মালদ্বীপে ট্রফি জয়ের পর সুলিভানদের চোখ এখন বিশ্বকাপে
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 2
মালদ্বীপে ভারতের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে জিতে ২০২৬ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। এপ্রিলে সেই শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভান। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরও বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন এই দুজন।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ছিল রোনান ও ডেকলান সুলিভানের বাংলাদেশের হয়ে অভিষেকের মঞ্চ। নিজেদের প্রথম টুর্নামেন্টে দারুণ পারফরম্যান্স করেন রোনান। পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল সহ ফাইনালে শেষ পেনাল্টি শটে গোল করে শিরোপা এনে দেন বাংলাদেশকে। দুই ম্যাচে মাঠে নেমে নিজের ঝলক দেখিয়েছেন ডেকলানও।
গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দুজন কথা বলেছেন তাদের বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আসা জার্নি, মালদ্বীপে শিরোপা জয়ের অনুভূতি, বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয়েছে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ। ইতিমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ। ডেকলান মনে করেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা আরও বাড়লে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের একত্র করা গেলে বাংলাদেশেরও বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব পেরোনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে খেলার স্বপ্নের কথা জানিয়ে ডেকলান বলেন, ‘আমি যখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপের কথা ভাবি, তখন মনে হয়—দেখুন, আমরা যদি এসব খেলোয়াড়কে একত্র করতে পারি, তাহলে আমাদেরও কোয়ালিফাই করার সুযোগ আছে। এটাই স্বপ্ন। এটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।’
ডেকলান তার বন্ধু, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সাবেক একাডেমি সতীর্থ ও পেন স্টেটের উইঙ্গার নেহান হাসান এবং স্ট্যানফোর্ডের স্ট্রাইকার ট্রেভর ইসলামকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংযোজন হিসেবে উল্লেখ করেন। ডেকলানের আশা, এমন আরও অনেক খেলোয়াড় সামনে পাওয়া যাবে।
রোনানের কাছেও স্বপ্নটা একই রকম বড়, ‘দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেলে সেটা হবে অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশকে নিয়ে যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখেছি, এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।’
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। বাংলাদেশের পঞ্চম পেনাল্টি নিতে এগিয়ে যান রোনান সুলিভান। শিরোপা জেতানোর সুযোগ পেয়ে পানেনকা শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। মালদ্বীপের গ্যালারিতে তখন উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশের সমর্থকেরা।
রোনানের যমজ ভাই ডেকলান অবশ্য সেই শটে মোটেও অবাক হননি, ‘ওকে কিছু বলতেই হয়নি। আমি জানতাম, শেষ পেনাল্টিটা নিয়ে জেতার সুযোগ পেলে ও এটাই করবে। এটাই তো ওর স্বভাব।’
বাংলাদেশের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ডেকলান বলেন, ‘ওখানে আমরা যা করেছি, সেটা দেখে অনেকেই বুঝেছে অভিজ্ঞতাটা কত ভালো ছিল। এখন দেখছি, বিদেশে থাকা অনেক খেলোয়াড় বাংলাদেশ হয়ে খেলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। ইংল্যান্ডের কয়েকজন ছেলে তো ভালো ভালো একাডেমিতেও আছে। আমাদের প্রতিভা সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে আছে। এখন শুধু সেটাকে কাজে লাগানোর ব্যাপার।’























‘বিরোধী দলের ছায়া সরকার থেকে এনসিপি আউট’