সাবিনাদের বাফুফের উৎসবমুখর সংবর্ধনা, নেই আর্থিক পুরস্কার
- আপডেট সময় : ১১:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 58
সাবিনা খাতুনদের বরণের জন্য রাজধানীর হাতিরঝিলের এম্পিথিয়েটার মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দল মঞ্চে আসলেন রাত ৯টার একটু পর। একে একে মঞ্চে আসেন সুমাইয়া মাতসুশিমা, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকার, স্বপ্না আক্তার জিলিরা।
দলের ১৩ জন সদস্য এবং কোচিং স্টাফরা মঞ্চে উঠলেও অধিনায়ক সাবিনা তখনও আসেননি মঞ্চে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক সাবির রহমান তখন দর্শকদের অনুরোধ করেন সাবিনাকে ডাকতে। আনুমানিক শ’দুই-তিনেক দর্শক সমস্বরে ডাকলেন সাবিনা, সাবিনা বলে।
এরপরই মূল ফটক দিয়ে ট্রফি হাতে সাবিনা উঠলেন মঞ্চে। তুমুল কড়তালিতে বাংলাদেশ অধিনায়ককে বরণ নিলেন দর্শক। সমর্থক, দেশের মানুষদের এই ভালোবাসার প্রতিদানে সাবিনা দিলেন আরও বেশি কিছু। সাফ ফুটসাল জেতা ট্রফিটাকেই তিনি বাংলাদেশের মানুষদের উৎসর্গ করেছেন।
ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা পাবেন সাবিনারা
মঞ্চ উঠে সাবিনা বলেন, ‘সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আপনাদের জন্যই এই অর্জন, এটা আপনাদের উৎসর্গ করতে চাই। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ফুটসাল টিম ম্যানেজার, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে যারাই ছিলেন সবার জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। দেশের সমর্থকেরা যেভাবে সাপোর্ট করেন তাদের জন্য এই ট্রফি উৎসর্গ করছি।’
থাইল্যান্ডে হওয়া সাফ ফুটসালে ৫ জয় এবং এক ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। দলের ইরানি হেড কোচ সাইদ খোদারাহমি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের ফুটসাল দলের প্রতি এই সমর্থনের জন্য আমি খুশি। আপনারা এখানে আসায় আরও খুশি হয়েছি। বাংলাদেশে ৫ মাস হলো ফুটসালের নতুন যাত্রা শুরু। একটা কাপ জেতা হয়েছে, এভাবে আসতেই থাকবে ইনশাআল্লাহ।’
যদিও নারী দল ফুটসাল ক্যাম্প শুরু করে কেবল টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাস আগে। ফুটসাল চেয়ারম্যান ও টিম ম্যনেজার ইমরানুর রহমান বলেন, ‘প্রথমত আল্লাহর কাছে কোটি শুকরিয়া যে এমন সমর্থন পাচ্ছি। আসলে ফুটসাল শুরু হয়েছে ৫ মাস, কিন্তু মেয়েদের ফুটসাল কিন্তু এক মাস। আর তাঁরা এই সময়ের মধ্যে একটা ট্রফি এনেছে। ১৪ জন বাঘিনী কন্যার জন্য বড় একটা করতালি দিবেন। সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের।’
মেয়দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম, নির্বাহী সদস্য মঞ্জুরুল করিম, সত্যজিৎ দাস রুপু, সাইদ হাসান কানন, ইকবাল হোসেন, কামরুল হাসান হিল্টন ও ইমতিয়াজ হামিদ সবুজরা।
নারী দলের এই সাফল্যের পেছনে সমর্থক, স্পন্সর কোম্পানীর সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এছাড়া সাবিনার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘অভিনন্দন বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল। অধিনায়ক সাবিনাকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন। কারণ সাবিনা বাংলাদেশে একমাত্র ত্রীড়াবিদ, যে কি না দুইটা ভিন্ন খেলায় তিনবার দেশকে সাফ জিতিয়েছেন। তাঁর নাম বাংলাদেশে যুগের যুগ মনে রাখবে। জানি না তাঁর এই রেকর্ড কেউ ভাঙতে পারবে কি না।’ এর আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক হয়ে সাবিনা সাফ জিতেছেন ২০২২ এবং ২০২৪ সালে। যদিও নারী দলের হেড কোচ পিটার বাটলার তাঁর দলে ডাকেন না পরিক্ষিত এই সেনানিকে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ব্যাংকের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকে ঢাকা ব্যাংক এই চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের পাশে ছিল, সামনেও থাকবে। ঢাকা ব্যাংক তাদের নিয়ে গর্বিত।’
এর আগে চ্যাম্পিয়ন দল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। যেখানে তাদের জন্য আগে থেকেই রাখা ছিল ছাদখোলা বাস। সেই বাসে করে চ্যাম্পিয়ন দল আসে হাতিরঝিল।
প্রায় এক ঘন্টার উৎসবমুখর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করলেও চ্যাম্পিয়ন মেয়েদের কোনো আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা আসেনি বাফুফের পক্ষ থেকে। সরকারের পক্ষ থেকেও ছিল না তেমন কিছু। যদিও গত নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে এএফসি বাছাই ম্যাচ জেতায় হামজা-জামালদের কোটি টাকা দেওয়া হয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে।
এছাড়া দুই বছর পার হয়ে গেলেও ২০২৪ সালের সাফ জেতা দলকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেড় কোটি টাকা এখনো দেয়নি বাফুফে। আজকেও সে বিষয়ে সভাপতি কিছু বলেননি।

























মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী