ঢাকা ০৫:০৪ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবিস্মরণীয় মুহূর্তে ব্যর্থ রিয়াল, বেনফিকার বাজিমাত

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 73

পাগলাটে এক রাতের আভাস আগেই ছিল। অনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল আরেকটি মহাকাব্য। এক একটি গোলেই বদলে যাচ্ছিল পুরো দৃশ্যপট। পয়েন্ট থেকে গোল ব্যবধান, সমীকরণ মেলানোর দারুণ এই খেলায় শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জায়ান্ট কোনো দলকে। আবার চমকে দিয়ে শেষ হাসি হাসার অসাধারণ গল্পও লিখেছে ছোটো কোনো দল।

মহানাটকীয় মহারণে ব্যর্থ রিয়াল, বেনফিকার বাজিমাত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথার এই রাতে প্রায় সবটুকু আলোই কেড়ে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ-বেনফিকার ম্যাচটি। একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮ ম্যাচের ১৭টিই যখন শেষ, খেলা চলছিল শুধু রিয়াল-বেনফিকার। পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থেকে নিজেদের সাবেক হোসে মরিনহোর ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে নামে লস ব্লাঙ্কোসরা। অথচ রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ ১৫বারের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের আবিষ্কার করে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে। বিপরীতে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বেনফিকার প্লে অফ খেলার সম্ভাবনা শেষ মুহূর্তের এক অবিস্বরণীয় গোলে বাস্তবে রূপ নেয়।

নিজেদের মাঠে রিয়ালের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের শেষ দিকেও ৩–২ গোলে এগিয়ে জোসে মরিনিওর বেনফিকা। কিন্তু বিদায় ঠেকাতে হলে দলটির দরকার ছিল আরেকটি গোল। অন্যদিকে রিয়ালেরও দরকার ছিল একটি গোল। ম্যাচ ড্র হলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে টপকে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা পাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-কিলিয়ান এমবাপেরা।

ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাবেন সাবিনারা

অনিশ্চয়তার খেলা ফুটবল তো এমনই। যোগ করা সময়ের আট মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোল করে বেনফিকাকে নকআউট পর্বে তুলে দিলেন গোলকিপার আনাতলি ত্রুবিন। ৪–২ গোলে জিতে গোল ব্যবধানে মার্শেইকে বিদায় করে ২৪তম হয়ে নকআউট প্লে–অফে বেনফিকা। আর হেরে রিয়াল নবম হয়ে জায়গা পেল নকআউট প্লে–অফেই।

৬০ বছর পর মুখোমুখি হওয়া বেনফিকা-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ৩০ মিনিটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। মিনিট ছয়েক পরই ব্যবধান ১-১ করেন আন্দ্রেয়াস শেলদ্রোপ। তারপর বিরতির আগের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন গ্রিক ফরোয়ার্ড পাভলিদিস। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ৫৪ মিনিটে শেলদ্রোপের আরেক গোলে আরেক দফা লিড নেয় বেনফিকা। চার মিনিট পর জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ৩-২ করেন এমবাপে। এরপর তো শেষ মুহূর্তের সেই মহানাটকীয়তা।

পয়েন্ট টেবিলে ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা দলগুলো প্লে অফে নিজেদের প্রতিপক্ষ জানতে পারবে আগামীকাল। শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে আরভারো আরবেলোয়ার রিয়াল মাদ্রিদের সামনে আবারও পড়তে পারে মরিনহোর বেনফিকা অথবা নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমট।

সব সমীকরণ মিলিয়ে সেরা আটে বার্সেলোনা
শুধু জয়ই যথেষ্ট হতো না বার্সেলোনার জন্য। বড় ব্যবধানে জয়ের সঙ্গে অন্য দলগুলোর ফলও পাল্টে দিবে কাতালান ক্লাবটির সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার হিসেব-নিকেশ। হান্সি ফ্লিকের বার্সার জন্য রাতটি সৌভাগ্যেরই ছিল। ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোপেনহেগের বিপক্ষে তারা ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে তো জিতেছেই সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সমীকরণ মেলাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অন্য দলগুলোর ফলও।

অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বেশ চাপে পড়ে যায় বার্সা। তবে চলতি মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোকে অভ্যাসে পরিণত করা লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা আরও একবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের জোয়ারে সফরকারীদের একরকম ভাসিয়ে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বার্সা। বার্সার হয়ে গোল পেয়েছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ড।

সেরা আটে সিটি, লিভারপুলের গোল উৎসব
শীর্ষ আটে থেকে লিগ পর্ব শেষ করতে তুর্কি ক্লাব গালাতাসারইয়ের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। ঘরের মাঠ ইতিহাদে তিন পয়েন্ট ঠিকই আদায় করে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর, প্রথমার্ধে ব‍্যবধানও বাড়িয়ে নিল ম‍্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে একটু গা ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আর লড়াইয়ে ফিরতে পারল না গালাতাসারাই। আর্লিং হলান্ড দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর রায়ান চেরকির গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেয় সিটিজেনরা।

নামে-ভারে, শক্তিমত্তায় প্রতিপক্ষ থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা লিভারপুলের বড় জয় ছিল প্রত্যাশিত। কারবাখ এফকের বিপক্ষে হেসেখেলেই জিতেছে অল রেডরা। অ্যানফিল্ডে আজারবাইজানের ক্লাবটির জালে হাফ-ডজন গোল দিয়ে ৬-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। জোড়া গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। একবার করে জালের দেখা পান মোহামেদ সালাহ, ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, হুগো একিটিকে ও ফেদেরিকো চিয়েসা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় উঠল আর্নে স্লটের দল।

প্লে অফের গ্যাঁড়াকলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির জন্য হিসেব ছিল একেবারেই সরল। নিজেদের উঠান পার্ক দে প্রিন্সেসে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পেলেই চলত ফরাসি ক্লাবটির। একই সমীকরণ ছিল ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলেরও। তবে হিসেব মেলাতে পারেনি কোনো দলই। ১-১ গোলে ড্র করে পিএসজি-নিউক্যাসল দুই দলকেই প্লে অফের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।

ঘরের মাঠে শুরুতে উসমান দেম্বেলের পেনাল্টি মিসের একটু পরই এগিয়ে যায় পিএসজি। স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া। প্রতিপক্ষের মাঠে খুব একটা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না নিউক্যাসল। কিন্তু প্রথম সুযোগ পেয়েই লুফে নিতে ভুল করেনি সফরকারীরা। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম প্রচেষ্টায় সমতা টানে তারা, জালে বল পাঠান জো উইলক। বাকি সময়ে জয়সূচক গোল করার সুযোগ এসেছিল দু’দলেরই। তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় মলিন মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় পিএসজি-নিউক্যাসলের।

‘জায়ান্ট কিলার’ বোডো/গ্লিমটের ইতিহাস
এইতো মাত্র আট দিন আগের কথা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের ইতিহাসে কোনো জয়ই ছিল না বোডো/গ্লিমটের। অথচ পরপর দুই ম্যাচে ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে নরওয়ের এই ক্লাবটি কি না এখন ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় প্লে অফ খেলবে!

ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারানোর পর বোডো/গ্লিমট এবার জয় পেয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে দিয়াগো সিমিওনের দল শুরুতে এগিয়েও যায়। ১৫ মিনিটে গোল করে আতলেতিকোকে লিড এনে দেন আলেক্সান্ডার সরলথ। তারপর ফ্রেদরিক সিয়োভোল্ড ও ক্যাসপার হইয়ের গোলেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৩তম স্থান নিশ্চিত করে বোডো/গ্লিমট।

নরওয়ের মাছ ধরার শহর বোডো থেকে আসা এই দলটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেকের গল্প কতটা অনবদ্য সেটা কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়া আবেগ থেকেই স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে বোডো/গ্লিম্ট কোচ কিয়েটিল নুটসেন বলেন, ‘অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো কঠিন, আমি ভীষণ গর্বিত। এর সঙ্গে আমি কোনো কিছুর তুলনা করতে চাই না। আমরা যেটা করি, সেটাই করেছি। সেটার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়াই উচিত। অর্জন নিজেই নিজের পরিচয় বহন করে।’

সরাসরি শেষ ষোলোতে যারা (শীর্ষ ৮)
আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি।

নকআউট প্লে–অফে (৯ থেকে ২৪)
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল, জুভেন্টাস, আতলেতিকো মাদ্রিদ, আতালান্তা, লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগা, গালাতাসারাই, মোনাকো, কারাবাগ, বোডো/গ্লিমট ও বেনফিকা

বিদায় ঘণ্টা (২৫ থেকে ৩৬)
মার্শেই, পাফোস, ইউনিয়ন সেঁ–জিলোয়াস, পিএসভি আইন্দহফেন, বিলবাও, নাপোলি, কোপেনহেগেন, আয়াক্স, ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাতি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অবিস্মরণীয় মুহূর্তে ব্যর্থ রিয়াল, বেনফিকার বাজিমাত

আপডেট সময় : ০১:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

পাগলাটে এক রাতের আভাস আগেই ছিল। অনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল আরেকটি মহাকাব্য। এক একটি গোলেই বদলে যাচ্ছিল পুরো দৃশ্যপট। পয়েন্ট থেকে গোল ব্যবধান, সমীকরণ মেলানোর দারুণ এই খেলায় শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জায়ান্ট কোনো দলকে। আবার চমকে দিয়ে শেষ হাসি হাসার অসাধারণ গল্পও লিখেছে ছোটো কোনো দল।

মহানাটকীয় মহারণে ব্যর্থ রিয়াল, বেনফিকার বাজিমাত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথার এই রাতে প্রায় সবটুকু আলোই কেড়ে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ-বেনফিকার ম্যাচটি। একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮ ম্যাচের ১৭টিই যখন শেষ, খেলা চলছিল শুধু রিয়াল-বেনফিকার। পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থেকে নিজেদের সাবেক হোসে মরিনহোর ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে নামে লস ব্লাঙ্কোসরা। অথচ রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ ১৫বারের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের আবিষ্কার করে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে। বিপরীতে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বেনফিকার প্লে অফ খেলার সম্ভাবনা শেষ মুহূর্তের এক অবিস্বরণীয় গোলে বাস্তবে রূপ নেয়।

নিজেদের মাঠে রিয়ালের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের শেষ দিকেও ৩–২ গোলে এগিয়ে জোসে মরিনিওর বেনফিকা। কিন্তু বিদায় ঠেকাতে হলে দলটির দরকার ছিল আরেকটি গোল। অন্যদিকে রিয়ালেরও দরকার ছিল একটি গোল। ম্যাচ ড্র হলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে টপকে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা পাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-কিলিয়ান এমবাপেরা।

ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাবেন সাবিনারা

অনিশ্চয়তার খেলা ফুটবল তো এমনই। যোগ করা সময়ের আট মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোল করে বেনফিকাকে নকআউট পর্বে তুলে দিলেন গোলকিপার আনাতলি ত্রুবিন। ৪–২ গোলে জিতে গোল ব্যবধানে মার্শেইকে বিদায় করে ২৪তম হয়ে নকআউট প্লে–অফে বেনফিকা। আর হেরে রিয়াল নবম হয়ে জায়গা পেল নকআউট প্লে–অফেই।

৬০ বছর পর মুখোমুখি হওয়া বেনফিকা-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ৩০ মিনিটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। মিনিট ছয়েক পরই ব্যবধান ১-১ করেন আন্দ্রেয়াস শেলদ্রোপ। তারপর বিরতির আগের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন গ্রিক ফরোয়ার্ড পাভলিদিস। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ৫৪ মিনিটে শেলদ্রোপের আরেক গোলে আরেক দফা লিড নেয় বেনফিকা। চার মিনিট পর জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ৩-২ করেন এমবাপে। এরপর তো শেষ মুহূর্তের সেই মহানাটকীয়তা।

পয়েন্ট টেবিলে ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা দলগুলো প্লে অফে নিজেদের প্রতিপক্ষ জানতে পারবে আগামীকাল। শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে আরভারো আরবেলোয়ার রিয়াল মাদ্রিদের সামনে আবারও পড়তে পারে মরিনহোর বেনফিকা অথবা নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমট।

সব সমীকরণ মিলিয়ে সেরা আটে বার্সেলোনা
শুধু জয়ই যথেষ্ট হতো না বার্সেলোনার জন্য। বড় ব্যবধানে জয়ের সঙ্গে অন্য দলগুলোর ফলও পাল্টে দিবে কাতালান ক্লাবটির সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার হিসেব-নিকেশ। হান্সি ফ্লিকের বার্সার জন্য রাতটি সৌভাগ্যেরই ছিল। ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোপেনহেগের বিপক্ষে তারা ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে তো জিতেছেই সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সমীকরণ মেলাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অন্য দলগুলোর ফলও।

অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বেশ চাপে পড়ে যায় বার্সা। তবে চলতি মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোকে অভ্যাসে পরিণত করা লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা আরও একবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের জোয়ারে সফরকারীদের একরকম ভাসিয়ে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বার্সা। বার্সার হয়ে গোল পেয়েছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও মার্কাস র‍্যাশফোর্ড।

সেরা আটে সিটি, লিভারপুলের গোল উৎসব
শীর্ষ আটে থেকে লিগ পর্ব শেষ করতে তুর্কি ক্লাব গালাতাসারইয়ের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। ঘরের মাঠ ইতিহাদে তিন পয়েন্ট ঠিকই আদায় করে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর, প্রথমার্ধে ব‍্যবধানও বাড়িয়ে নিল ম‍্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে একটু গা ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আর লড়াইয়ে ফিরতে পারল না গালাতাসারাই। আর্লিং হলান্ড দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর রায়ান চেরকির গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেয় সিটিজেনরা।

নামে-ভারে, শক্তিমত্তায় প্রতিপক্ষ থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা লিভারপুলের বড় জয় ছিল প্রত্যাশিত। কারবাখ এফকের বিপক্ষে হেসেখেলেই জিতেছে অল রেডরা। অ্যানফিল্ডে আজারবাইজানের ক্লাবটির জালে হাফ-ডজন গোল দিয়ে ৬-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। জোড়া গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। একবার করে জালের দেখা পান মোহামেদ সালাহ, ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, হুগো একিটিকে ও ফেদেরিকো চিয়েসা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় উঠল আর্নে স্লটের দল।

প্লে অফের গ্যাঁড়াকলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির জন্য হিসেব ছিল একেবারেই সরল। নিজেদের উঠান পার্ক দে প্রিন্সেসে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পেলেই চলত ফরাসি ক্লাবটির। একই সমীকরণ ছিল ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলেরও। তবে হিসেব মেলাতে পারেনি কোনো দলই। ১-১ গোলে ড্র করে পিএসজি-নিউক্যাসল দুই দলকেই প্লে অফের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।

ঘরের মাঠে শুরুতে উসমান দেম্বেলের পেনাল্টি মিসের একটু পরই এগিয়ে যায় পিএসজি। স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া। প্রতিপক্ষের মাঠে খুব একটা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না নিউক্যাসল। কিন্তু প্রথম সুযোগ পেয়েই লুফে নিতে ভুল করেনি সফরকারীরা। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম প্রচেষ্টায় সমতা টানে তারা, জালে বল পাঠান জো উইলক। বাকি সময়ে জয়সূচক গোল করার সুযোগ এসেছিল দু’দলেরই। তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় মলিন মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় পিএসজি-নিউক্যাসলের।

‘জায়ান্ট কিলার’ বোডো/গ্লিমটের ইতিহাস
এইতো মাত্র আট দিন আগের কথা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের ইতিহাসে কোনো জয়ই ছিল না বোডো/গ্লিমটের। অথচ পরপর দুই ম্যাচে ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে নরওয়ের এই ক্লাবটি কি না এখন ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় প্লে অফ খেলবে!

ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারানোর পর বোডো/গ্লিমট এবার জয় পেয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে দিয়াগো সিমিওনের দল শুরুতে এগিয়েও যায়। ১৫ মিনিটে গোল করে আতলেতিকোকে লিড এনে দেন আলেক্সান্ডার সরলথ। তারপর ফ্রেদরিক সিয়োভোল্ড ও ক্যাসপার হইয়ের গোলেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৩তম স্থান নিশ্চিত করে বোডো/গ্লিমট।

নরওয়ের মাছ ধরার শহর বোডো থেকে আসা এই দলটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেকের গল্প কতটা অনবদ্য সেটা কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়া আবেগ থেকেই স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে বোডো/গ্লিম্ট কোচ কিয়েটিল নুটসেন বলেন, ‘অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো কঠিন, আমি ভীষণ গর্বিত। এর সঙ্গে আমি কোনো কিছুর তুলনা করতে চাই না। আমরা যেটা করি, সেটাই করেছি। সেটার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়াই উচিত। অর্জন নিজেই নিজের পরিচয় বহন করে।’

সরাসরি শেষ ষোলোতে যারা (শীর্ষ ৮)
আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি।

নকআউট প্লে–অফে (৯ থেকে ২৪)
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল, জুভেন্টাস, আতলেতিকো মাদ্রিদ, আতালান্তা, লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগা, গালাতাসারাই, মোনাকো, কারাবাগ, বোডো/গ্লিমট ও বেনফিকা

বিদায় ঘণ্টা (২৫ থেকে ৩৬)
মার্শেই, পাফোস, ইউনিয়ন সেঁ–জিলোয়াস, পিএসভি আইন্দহফেন, বিলবাও, নাপোলি, কোপেনহেগেন, আয়াক্স, ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাতি।