ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ওয়েব সাইড আপগ্রেট করার কারণে ৫ সেপ্টেম্বর থেকে সংবাদ সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

বন্ডি সৈকতের বীর আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 131
159

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার বন্ডি সৈকতে গোলাগুলির ঘটনায় বীরত্ব দেখানো আহমেদ আল আহমেদকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন।

বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা ঠেকাতে তার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সিডনি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

গত রোববার ইহুদি উৎসব হানুক্কার শুরুর দিন বন্ডি সৈকতে এক বাবা ও ছেলের গুলিতে ১৫ জন নিহত হন।

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গোলাগুলি চলার সময় ফল বিক্রেতা আহমেদ আল আহমেদ পার্ক করা গাড়ির ফাঁক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান এবং এক হামলাকারীর হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেয়।

গুরুতর আহত আহমেদকে শয্যাপাশে দেখার পর প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘তিনি এক কাপ কফি কিনতে গিয়ে দেখেন তার চোখের সামনে লোকজনকে গুলি করা হচ্ছে।’

আলবানিজ আরও বলেন, ‘তিনি তখন ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যান এবং তার এই বীরত্ব সমস্ত অস্ট্রেলীয়দের জন্য এক অনুপ্রেরণা।’

এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় আহমেদের কাঁধে একাধিক গুলি লাগে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বুধবার আহমেদের ‘আরও অস্ত্রোপচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘অশুভের মুখোমুখি হয়েও তিনি মানবতার শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আমরা এক সাহসী জাতি। আহমেদ আল আহমেদ আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিচ্ছবি।’

অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নাকে নল লাগানো অবস্থায় আহমেদ মঙ্গলবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে আরবি ভাষায় সংক্ষেপে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানান।

তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর অনুবাদ অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের পুরস্কৃত করুন ও সুস্থতা দান করুন। আনন্দ নিয়ে আবার আপনাদের কাছে ফিরব।’

সিরিয়া থেকে প্রায় এক দশক আগে দুই সন্তানের জনক আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। আহমেদের মা অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)-কে বলেন, ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছিল। যখন হামলাকারীর গুলি শেষ হয়ে যায়, তখন আহমেদ অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু সে নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা আল্লাহর কাছে তার জীবন রক্ষার প্রার্থনা করছি।’

আহমেদের প্রতি বিশ্বজুড়ে সহানুভূতির বার্তা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার অবিশ্বাস্য সাহসের প্রশংসা করেছেন।

আহমেদের চিকিৎসার খরচের জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহে ইতোমধ্যেই ১৯ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি (১২ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদান জমা পড়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্ডি সৈকতের বীর আহমেদকে দেখতে হাসপাতালে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৫২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
159

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ মঙ্গলবার বন্ডি সৈকতে গোলাগুলির ঘটনায় বীরত্ব দেখানো আহমেদ আল আহমেদকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন।

বিগত কয়েক দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলা ঠেকাতে তার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। সিডনি থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

গত রোববার ইহুদি উৎসব হানুক্কার শুরুর দিন বন্ডি সৈকতে এক বাবা ও ছেলের গুলিতে ১৫ জন নিহত হন।

এক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গোলাগুলি চলার সময় ফল বিক্রেতা আহমেদ আল আহমেদ পার্ক করা গাড়ির ফাঁক দিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান এবং এক হামলাকারীর হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নেয়।

গুরুতর আহত আহমেদকে শয্যাপাশে দেখার পর প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ বলেন, ‘তিনি এক কাপ কফি কিনতে গিয়ে দেখেন তার চোখের সামনে লোকজনকে গুলি করা হচ্ছে।’

আলবানিজ আরও বলেন, ‘তিনি তখন ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যান এবং তার এই বীরত্ব সমস্ত অস্ট্রেলীয়দের জন্য এক অনুপ্রেরণা।’

এক বন্দুকধারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় আহমেদের কাঁধে একাধিক গুলি লাগে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বুধবার আহমেদের ‘আরও অস্ত্রোপচার হবে।’

তিনি বলেন, ‘অশুভের মুখোমুখি হয়েও তিনি মানবতার শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আমরা এক সাহসী জাতি। আহমেদ আল আহমেদ আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিচ্ছবি।’

অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে নাকে নল লাগানো অবস্থায় আহমেদ মঙ্গলবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওতে আরবি ভাষায় সংক্ষেপে শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধন্যবাদ জানান।

তুর্কি গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর অনুবাদ অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। আল্লাহ আপনাদের পুরস্কৃত করুন ও সুস্থতা দান করুন। আনন্দ নিয়ে আবার আপনাদের কাছে ফিরব।’

সিরিয়া থেকে প্রায় এক দশক আগে দুই সন্তানের জনক আহমেদ অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। আহমেদের মা অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি)-কে বলেন, ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ মারা যাচ্ছিল। যখন হামলাকারীর গুলি শেষ হয়ে যায়, তখন আহমেদ অস্ত্রটি ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু সে নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়। আমরা আল্লাহর কাছে তার জীবন রক্ষার প্রার্থনা করছি।’

আহমেদের প্রতি বিশ্বজুড়ে সহানুভূতির বার্তা এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার অবিশ্বাস্য সাহসের প্রশংসা করেছেন।

আহমেদের চিকিৎসার খরচের জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহে ইতোমধ্যেই ১৯ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলারেরও বেশি (১২ লাখ মার্কিন ডলার) অনুদান জমা পড়েছে।