একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন নিশ্চিত বিএনপির
- আপডেট সময় : ০২:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 75
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় শতাধিকের বেশী আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন প্রায় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতোমধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচনি জোট ইতোমধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৫৪টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি ও তাদের জোটের প্রার্থীরা ১৮৩টি আসনে জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছেন।
এছাড়াও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভোট গণনা শেষে আসনগুলোর বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ সংস্থা, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সন্তোষ প্রকাশ করলেও জামায়াতসহ কয়েকটি দল কিছু অনিয়মের অভিযোগ করে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃংখল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী
ফলাফল প্রকাশের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে রয়েছে।
নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ভোটের ফলাফল সঠিকভাবে ঘোষণা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী, অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃংখলা বাহিনীসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে, নির্বাচিত সরকারকে তা সম্মান করতে হবে। জনগণের সমর্থনে বিএনপির বিজয় অনিবার্য।
বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় পাবে। একইসঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান, ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণায় যেন কোনও অসংগতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয় থাকতে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। বিরতিহীনভাবে চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিল ভোটারদের বিশাল লাইন। বেলা যত বাড়ে ভোটারদের উপস্থিতিও তত বাড়তে থাকে। তবে দুপুরের আগেই বেশিরভাগ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তাই বিকেলের দিকে অনেক কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে বিকেল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন তাদের ভোট নেওয়া হয়। বিভিন্ন স্থানে জাল ভোট, সহিংসতা, ককটেল বিস্ফোরণের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা সংঘটিত হয়। তবুও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অগ্নি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। সমালোচকদের আশঙ্কা উড়িয়ে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে।























নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী