজ সেটা ১৬০ টাকা কেজি আর হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, এটা এই সময়ে মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, বড় সাইজের ফুল কপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধা কপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশায় ঈদ বাজারে ফিরছে আশার আলো

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১৬০ টাকা ও খিরাই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতে লেবুর দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। এক হালি লেবু ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ১০০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস। তবে ক্যাপসিকামের দাম কমে ১২০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাকের ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নতুন আলু ২০ টাকা, পুরোনো দেশি পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ও পেঁয়াজ কলি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১০০ টাকা, অ্যাংকরের বেসন ১০০ টাকা এবং বুটের ডালের বেসন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে ১০ টাকা কমে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আজকের দিনে বাজারে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া গেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা পর্যন্ত দরে, যা গত সপ্তাহেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে ইফতার ও বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকায়, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, “রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহেও যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রাশিদা খাতুন বলেন, “রোজার মুরগির মাংসটা একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।”

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ার পেছনে মৌসুমি চাহিদাকেই দায়ী করছেন। রামপুরা বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, “শীতের শেষ সময়, সামনে রোজা-বিয়ে, দাওয়াত, ইফতার মাহফিল— সব মিলিয়ে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি। খামার থেকেও দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, “নদীর দেশি মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহন খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে।”

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার শুরুতেই চাহিদা বাড়ায় মাছ–মাংসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সামনে পুরো মাসজুড়ে এ ধারা থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ক্রেতারা। তাদের আশঙ্কা, যদি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে রোজার মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজানের দ্বিতীয় দিন রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেগুন, শসা, লেবু, কাঁচামরিচ, ছোলা, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, খেজুর, ডাল ও বেসনসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম চড়া। তবে আলু আগের দামেই বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছ–মাংসের দামে চড়া ভাব দেখা গেছে। বিশেষ করে সোনালি মুরগি, গরুর মাংস ও মাঝারি মানের বেশ কয়েকটি মাছের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সপ্তাহখানেক আগেও প্রতি হালি লেবু মিলত ৪০-৬০ টাকায়। কিন্তু রমজানের প্রথম দিনেই পণ্যটি যেন মধ্যবিত্তকে চোখ রাঙাচ্ছে। আকারভেদে তিনগুণ বেড়ে ১০০-১২০ ঠেকেছে লেবুর হালি। বেগুনের দামও অনেকটা নাগালের বাইরে। কেজিপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৬০ টাকায়। কাঁচামরিচ-শসার দামও কম নয়।

রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ খেজুরের। বাজারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোক্তারা বলছেন প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়, এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।

রাজধানীর একাধিক বাজার ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে বাজারের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

তালতলা বাজারে নিয়মিত বাজার করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শওকত হোসেন শাওন। তিনি বলেন, রমজান এলেই বাজারে সবকিছুর দাম বেড়ে যায়, এবারও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দু’দিন আগেও দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে বিক্রি হলেও আজ সেটা ১৬০ টাকা কেজি আর হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, এটা এই সময়ে মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এসব বাজারে শীতকালীন সবজি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শালগম ৭০ টাকা, বড় সাইজের ফুল কপি প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধা কপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশায় ঈদ বাজারে ফিরছে আশার আলো

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজি বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা কেজিতে ৮০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ঢেঁড়স ১৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া বাজারে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৬০ টাকা বেড়ে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১৬০ টাকা ও খিরাই ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে বাজারগুলোতে লেবুর দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। এক হালি লেবু ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ৬০ থেকে ১০০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস। তবে ক্যাপসিকামের দাম কমে ১২০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে লাল শাকের আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাকের ২ আঁটি ৩০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে নতুন আলু ২০ টাকা, পুরোনো দেশি পেঁয়াজের কেজি ১২০ টাকা, ইন্ডিয়ান পেঁয়াজ ৮০ টাকা, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা ও পেঁয়াজ কলি ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২৪০ টাকা, রসুন দেশি ১০০ টাকা এবং ইন্ডিয়ান ১৭০-১৮০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৬০ টাকা এবং খেসারির ডাল ১০০ টাকা, অ্যাংকরের বেসন ১০০ টাকা এবং বুটের ডালের বেসন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে ১০ টাকা কমে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

আজকের দিনে বাজারে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া গেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা পর্যন্ত দরে, যা গত সপ্তাহেও ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, রমজানে ইফতার ও বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনে চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়েছে।

গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজিতে, যা রোজার আগে ছিল ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে; প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। এসব বাজারে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১০০০ টাকা, এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৭০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকায়, বাতাসি টেংরা ১৩০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহবুব আলম বলেন, “রোজা শুরু হতেই বাজার যেন আরেক ধাপ ওপরে উঠে গেছে। গত সপ্তাহেও যে রুই মাছ ৩৬০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটাই ৪০০ টাকার ওপরে। মুরগির দামও বেড়েছে। সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী রাশিদা খাতুন বলেন, “রোজার মুরগির মাংসটা একটু বেশি লাগে। কিন্তু বাজারে এসে দেখি সবকিছুর দাম বাড়তি। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে গেছে। ডিম কিছুটা স্বস্তি দিলেও অন্য জিনিসে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আয় তো বাড়ছে না, কিন্তু খরচ প্রতি সপ্তাহে বাড়ছে।”

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ার পেছনে মৌসুমি চাহিদাকেই দায়ী করছেন। রামপুরা বাজারের এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, “শীতের শেষ সময়, সামনে রোজা-বিয়ে, দাওয়াত, ইফতার মাহফিল— সব মিলিয়ে সোনালি মুরগির চাহিদা বেশি। খামার থেকেও দাম কিছুটা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই আমাদেরও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

মাছ ব্যবসায়ী আবদুল হালিম বলেন, “নদীর দেশি মাছ এখন কম। বেশির ভাগই চাষের মাছ। পরিবহন খরচ, বরফের দাম, সব মিলিয়ে পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। আমরা খুব বেশি লাভ রাখছি না, কিন্তু পাইকারি দামের কারণে খুচরায় একটু বাড়তি পড়ছে।”

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোজার শুরুতেই চাহিদা বাড়ায় মাছ–মাংসের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সামনে পুরো মাসজুড়ে এ ধারা থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ক্রেতারা। তাদের আশঙ্কা, যদি সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকে, তাহলে রোজার মাঝামাঝি সময়ে দাম আরও বাড়তে পারে।