ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবারও বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / 55

আবারও চড়া পেঁয়াজের বাজার। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ, সেই সঙ্গে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসার মাঝে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ টাকা। উৎসবের এ মৌসুমের মাঝে দাম সহসা কমার কোনো আভাস দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। গতকাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ আজ (৫ নভেম্বর) ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত দু’টি কারণে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দামে এমন উল্লম্ফন হচ্ছে। একটি হলো- ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং অন্যটি রবি মৌসুমের পেঁয়াজ আসতে দেরি হয়া।

মুগদা বাজারের মোল্লা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজমল বলেন, ‘গত শুক্রবারও ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। দুদিন আগেও ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ তুলনামূলক কিছুটা ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা এবং বড় সাইজের বাছাইকৃত পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এক পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন তো বাহিরের পেঁয়াজ নেই। চাহিদা পূরণে শুধু দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।’ আরেক পাইকার বলেন, ‘পেঁয়াজের সিজন শেষ। সরবরাহ কমে গেছে। আবার নতুন পেঁয়াজ আসবে, তখন কমার সম্ভাবন আছে।’

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৫ জন নিহত

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে আজ মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।

আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া, রবি মৌসুমের পেঁয়াজ এখনও বাজারে তেমন না আসায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি চালু না হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বাজারে বর্তমানে ঘুরে ফিরে চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ লাখের ঘরে। চাহিদার বেশ বড় অংশ হয় আমদানি। টিসিবির হিসেব বলছে, গেল ১ মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকার পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৭-৯৮ টাকা কেজিতে। খুচরায় যা ১১০-১১৫ টাকা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দেশে এখন আর পেঁয়াজের তেমন মজুত নেই। যার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। ভারতে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ টাকা কেজিতে। তাই দেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত আমদানির বিকল্প নেই।’

এ দিকে, পেঁয়াজ চাষীরা বলছেন, এ বছর বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ রোপণ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর ফলে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতেও কিছুটা দেরি হচ্ছে। অন্যান্য বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। এ বছর অনেক জেলায় এখনো পেঁয়াজ জমি থেকে উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ‘দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এখন দাম বাড়বে।’ দাম আরও বাড়বে কিনা, সে প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে। তাই, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এখন কিছু পেঁয়াজ যদি আমদানি করা যায়। এতে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্ত পর্যায়ে দাম সহনীয় হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারও বাজারে বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

আবারও চড়া পেঁয়াজের বাজার। ভারত থেকে আমদানি বন্ধ, সেই সঙ্গে দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে না আসার মাঝে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ টাকা। উৎসবের এ মৌসুমের মাঝে দাম সহসা কমার কোনো আভাস দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। গতকাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ আজ (৫ নভেম্বর) ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানত দু’টি কারণে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দামে এমন উল্লম্ফন হচ্ছে। একটি হলো- ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকা এবং অন্যটি রবি মৌসুমের পেঁয়াজ আসতে দেরি হয়া।

মুগদা বাজারের মোল্লা জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজমল বলেন, ‘গত শুক্রবারও ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। দুদিন আগেও ৯০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজ তুলনামূলক কিছুটা ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা এবং বড় সাইজের বাছাইকৃত পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এক পাইকারী ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখন তো বাহিরের পেঁয়াজ নেই। চাহিদা পূরণে শুধু দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।’ আরেক পাইকার বলেন, ‘পেঁয়াজের সিজন শেষ। সরবরাহ কমে গেছে। আবার নতুন পেঁয়াজ আসবে, তখন কমার সম্ভাবন আছে।’

কক্সবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৫ জন নিহত

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখানে আজ মানভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে, যা গত শুক্র-শনিবারও বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায়।

আড়তদাররা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া, রবি মৌসুমের পেঁয়াজ এখনও বাজারে তেমন না আসায় সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি চালু না হলে বাজারে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বাজারে বর্তমানে ঘুরে ফিরে চাহিদা ৩০ থেকে ৩৫ লাখের ঘরে। চাহিদার বেশ বড় অংশ হয় আমদানি। টিসিবির হিসেব বলছে, গেল ১ মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকার পর্যায়ে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯৭-৯৮ টাকা কেজিতে। খুচরায় যা ১১০-১১৫ টাকা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ও শ্যামবাজার পেঁয়াজ আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট চলছে। দেশে এখন আর পেঁয়াজের তেমন মজুত নেই। যার কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। ভারতে এখন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৫ টাকা কেজিতে। তাই দেশে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত আমদানির বিকল্প নেই।’

এ দিকে, পেঁয়াজ চাষীরা বলছেন, এ বছর বিভিন্ন জেলায় পেঁয়াজ রোপণ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর ফলে রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতেও কিছুটা দেরি হচ্ছে। অন্যান্য বছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকেই রবি মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করে। এ বছর অনেক জেলায় এখনো পেঁয়াজ জমি থেকে উত্তোলন সম্ভব হয়নি।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, ‘দাম কমার সম্ভাবনা নেই। এখন দাম বাড়বে।’ দাম আরও বাড়বে কিনা, সে প্রশ্ন এখন ঘুরে ফিরে। তাই, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এখন কিছু পেঁয়াজ যদি আমদানি করা যায়। এতে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্ত পর্যায়ে দাম সহনীয় হবে।