ঢাকা ০৩:১০ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু! আমেরিকাকে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 54

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানে যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরমাণু আলোচনা সফল না হলে ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরানও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে জানা গেছে। এটাও বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে শনিবারের মধ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু আলোচনা সফল না হলে মার্কিন হামলা অবিশ্যম্ভাবী। এর জন্য ইরানও সামরিক ও অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেতারা ‘মোজাইক ডিফেন্স’-এর মাধ্যমে কমান্ড সিস্টেম চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির সুরক্ষা জোরদার করার দিকে নজর দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের নৌবাহিনীর ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। বিমান হামলা হলে তা প্রতিহত করার জন্য মহড়া চলছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর কাছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন হয়েছে। সূত্র উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বলেছেন যে সেনাবাহিনী শনিবারের মধ্যে হামলার জন্য প্রস্তুত। তবে বলা হচ্ছে, এই সপ্তাহান্তেও হামলা না করা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। জানা গেছে, আপাতত এই নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। এরই মাঝে আগামী তিন দিনের মধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে বহু মার্কিন কর্মীকে সরিয়ে নিতে চলেছে। আমেরিকা যদি হামলা করে, তাহলে ইরানের পক্ষ থেকে পালটা হামলা চালানো হতে পারে বলেই এটা করা হচ্ছে বলে দাবি রিপোর্টে।

এদিকে এই সবের মাঝেই ইরানের দিকে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে এই বিমানগুলি একটি বড় অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সামরিক বহরের অগ্রগতির বিষয়ে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রে তাদের সক্ষমতা জোরদার করতে ব্যস্ত। ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং মিলিটারি এভিয়েশন মনিটরিংয়ে বেশ কয়েকটি এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জ্বালানী ভরানোর ট্যাঙ্কার বিমানও দেখা গেছে।

এছাড়া ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মধ্য আটলান্টিকে রয়েছে এই রণতরী। এবং সেটি দ্রুত এগোচ্ছে ইরানের দিকে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিলও এই যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু! আমেরিকাকে জবাব দিতে প্রস্তুত ইরানও

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানে যুদ্ধের সম্ভাবনা আরও তীব্র হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে দাবি করা হল রিপোর্টে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরমাণু আলোচনা সফল না হলে ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইরানও সম্ভাব্য মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে প্রস্তুতি জোরদার করছে বলে জানা গেছে। এটাও বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবে শনিবারের মধ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরমাণু আলোচনা সফল না হলে মার্কিন হামলা অবিশ্যম্ভাবী। এর জন্য ইরানও সামরিক ও অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। নেতারা ‘মোজাইক ডিফেন্স’-এর মাধ্যমে কমান্ড সিস্টেম চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলির সুরক্ষা জোরদার করার দিকে নজর দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের নৌবাহিনীর ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। বিমান হামলা হলে তা প্রতিহত করার জন্য মহড়া চলছে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর কাছে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজও মোতায়েন হয়েছে। সূত্র উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে বলেছেন যে সেনাবাহিনী শনিবারের মধ্যে হামলার জন্য প্রস্তুত। তবে বলা হচ্ছে, এই সপ্তাহান্তেও হামলা না করা হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। জানা গেছে, আপাতত এই নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। এরই মাঝে আগামী তিন দিনের মধ্যে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে বহু মার্কিন কর্মীকে সরিয়ে নিতে চলেছে। আমেরিকা যদি হামলা করে, তাহলে ইরানের পক্ষ থেকে পালটা হামলা চালানো হতে পারে বলেই এটা করা হচ্ছে বলে দাবি রিপোর্টে।

এদিকে এই সবের মাঝেই ইরানের দিকে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে এই বিমানগুলি একটি বড় অপারেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন সামরিক বহরের অগ্রগতির বিষয়ে অ্যাক্সিওস এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আকাশ ও সমুদ্রে তাদের সক্ষমতা জোরদার করতে ব্যস্ত। ইন্ডিয়া টুডে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা এবং মিলিটারি এভিয়েশন মনিটরিংয়ে বেশ কয়েকটি এফ-২২, এফ-৩৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ওই এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে। এরই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জ্বালানী ভরানোর ট্যাঙ্কার বিমানও দেখা গেছে।

এছাড়া ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মধ্য আটলান্টিকে রয়েছে এই রণতরী। এবং সেটি দ্রুত এগোচ্ছে ইরানের দিকে। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস মাহান, ইউএসএস বেইনব্রিজ এবং ইউএসএস উইনস্টন চার্চিলও এই যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যাচ্ছে।