ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 34

বাংলাদেশি বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। নাহিদা-রাবেয়াদের ঘূর্ণিতে দেড়শ রানও করতে পারেনি তারা। বোলারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন টাইগ্রেস ব্যাটাররা। বিশেষ করে রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। তরুণ এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

কলম্বোতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ ওভার ৩ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন রামিন শামিম। জবাবে ৩১ ওভার এক বলে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

২০২২ সালের উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া প্রথম জয়টির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে পরের বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুর্দান্ত বোলিং, চমৎকার ফিল্ডিং এবং অভিষিক্ত রুবাইয়ার হোসেনের ফিফটিতে সহজ জয় তুলে নিয়ে টাইগ্রেসরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলো।

কলম্বোর সবুজ ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮.৩ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৩১.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ ওয়াসিম

ম্যাচের প্রথম ওভারেই পেসার মারুফা আক্তার তার চমৎকার সুইংয়ে পরপর দুটি ডেলিভারিতে ওমাইমা সোহেল ও বিধ্বংসী ফর্মে থাকা সিদরা আমিনকে (গোল্ডেন ডাক) বোল্ড করে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন। এরপর স্পিনাররা পাকিস্তানকে চেপে ধরেন।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩.৩ ওভারে ৩টি মেইডেন সহ মাত্র ৫ রান খরচায় পাকিস্তানের শেষ ৩ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মারুফা ও বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২টি করে উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নেওয়া ৬ জন বোলারই উইকেট পান। পাকিস্তানের হয়ে ত্রিশের কোটা ছুঁতে পারেননি কেউই; রামিন শামিম ২৩ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন।

১৩১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন বাঁহাতি ওপেনার রুবাইয়া হায়দার। তিনি ৭৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর মাধ্যমে রুবাইয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে ফিফটি করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে ২০১১ সালে একই ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন দুই ওপেনার আয়েশা রহমান ও শারমিন আক্তার।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে বাংলাদেশ সব দিক থেকেই এক উজ্জীবিত পারফরম্যান্স উপহার দিল, যা বিশ্বকাপের শুরুতেই দলের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বাড়িয়ে দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশি বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। নাহিদা-রাবেয়াদের ঘূর্ণিতে দেড়শ রানও করতে পারেনি তারা। বোলারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন টাইগ্রেস ব্যাটাররা। বিশেষ করে রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। তরুণ এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিফটিতে ১১৩ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

কলম্বোতে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩৮ ওভার ৩ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান করে পাকিস্তান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেছেন রামিন শামিম। জবাবে ৩১ ওভার এক বলে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

২০২২ সালের উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া প্রথম জয়টির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে পরের বিশ্বকাপেও পাকিস্তানকে হারিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। দুর্দান্ত বোলিং, চমৎকার ফিল্ডিং এবং অভিষিক্ত রুবাইয়ার হোসেনের ফিফটিতে সহজ জয় তুলে নিয়ে টাইগ্রেসরা তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলো।

কলম্বোর সবুজ ঘাসের ছোঁয়া থাকা উইকেটে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮.৩ ওভারে মাত্র ১২৯ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ৩১.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নেতৃত্ব দেবেন মোহাম্মদ ওয়াসিম

ম্যাচের প্রথম ওভারেই পেসার মারুফা আক্তার তার চমৎকার সুইংয়ে পরপর দুটি ডেলিভারিতে ওমাইমা সোহেল ও বিধ্বংসী ফর্মে থাকা সিদরা আমিনকে (গোল্ডেন ডাক) বোল্ড করে ম্যাচের সুর বেঁধে দেন। এরপর স্পিনাররা পাকিস্তানকে চেপে ধরেন।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার, যিনি ৩.৩ ওভারে ৩টি মেইডেন সহ মাত্র ৫ রান খরচায় পাকিস্তানের শেষ ৩ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মারুফা ও বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার নেন ২টি করে উইকেট। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে নেওয়া ৬ জন বোলারই উইকেট পান। পাকিস্তানের হয়ে ত্রিশের কোটা ছুঁতে পারেননি কেউই; রামিন শামিম ২৩ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন।

১৩১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন বাঁহাতি ওপেনার রুবাইয়া হায়দার। তিনি ৭৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

এর মাধ্যমে রুবাইয়া বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে ফিফটি করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এর আগে ২০১১ সালে একই ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন দুই ওপেনার আয়েশা রহমান ও শারমিন আক্তার।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে বাংলাদেশ সব দিক থেকেই এক উজ্জীবিত পারফরম্যান্স উপহার দিল, যা বিশ্বকাপের শুরুতেই দলের আত্মবিশ্বাসকে অনেক বাড়িয়ে দেবে।