ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজকীয় সংবর্ধনায় বীরদের বরণ করল কেপ ভার্দে

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / 14

তারা কোনো সোনালী ট্রফি জেতেনি, গায়ে জড়াতে পারেনি বিশ্বসেরার রাজমুকুটও। তবে যা করেছে তারা, সেটা কোনো ট্রফির চেয়েও দামি—ফুটবলের চিরন্তন মানচিত্রে খোদাই করে দিয়েছে নিজেদের নাম, কেড়ে নিয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন আর দেখিয়েছে বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস! ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা এক চিলতে দ্বীপরাষ্ট্র, যাদের বিশ্বকাপের মানচিত্রে চেনার লোক ছিল না কেউ—সেই কেপ ভার্দেই এবার রূপকথার নতুন মহাকাব্য লিখেছে সবুজ গালিচায়।

স্পেনকে রুখে দেওয়া, কিংবা আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিকে কাঁপিয়ে দিয়ে হৃদয়ভাঙা বিদায়ে যখন কেঁদেছে ফুটবল রোমান্টিকেরা, ঠিক তখনই ঘরের মাঠে উৎসবের ঢল নামল বীরদের বরণ করতে। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার ৫১তম স্বাধীনতা দিবসে, কেপ ভার্দের নীল হাঙরেরা (ব্লু শার্কস) যেন দেশের মানুষকে উপহার দিল এক নতুন আবেগের স্বাধীনতা, এক নতুন গর্বের ইতিহাস।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর, রোববার কেপ ভার্দের বীরদের বহনকারী বিমান রাজধানী প্রাইয়ায় অবতরণ করে। বিমানবন্দর এলাকাটি তখন রূপ নিয়েছিল এক উৎসবের নগরীতে; সমর্থকেরা ড্রাম বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে এবং জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখেন।

পুরো বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা গোলকিপার ভোজিনিয়া বিবিসি-কে বলেন, ‘আমাদের মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও দারুণ এক মুহূর্ত।’ দেশের নাম লেখা একটি সাদা টি-শার্ট পরা এই গোলকিপার, যার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা ডিয়াস, আরও যোগ করেন, ‘আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরের রাউন্ডে যেতে পারিনি। এখন আমরা শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি এবং আমাদের মানুষের সাথে এই সাফল্য উদযাপন করছি।’

সেখানে উপস্থিত এক নারী সমর্থক বিবিসি-কে জানান, ব্লু শার্কসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি এই সংবর্ধনায় এসেছেন। এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবং এর আগে কখনোই বিশ্বকাপে না খেলার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও, কেপ ভার্দে যেভাবে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

বিমানবন্দরে উপস্থিত হাজারো সমর্থক চিৎকার করে গোলকিপার ভোজিনিয়া এবং ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের মতো দলের অন্য তারকাদের নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এই বাঁধভাঙা উদযাপনের মাঝেই খেলোয়াড়েরা একে একে সমর্থকদের ফুটবল জার্সিতে অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

দলের এই বীরোচিত ঘরে ফেরাটা কেপ ভার্দের জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ দিনটি ছিল দেশটির স্বাধীনতা দিবস। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রটি এবার তাদের স্বাধীনতার ৫১ বছর উদযাপন করছে। দলের এই বীরোচিত ঘরে ফেরাটা কেপ ভার্দের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের সাথে যেন এক সুতোয় গেঁথে গিয়েছিল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল কেপ ভার্দে। কিন্তু গ্রুপ পর্বে তারা যে অভাবনীয় পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো পরাশক্তিকে ০-০ গোলে রুখে দেওয়াসহ গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ড্র করে তারা। আর এই দুর্দান্ত লড়াইয়ের মাধ্যমেই তারা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এক রূপকথা ও অঘটন ঘটানোর মঞ্চ তৈরি করেছিল।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল কেপ ভার্দে। কিন্তু সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১-১ গোলে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচটিকে তারা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে আবারও পিছিয়ে পড়েছিল তারা, তবে সিডনি লোপেস কাবরালের এক চোখধাঁধানো শটে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে ব্লু শার্কসরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ রক্ষা হয়নি; ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর এক হেড দিনেই বোর্গেসের গায়ে লেগে ডিফ্লেক্টেড হয়ে (দিক পরিবর্তন করে) জালে জড়ালে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

বিমানবন্দরের ভিড়ের মধ্য থেকে ২৮ বছর বয়সী সমর্থক এদমিলসন কোরেইয়া বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিজের আবেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য যেসব বীরেরা লড়াই করেছিলেন, তাদের পর এখন আমরা এই নতুন বীরদের পেলাম—আমাদের ব্লু শার্কস!’

