মেসিকে হত্যার হুমকি, পুলিশ নথিতে ভয়াবহ তথ্য
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 5
ফিফা বিশ্বকাপের মাঠে লড়াইটা ছিল ফুটবল নিয়ে। আর মাঠের বাইরে লড়তে হয়েছে ভয়ংকর শত্রুর সঙ্গে- সন্ত্রাস ও নিরাপত্তাঝুঁকি। যার বাইরে ছিলেন না লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে বড় বড় সব তারকা।
যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ফাঁস হওয়া এক নিরাপত্তা নথিতে উঠে এসেছে, গত মাসে শেষ হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে মেসি, রোনালদো, খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের ঘিরে একের পর এক ভয়াবহ হুমকির চিত্র। যেখানে ছিল বোমা হামলার হুমকি, মৃত্যুর হুমকি, অস্ত্র নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার পরিকল্পনা- এমনকি আত্মঘাতী হামলার হুমকিও।
স্পেনের ইনফরমেশন ডট ইএসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
‘মেসিকে হত্যা করব’
আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামে হামলার হুমকি দেন। দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাঠে ঢুকবেন। তাদের হাতে থাকবে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল। শুধু পুলিশ বা খেলোয়াড়দের নয়, সরাসরি লিওনেল মেসিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
এরপর আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে আসে আরও ভয়ংকর বার্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকবেন তিনি। লক্ষ্য ওই একই- মেসি! আতঙ্ক সেখানেই শেষ হয়নি।
ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে জানানো হয়, গ্যালারির আবর্জনার ঝুড়িতে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে শুরু হয় তল্লাশি। মাঠে নামে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর।
রোনালদোর হোটেলে অনুপ্রবেশ
মেসির মতো রোনালদোকেও ঘিরে ছিল নিরাপত্তার উদ্বেগ। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, এক সন্দেহজনক ব্যক্তি রোনালদো কোথায় থাকছেন, সেই তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর আরও এক ব্যক্তি রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তার সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে থামালে দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি সেলফি তোলা।
৬ হাজারের বেশি হুমকি রেফারিকে
শুধু খেলোয়াড় নয়, নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন ম্যাচ অফিসিয়ালরাও। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের রোষে পড়েন ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ার। তার হোয়াটসঅ্যাপে আসে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা। ভিডিও সহকারী রেফারি উইলি দেলাজোও পান মৃত্যুর হুমকি।
গোল মিস করে বিপদে খেলোয়াড়
বিশ্বকাপে একটি ভুল বা একটি মিসও কখনও কখনও কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণও আছে নথিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হলান্ডকে পাস না দেওয়ার ঘটনায় নরওয়ের আলেক্সান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রী মৃত্যুর হুমকি পান।
কলম্বিয়ার জোন হামিন্তন কামপাজ পেনাল্টি মিস করার পরও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে জাতীয় দলের সঙ্গে দেশে ফেরাও তার জন্য সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৪ বিশ্বকাপের সেই কালো অধ্যায়। আত্মঘাতী গোল করার পর দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার।
এমবাপেকেও ছাড়েনি উত্তেজনা
বিশ্বকাপজুড়ে উত্তেজনার আরেক কেন্দ্রে ছিলেন কিলিয়ান এমবাপে। ফ্রান্সের কাছে হারের পর প্যারাগুয়ের সমর্থকরা এমবাপের নাম লেখা কুশপুত্তলিকা পোড়ান। ফরাসি তারকাকে লক্ষ্য করে দেওয়া হয় বর্ণবাদী স্লোগানও। এমনকি প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও তাকে আক্রমণ করে মন্তব্য করেন।
দক্ষিণ কোরিয়াও ছিল বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে। গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচ হং মিয়ং-বোর নিয়োগ নিয়ে দেশে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তার নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারও নিরাপদ ছিল না
নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারেও। এক ব্যক্তি হাতে রেঞ্চ নিয়ে সেখানে ঢুকে চিৎকার শুরু করেন। এরপর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়। মিডিয়া সেন্টার ঘিরে তৈরি করা হয় তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী। বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন।
ড্রোন হামলা ঠেকাতে জারি করা হয় নো-ফ্লাই জোন। মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ।





















মজুদদারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, তাই ভেবে মজুদ করবেন : আইনমন্ত্রী