ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত: তিন তদন্ত কমিটি গঠন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • / 45

কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস দুমড়ে-মুচড়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলক্রসিংয়ে ভয়বাহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন মহিলা ও দুইজন শিশু বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আহত অন্তত ১৪ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ঈদ আনন্দের পরিবর্তে এখন বিলাপ করছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় মোট তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- যশোরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৩), চাঁদপুরের চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫) এবং নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার বাবুল চৌধুরী (৫৫)।

এছাড়াও বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত অন্যরা হলেন- মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।

ঈদ আনন্দের মধ্যেই বিভীষিকা নেমে এলো কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান-আপ ট্রেন ধাক্কা দেয় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে।

সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল এতটাই ভয়াবহ যে, বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। আর্তনাদ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনজুড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করে। হতাহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তাদের দাবি, ক্রসিংয়ে যথাযথ সতর্ক সংকেত ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রথম দেখছি একজন মহিলা দরজার কোণায় পড়ে আছে। তখন আমাদের সঙ্গে আরও দুইজন ভাই ছিল, আমরা যে কয়জনকে বের করা যায় বের করছি উপরের গ্লাস ভেঙে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রসিংয়ে কার্যকর সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘রাস্তার যে সিগন্যালম্যান থাকে উনি আসলেও ব্লক করেছিল কি না আমি জানি না। যদি ব্লক করতো হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।’

এদিকে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান বলেন, ‘রেল মন্ত্রণালয় থেকে দুইটি আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যেন এটার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়, কী কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।’

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার ফল? তদন্তের পর সেই উত্তর মিললেও, স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে এই ঈদ হয়ে থাকবে রক্তাক্ত ও শোকাবহ।

বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত এসব কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একটি বিভাগীয় এবং অপরটি জোনাল পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিভাগীয় পর্যায়ের ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। অপরদিকে, জোনাল পর্যায়ের ৬ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে।

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ( লোকো) মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ।

অন্যদিকে, জোনাল তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগন্যাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিক্যাল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম।

বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, দুটি তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আজ সকাল ৯টার দিকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্ত হওয়া দুই গেটম্যান হলেন হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত ওই দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত: তিন তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লায় চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কায় যাত্রীবাহী বাস দুমড়ে-মুচড়ে ১২ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাঙ্গালিয়া কচুয়ায় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রেলক্রসিংয়ে ভয়বাহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন মহিলা ও দুইজন শিশু বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আহত অন্তত ১৪ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ঈদ আনন্দের পরিবর্তে এখন বিলাপ করছেন স্বজনরা। এ ঘটনায় মোট তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন- যশোরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) এবং মরিয়ম (৩), চাঁদপুরের চাপাতলি এলাকার মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৭), ঝিনাইদহের মোক্তার বিশ্বাসের ছেলে জুহাদ বিশ্বাস (২৪), যশোরের চৌগাছা উপজেলার সিরাজুল ইসলাম (৭০) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫) এবং নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার বাবুল চৌধুরী (৫৫)।

এছাড়াও বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত অন্যরা হলেন- মাগুরার মোহাম্মদপুর এলাকার ওহাব শেখের ছেলে ফচিয়ার রহমান (২৬), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের বিল্লাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫), নোয়াখালীর ফাজিলপুরের মো. সেলিমের ছেলে নজরুল ইসলাম রায়হান (৪৫) এবং লক্ষ্মীপুর সদরের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সাঈদা (৯)।

ঈদ আনন্দের মধ্যেই বিভীষিকা নেমে এলো কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে। গতকাল (শনিবার, ২১ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান-আপ ট্রেন ধাক্কা দেয় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে।

সংঘর্ষের তীব্রতা ছিল এতটাই ভয়াবহ যে, বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে টেনে নিয়ে যায় ট্রেনটি। আর্তনাদ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনজুড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধারকাজ শুরু করে। হতাহতদের উদ্ধার করে নেয়া হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ল শতাধিক মানুষ, দুই সহোদরসহ ৪ শিশু নিহত

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানের অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। তাদের দাবি, ক্রসিংয়ে যথাযথ সতর্ক সংকেত ছিল না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রথম দেখছি একজন মহিলা দরজার কোণায় পড়ে আছে। তখন আমাদের সঙ্গে আরও দুইজন ভাই ছিল, আমরা যে কয়জনকে বের করা যায় বের করছি উপরের গ্লাস ভেঙে।’

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্রসিংয়ে কার্যকর সিগন্যাল না থাকায় বাসটি রেললাইনে উঠে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইদ্রিস বলেন, ‘রাস্তার যে সিগন্যালম্যান থাকে উনি আসলেও ব্লক করেছিল কি না আমি জানি না। যদি ব্লক করতো হয়তো এত বড় দুর্ঘটনা হতো না।’

এদিকে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহতের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ মার্চ) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানিয়েছেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

এছাড়াও জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুমিল্লা বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. মমিন, কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার এবং ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রেজা হাসান বলেন, ‘রেল মন্ত্রণালয় থেকে দুইটি আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিজে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। যেন এটার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়, কী কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে।’

ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এটি কি শুধুই দুর্ঘটনা, নাকি অব্যবস্থাপনা আর অবহেলার ফল? তদন্তের পর সেই উত্তর মিললেও, স্বজন হারানো পরিবারগুলোর কাছে এই ঈদ হয়ে থাকবে রক্তাক্ত ও শোকাবহ।

বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত এসব কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, একটি বিভাগীয় এবং অপরটি জোনাল পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিভাগীয় পর্যায়ের ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবহন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান। অপরদিকে, জোনাল পর্যায়ের ৬ সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পূর্ব) মোহাম্মদ সফিকুর রহমানকে।

বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসাইন, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী ( লোকো) মো. রেজওয়ান-উল-ইসলাম, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান, বিভাগীয় মেডিক্যাল অফিসার ডা. তাহামিনা ইয়াছমিন এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কমান্ড্যান্ট মো. শহীদ উল্লাহ।

অন্যদিকে, জোনাল তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) মো. তানভিরুল ইসলাম, চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সাদেকুর রহমান, চিফ সিগন্যাল ও টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) তারেক মোহাম্মদ শামছ তুষার, চিফ মেডিক্যাল অফিসার (পূর্ব) ডা. ইবনে সফি আব্দুল আহাদ এবং চিফ কমান্ড্যান্ট, আরএনবি (পূর্ব) মো. জহিরুল ইসলাম।

বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, দুটি তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ভয়াবহ বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আজ সকাল ৯টার দিকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্ত হওয়া দুই গেটম্যান হলেন হেলাল উদ্দিন ও মেহেদী হাসান।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে কর্মরত ওই দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।