দেশে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে বিশ্বকাপে আমাদের এই যোগ্যতা অর্জন কোনো ভাগ্যের জোরে ছিল না। আমরা কঠোর পরিশ্রম আর লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপ) থেকে আমরা মাথা উঁচু করেই বিদায় নিয়েছি।’

দলের নীল জার্সি পরে আসা হাজারো সমর্থক তখন সিডনি লোপেস কাবরাল আর ভোজিনিয়ার মতো নিজেদের প্রিয় নায়কদের একঝলক দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলেন। ১২ বছর বয়সী কিশোর ইভান গনকালভেস জানাল, সে বিশেষভাবে কাবরালকেই খুঁজছে; কারণ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার সেই ‘চোখধাঁধানো গোলটি’ সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না।

কেপ ভার্দের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী আন্তোনিও দুয়ার্তে ব্লু শার্কস এবং তাদের কোচের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা কেপ ভার্দেকে বিশ্বের দরবারে একটি মহান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

পর্তুগিজদের ৫০০ বছরের শৃঙ্খল ভেঙে ৫ দশকে স্বাধীনতার যে স্বাদ পেয়েছিল এই ৫ লাখ মানুষের দেশ, আজ যেন সেই আনন্দের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ফুটবলের রূপকথা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যে বীরত্বগাথা তারা লিখে গেল, তা আগামী শত বছরেও দ্বীপরাষ্ট্রটির বুকে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে বাজবে। ব্লু শার্কসরা দেখিয়ে গেল—দেশ ছোট হতে পারে, তবে স্বপ্নের বিশালতা দিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া যায়!

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজকীয় সংবর্ধনায় বীরদের বরণ করল কেপ ভার্দে

আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৮ অপরাহ্ন, রোববার, ৫ জুলাই ২০২৬

তারা কোনো সোনালী ট্রফি জেতেনি, গায়ে জড়াতে পারেনি বিশ্বসেরার রাজমুকুটও। তবে যা করেছে তারা, সেটা কোনো ট্রফির চেয়েও দামি—ফুটবলের চিরন্তন মানচিত্রে খোদাই করে দিয়েছে নিজেদের নাম, কেড়ে নিয়েছে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন আর দেখিয়েছে বুক চিতিয়ে লড়াই করার অদম্য সাহস! ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা এক চিলতে দ্বীপরাষ্ট্র, যাদের বিশ্বকাপের মানচিত্রে চেনার লোক ছিল না কেউ—সেই কেপ ভার্দেই এবার রূপকথার নতুন মহাকাব্য লিখেছে সবুজ গালিচায়।

স্পেনকে রুখে দেওয়া, কিংবা আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিকে কাঁপিয়ে দিয়ে হৃদয়ভাঙা বিদায়ে যখন কেঁদেছে ফুটবল রোমান্টিকেরা, ঠিক তখনই ঘরের মাঠে উৎসবের ঢল নামল বীরদের বরণ করতে। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার ৫১তম স্বাধীনতা দিবসে, কেপ ভার্দের নীল হাঙরেরা (ব্লু শার্কস) যেন দেশের মানুষকে উপহার দিল এক নতুন আবেগের স্বাধীনতা, এক নতুন গর্বের ইতিহাস।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর, রোববার কেপ ভার্দের বীরদের বহনকারী বিমান রাজধানী প্রাইয়ায় অবতরণ করে। বিমানবন্দর এলাকাটি তখন রূপ নিয়েছিল এক উৎসবের নগরীতে; সমর্থকেরা ড্রাম বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে এবং জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখেন।

পুরো বিশ্বকাপে নিজের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্স দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা গোলকিপার ভোজিনিয়া বিবিসি-কে বলেন, ‘আমাদের মানুষের মাঝে ফিরে আসতে পারাটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও দারুণ এক মুহূর্ত।’ দেশের নাম লেখা একটি সাদা টি-শার্ট পরা এই গোলকিপার, যার আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা ডিয়াস, আরও যোগ করেন, ‘আমরা আরও বড় কিছু অর্জন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পরের রাউন্ডে যেতে পারিনি। এখন আমরা শুধু এই মুহূর্তটা উপভোগ করছি এবং আমাদের মানুষের সাথে এই সাফল্য উদযাপন করছি।’

