নেতানিয়াহুর নির্দেশ পেয়েই লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা!
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
- / 28
হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইসরায়েল ‘হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে’ রয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে তাদের ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে’ নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নেতানিয়াহু জানান, এ পর্যন্ত ৬০০-এর বেশি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হয়েছে এবং এখন হামলার তীব্রতা আরও বাড়াতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পূর্ব লেবাননে সিরিয়া সীমান্তবর্তী বেকা উপত্যকাসহ দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈরুতসহ লেবাননের বিস্তৃত এলাকায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে লেবানন ও ইসরায়েল ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। গত ১৬ এপ্রিল চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের হামলা মূলত দক্ষিণ লেবাননে সীমাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে এখনও তাদের সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকা থেকেই ড্রোন ও রকেট ছোড়া হচ্ছিল। প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে শুরু থেকেই হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের টানা ভারী বোমাবর্ষণে লেবাননে সম্প্রতি ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেক প্যারামেডিক ও জরুরি সেবাকর্মী রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননের নতুন নতুন এলাকার বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে ইসরায়েল, যার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বর্তমান এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে লেবানন। সেসময় ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ইসরায়েলে হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। জবাবে লেবাননজুড়ে বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। বর্তমানে আঞ্চলিক যুদ্ধে একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে সব ফ্রন্টে পূর্ণ যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে ইরান। লেবানন সরকারও হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে তাদের মতে, এই জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

























পে-স্কেলের গ্রেডভিত্তিক তালিকা প্রকাশ, গেজেট চলতি মাসেই