ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে ?

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
  • / 56

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পছন্দমতো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে গিয়ে সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রকে বেছে নেওয়া হতো। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিতেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছে ছাড়া কিছুই হতো না। ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌছেছে যে, আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যদিও বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সিনিয়র দুজনের মধ্য থেকে যে কাউকে নিয়োগের জন্য সংবিধানে সংশোধনী আনবে। জুলাই সনদে সেভাবেই উল্লেখ রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা বহুল আলোচিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন। যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর: নতুন করে মতবিরোধে জামায়াত-এনসিপি

অপরদিকে, জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলেও জাতীয় সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, শেষ মুহূর্তে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম ধারায় সংশোধন করা হয়েছে। পঞ্চম ধারায় আগে বলা ছিল, “গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।”

সংশোধিত দফায় বলা হচ্ছে, “গণ-অভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।”

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই সনদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা কার হাতে ?

আপডেট সময় : ০১:০৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পছন্দমতো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে গিয়ে সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়রকে বেছে নেওয়া হতো। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিতেন রাষ্ট্রপতি। বাস্তবে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছে ছাড়া কিছুই হতো না। ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌছেছে যে, আপিল বিভাগের সবচেয়ে সিনিয়র বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।

যদিও বিএনপি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে বলেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সিনিয়র দুজনের মধ্য থেকে যে কাউকে নিয়োগের জন্য সংবিধানে সংশোধনী আনবে। জুলাই সনদে সেভাবেই উল্লেখ রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা বহুল আলোচিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন। যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

জুলাই সনদ স্বাক্ষর: নতুন করে মতবিরোধে জামায়াত-এনসিপি

অপরদিকে, জুলাই সনদ অনুযায়ী বাংলাদেশে একজন ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এজন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলেও জাতীয় সনদে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, শেষ মুহূর্তে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম ধারায় সংশোধন করা হয়েছে। পঞ্চম ধারায় আগে বলা ছিল, “গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।”

সংশোধিত দফায় বলা হচ্ছে, “গণ-অভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।”