সেখানে উপস্থিত এক নারী সমর্থক বিবিসি-কে জানান, ব্লু শার্কসদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই তিনি এই সংবর্ধনায় এসেছেন। এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে এবং এর আগে কখনোই বিশ্বকাপে না খেলার রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও, কেপ ভার্দে যেভাবে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো ফুটবল পরাশক্তিদের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

বিমানবন্দরে উপস্থিত হাজারো সমর্থক চিৎকার করে গোলকিপার ভোজিনিয়া এবং ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের মতো দলের অন্য তারকাদের নাম ধরে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এই বাঁধভাঙা উদযাপনের মাঝেই খেলোয়াড়েরা একে একে সমর্থকদের ফুটবল জার্সিতে অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

দলের এই বীরোচিত ঘরে ফেরাটা কেপ ভার্দের জন্য আরও বিশেষ হয়ে উঠেছে, কারণ দিনটি ছিল দেশটির স্বাধীনতা দিবস। পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রটি এবার তাদের স্বাধীনতার ৫১ বছর উদযাপন করছে। দলের এই বীরোচিত ঘরে ফেরাটা কেপ ভার্দের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের সাথে যেন এক সুতোয় গেঁথে গিয়েছিল।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ৬৭ নম্বরে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে এসেছিল কেপ ভার্দে। কিন্তু গ্রুপ পর্বে তারা যে অভাবনীয় পারফর্ম্যান্স দেখিয়েছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশেষ করে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মতো পরাশক্তিকে ০-০ গোলে রুখে দেওয়াসহ গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই ড্র করে তারা। আর এই দুর্দান্ত লড়াইয়ের মাধ্যমেই তারা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এক রূপকথা ও অঘটন ঘটানোর মঞ্চ তৈরি করেছিল।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে লিওনেল মেসির গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়েছিল কেপ ভার্দে। কিন্তু সেখান থেকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১-১ গোলে সমতা ফিরিয়ে ম্যাচটিকে তারা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে আবারও পিছিয়ে পড়েছিল তারা, তবে সিডনি লোপেস কাবরালের এক চোখধাঁধানো শটে ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে ব্লু শার্কসরা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে শেষ রক্ষা হয়নি; ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর এক হেড দিনেই বোর্গেসের গায়ে লেগে ডিফ্লেক্টেড হয়ে (দিক পরিবর্তন করে) জালে জড়ালে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

বিমানবন্দরের ভিড়ের মধ্য থেকে ২৮ বছর বয়সী সমর্থক এদমিলসন কোরেইয়া বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিজের আবেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার জন্য যেসব বীরেরা লড়াই করেছিলেন, তাদের পর এখন আমরা এই নতুন বীরদের পেলাম—আমাদের ব্লু শার্কস!’

দেশে অবতরণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি যে বিশ্বকাপে আমাদের এই যোগ্যতা অর্জন কোনো ভাগ্যের জোরে ছিল না। আমরা কঠোর পরিশ্রম আর লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপ) থেকে আমরা মাথা উঁচু করেই বিদায় নিয়েছি।’

দলের নীল জার্সি পরে আসা হাজারো সমর্থক তখন সিডনি লোপেস কাবরাল আর ভোজিনিয়ার মতো নিজেদের প্রিয় নায়কদের একঝলক দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছিলেন। ১২ বছর বয়সী কিশোর ইভান গনকালভেস জানাল, সে বিশেষভাবে কাবরালকেই খুঁজছে; কারণ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার সেই ‘চোখধাঁধানো গোলটি’ সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না।

কেপ ভার্দের সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামন্ত্রী আন্তোনিও দুয়ার্তে ব্লু শার্কস এবং তাদের কোচের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘তারা কেপ ভার্দেকে বিশ্বের দরবারে একটি মহান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’

পর্তুগিজদের ৫০০ বছরের শৃঙ্খল ভেঙে ৫ দশকে স্বাধীনতার যে স্বাদ পেয়েছিল এই ৫ লাখ মানুষের দেশ, আজ যেন সেই আনন্দের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার ফুটবলের রূপকথা। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যে বীরত্বগাথা তারা লিখে গেল, তা আগামী শত বছরেও দ্বীপরাষ্ট্রটির বুকে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে বাজবে। ব্লু শার্কসরা দেখিয়ে গেল—দেশ ছোট হতে পারে, তবে স্বপ্নের বিশালতা দিয়ে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া যায়!