ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ডের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 86
105

ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ডের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি ময়মনসিংহের জনসভায় এমনই স্বপ্ন দেখালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার ক্যানভাসে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। শিক্ষার সংস্কার থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী—আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে।

সূর্য তখন একদম মাথার উপর, প্রকৃতির নিয়ম মেনে তাপ ছড়ানোর কথা আগুনের। অথচ ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে মানুষের ঢল যেন সেই উত্তাপকেও হার মানালো। খবর ছিল, নেতা আসবেন দুপুরে। কিন্তু সেই সময়ের অপেক্ষা তুচ্ছ করে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ যেন পরিণত হলো এক জনসমুদ্রে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর, এই ময়মনসিংহে এক ভিন্ন আমেজ, এক প্রবল গর্জন। যেখানে হাজারো লেন্স আর লাখো চোখের আলোকবৃত্তের কেন্দ্রে—একজন মানুষ।

দুপুর গড়িয়ে ঘড়ির কাটায় যখন বেলা আড়াইটা, তখন মঞ্চে দৃশ্যমান হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর গগনবিদারী স্লোগানে নিমিষেই যেন কেটে গেল দুপুরের তপ্ত রোদের প্রখরতা।

সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি শোনালেন রাষ্ট্র মেরামতের গল্প। বিএনপির ৩১ দফার ক্যানভাসে তুলে ধরলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি অর্থনীতির আমূল সংস্কারের স্বপ্ন। আশ্বাস দিলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আর ‘কৃষি কার্ড’-এর জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে দেবেন প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি।

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

উন্নয়নের রূপরেখা আঁকার পাশাপাশি সুশাসনের প্রশ্নে তিনি দিলেন আপোষহীন উত্তর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বার্তা দিলেন—অপরাধী যেই হোক, আইনের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। দলীয় পরিচয়ের তকমা কাউকে বাঁচাতে পারবে না।

ময়মনসিংহের এই নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের তিনি ভাসালেন এক ভিন্ন আবেগে। রাজনীতির মাঠে দিলেন আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। আহ্বান জানালেন, ভোটের দিনটি যেন শুরু হয় তাহাজ্জুদের নামাজ দিয়ে, আর শেষ হয় ফলাফল নিশ্চিত করার নির্ঘুম পাহারায়।

সমাবেশে তিনি কথা বলেছেন এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে। প্রতিশ্রুতি দেন ক্ষমতায় গেলে বেকারত্ব দুর করা, নদীভাঙনসহ অন্যান্য সমস্যা দূর করতে নেবেন বহুমুখী উদ্যোগ । পাশাপাশি অভিজ্ঞতাশূন্যরা যে বিএনপির পরিকল্পনা দেখে ঈর্ষায় জ্বলছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ—এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।

সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সড়কপথে ময়মনসিংহ পৌঁছান বেলা সাড়ে ৩টায়। মঞ্চে তরেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ জনসভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ডের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি’

আপডেট সময় : ১১:৪১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
105

ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ডের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাবে প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি ময়মনসিংহের জনসভায় এমনই স্বপ্ন দেখালেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার ক্যানভাসে কোনো দুর্নীতিবাজের ঠাঁই নেই। শিক্ষার সংস্কার থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী—আগামীর বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে।

সূর্য তখন একদম মাথার উপর, প্রকৃতির নিয়ম মেনে তাপ ছড়ানোর কথা আগুনের। অথচ ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে মানুষের ঢল যেন সেই উত্তাপকেও হার মানালো। খবর ছিল, নেতা আসবেন দুপুরে। কিন্তু সেই সময়ের অপেক্ষা তুচ্ছ করে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ যেন পরিণত হলো এক জনসমুদ্রে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর, এই ময়মনসিংহে এক ভিন্ন আমেজ, এক প্রবল গর্জন। যেখানে হাজারো লেন্স আর লাখো চোখের আলোকবৃত্তের কেন্দ্রে—একজন মানুষ।

দুপুর গড়িয়ে ঘড়ির কাটায় যখন বেলা আড়াইটা, তখন মঞ্চে দৃশ্যমান হলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর গগনবিদারী স্লোগানে নিমিষেই যেন কেটে গেল দুপুরের তপ্ত রোদের প্রখরতা।

সমাবেশে দাঁড়িয়ে তিনি শোনালেন রাষ্ট্র মেরামতের গল্প। বিএনপির ৩১ দফার ক্যানভাসে তুলে ধরলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি অর্থনীতির আমূল সংস্কারের স্বপ্ন। আশ্বাস দিলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ আর ‘কৃষি কার্ড’-এর জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে দেবেন প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যলিপি।

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

উন্নয়নের রূপরেখা আঁকার পাশাপাশি সুশাসনের প্রশ্নে তিনি দিলেন আপোষহীন উত্তর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বার্তা দিলেন—অপরাধী যেই হোক, আইনের কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। দলীয় পরিচয়ের তকমা কাউকে বাঁচাতে পারবে না।

ময়মনসিংহের এই নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের তিনি ভাসালেন এক ভিন্ন আবেগে। রাজনীতির মাঠে দিলেন আধ্যাত্মিকতার ছোঁয়া। আহ্বান জানালেন, ভোটের দিনটি যেন শুরু হয় তাহাজ্জুদের নামাজ দিয়ে, আর শেষ হয় ফলাফল নিশ্চিত করার নির্ঘুম পাহারায়।

সমাবেশে তিনি কথা বলেছেন এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিয়ে। প্রতিশ্রুতি দেন ক্ষমতায় গেলে বেকারত্ব দুর করা, নদীভাঙনসহ অন্যান্য সমস্যা দূর করতে নেবেন বহুমুখী উদ্যোগ । পাশাপাশি অভিজ্ঞতাশূন্যরা যে বিএনপির পরিকল্পনা দেখে ঈর্ষায় জ্বলছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ—এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সবাইকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসঙ্গে থাকতে হবে।

সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সড়কপথে ময়মনসিংহ পৌঁছান বেলা সাড়ে ৩টায়। মঞ্চে তরেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ জনসভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।