ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, রোববার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পলাতক খুনিদের ফেরত দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে : রাশেদ খাঁন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ভারত দল হিসেবে সব সময় আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল ভারতের জনগণের সাথে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু আমরা দেখেছি ভারতের কাছ থেকে এর বিপরীত আচরণ। গণঅভ্যুত্থানের পরে ভারতের টোন-টিউনের মাঝে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নতুন যে হাইকমিশনার এসেছেন, তিনি বলেছেন বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতের জনগণের সম্পর্ক হবে। বাংলাদেশ সরকারের যে স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে ভারতও ধারণ করতে চায়। যদি ভারত ধারণ করতে চায়, তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই তিনি ভারত সফরে যাবেন।

তার আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার কী ভাবছে, তার স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাই। একদিকে আপনি হাসিনাকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার সুযোগ করে দেবেন, অন্যদিকে আপনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন ভারত সফরে আসেন—এটা আসলে দ্বিচারিতা।

ভারতকে বলব, আপনাদের সাথে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক চাই। আওয়ামী লীগ যেভাবে ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রীর বা রাখিবন্ধনের সম্পর্ক গড়েছিল, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক বরদাস্ত করব না। ভারতের জনগণের সাথে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক তৈরি হোক, আমরা এটাই চাই। তবে এই ক্ষেত্রে ভারতকে অবশ্যই সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে। পুশইন বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের সাথে দাদাগিরি সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে।

এই মুহূর্তে ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্যগুলো ইতিবাচক। তারা যদি এইভাবে এগিয়ে যায়, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ যেসব পলাতক খুনি রয়েছেন, তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মনোভাব ব্যক্ত করে এবং শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সঠিক মনোভাব ব্যক্ত করে, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন।

এই আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে, জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারত সফরে গেলে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। জনগণের বাইরে গিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করতে পারে না। বিএনপি একটি গণমানুষের দল। আর কিছু বললাম না। সুতরাং বিএনপি যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নেবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

পলাতক খুনিদের ফেরত দিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে : রাশেদ খাঁন

আপডেট সময় : ১১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদির খুনিদের ফেরত দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ভারত দল হিসেবে সব সময় আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল ভারতের জনগণের সাথে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু আমরা দেখেছি ভারতের কাছ থেকে এর বিপরীত আচরণ। গণঅভ্যুত্থানের পরে ভারতের টোন-টিউনের মাঝে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নতুন যে হাইকমিশনার এসেছেন, তিনি বলেছেন বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতের জনগণের সম্পর্ক হবে। বাংলাদেশ সরকারের যে স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে ভারতও ধারণ করতে চায়। যদি ভারত ধারণ করতে চায়, তাহলে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই তিনি ভারত সফরে যাবেন।

তার আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যে শর্ত দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ভারত সরকার কী ভাবছে, তার স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাই। একদিকে আপনি হাসিনাকে দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার সুযোগ করে দেবেন, অন্যদিকে আপনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন ভারত সফরে আসেন—এটা আসলে দ্বিচারিতা।

ভারতকে বলব, আপনাদের সাথে সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক চাই। আওয়ামী লীগ যেভাবে ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রীর বা রাখিবন্ধনের সম্পর্ক গড়েছিল, আমরা সেই ধরনের সম্পর্ক বরদাস্ত করব না। ভারতের জনগণের সাথে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক তৈরি হোক, আমরা এটাই চাই। তবে এই ক্ষেত্রে ভারতকে অবশ্যই সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে হবে। পুশইন বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশের জনগণের সাথে দাদাগিরি সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে।

এই মুহূর্তে ভারতের হাইকমিশনারের বক্তব্যগুলো ইতিবাচক। তারা যদি এইভাবে এগিয়ে যায়, শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ যেসব পলাতক খুনি রয়েছেন, তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মনোভাব ব্যক্ত করে এবং শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সঠিক মনোভাব ব্যক্ত করে, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই ভারত সফর করবেন।

এই আলোচনা যদি ফলপ্রসূ না হয়, সেক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে, জনগণের মতামতের বাইরে গিয়ে, জনগণের সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারত সফরে গেলে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। জনগণের বাইরে গিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করতে পারে না। বিএনপি একটি গণমানুষের দল। আর কিছু বললাম না। সুতরাং বিএনপি যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে ভারত সফরের সিদ্ধান্ত নেবেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।