ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই দফা বাতিলের পর ফের আলোচনায় শেভরনের প্রস্তাব!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

দুই দফা বাতিলের পর ফের আলোচনায় শেভরন বাংলাদেশের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব। বহুজাতিক কোম্পানিটি সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর ব্লক ও হবিগঞ্জে অবস্থিত ব্লক-১২ এর ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল-গ্যাস উন্নয়ন করতে চায়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিটি প্রায় ৪’শ বর্গকিলোমিটার এলাকা (বিবিয়ানা) থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বিবিয়ানার চারপাশের আরও সাড়ে ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পেতে জোর লবিং অব্যাহত রেখেছে। ওইসব এলাকায় রয়েছে রশিদপুর, ছাতক ও সুনেত্রসহ কয়েকটি প্রমাণিত গ্যাসক্ষেত্র। রশিদপুর থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি, আর আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার কারণে এতোদিন বন্ধ ছিল ছাতক গ্যাসক্ষেত্র।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত গ্যাসফিল্ডগুলো আলোচনার মধ্যে নেই। এর বাইরে যেসব এলাকা রয়েছে সেগুলোতে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন করতে চায় শেভরন।

বিষয়টি সামনে আসে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। শেভরনের পক্ষ থেকে ব্লক-৮, ব্লক-১১ ও ব্লক-১২ নম্বরের পাশ্ববর্তী এলাকায় (রশিদপুর) তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকার রশিদপুরের বিষয়টি নাকচ করে ব্লক-৮ ও ১১ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিল।

এরপর শেভরন বিস্তারিত প্রস্তাবে অফশোর (সাগর) মডেল পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে চুক্তির প্রস্তাব দেয়। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়, এতে বলা হয়েছে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন অনেক ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপুর্ণ, সে কারণে সেখানে গ্যাসের দর অনেক বেশি হয়ে থাকে। স্থলভাগে ওই দর অনুযায়ী চুক্তি হতে পারে না।

উল্লেখ্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ অনেক ছাড় দিয়ে মডেল পিএসসি-২০১৯ সংশোধন করে মডেল পিএসসি-২০২৩ করা হয়। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয় ব্রেন্ট ক্রডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রডের দাম ১০০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে ১০ ডলার। যা আগের পিএসসিতে যথাক্রমে অগভীর ও গভীর সমুদ্রে ৫.৬ ডলার ও ৭.২৫ ডলার স্থির দর ছিল। শেভরন বাংলাদেশের ব্লক-১২ এলাকায় ইজারা চুক্তি রয়েছে ২.৭৬ ডলারে।

এরপর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিও পিএসসি ছাড়া ব্লক ইজারার বিষয়টি নাকচ করে দেয়। সম্প্রতি জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তির বিষয়টি বেশ জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে। তারই মধ্যে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পুরনো গ্যাসক্ষেত্র বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, শেভরন অনেকদিন ধরেই প্রমাণিত গ্যাসক্ষেত্র ছাতক ও রশিদপুর পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রমাণিত মজুদ থাকা ফিল্ডি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া সঠিক হবে না। এতে করে বর্তমান দরের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গুণ বেশি দরে গ্যাস কিনতে হতে পারে।

কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো কর্তৃক ফিল্ডটি উন্নয়নের সময় ২০০৫ সালে (৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন) দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ছাতকে। এরপর ক্ষতিপুরণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন থাকায় এতেদিন পড়েছিল গ্যাসক্ষেত্রটি। মামলা শেষ হলে নতুন করে কূপ খননের ডিপিপি প্রস্তুত করছেন বাপেক্স। যদিও রহস্যজনক কারনে গতি দৃশ্যমান নয়।

অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিমের একটি স্তুরের গ্যাস পুড়ে যায়, অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্বের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের পরিচালনাধীন রশিদপুর অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে (২টি জুন ৩০, ২০২৪) ১.৪৮ টিসিএফ। ফিল্ডটি থেকে দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ঘনমিটারের দাম পড়ছে ১ টাকা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে ত্রিমাত্রিক জরিপ করেছে বাপেক্স। সম্ভাবনাময় ১১ নম্বর ব্লকে ২ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। শেভরন বাংলাদেশ এসব ব্লকে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ করার কথা। জরিপের ফলাফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে (কূপ খনন) যেতে চায় কোম্পানিটি।

বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ মোট ৩টি ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। তাদের হাতে রয়েছে ব্লক-১২ নম্বরে থাকা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র, ব্লক-১৩ নম্বরে থাকা জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র এবং ব্লক-১৪ নম্বরে থাকা মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র। শেভরন বাংলাদেশের মালিকানাধীন ৩টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক (১৩ সেপ্টেম্বর) ৮৬৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে। ওইদিন দেশীয় গ্যাসফিল্ডগুলোর মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আইন অনুযায়ী চুক্তির পর ৭ বছর কোন কাজ না করলে স্বয়ংক্রিভাবে ওই এলাকায় পেট্রোবাংলার অধীনে চলে যাবে। শেভরন বাংলাদেশ ব্লক-১২ চুক্তি করলে পরে কিছু এলাকা ছেড়ে দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবরে বিবিয়ানা ফিল্ডের ছেড়ে দেওয়া কিছু এলাকায় কূপ খনন করতে ত্রিপক্ষীয় সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও শেভরন বাংলাদেশ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তারা কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হন নি। অন্যদিকে শেভরন বাংলাদেশের ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে ম্যানেজার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ জাহিদুর রহমান বলেছেন, এই মুহুর্তে শেভরন বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, শেভরন বাংলাদেশ, সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে ৩০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ করে যাচ্ছে। জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা অন্বেষণ অব্যাহত রাখতে চায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই দফা বাতিলের পর ফের আলোচনায় শেভরনের প্রস্তাব!

আপডেট সময় : ০১:০২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই দফা বাতিলের পর ফের আলোচনায় শেভরন বাংলাদেশের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব। বহুজাতিক কোম্পানিটি সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত ১১ নম্বর ব্লক ও হবিগঞ্জে অবস্থিত ব্লক-১২ এর ৬ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল-গ্যাস উন্নয়ন করতে চায়।

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিটি প্রায় ৪’শ বর্গকিলোমিটার এলাকা (বিবিয়ানা) থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। বিবিয়ানার চারপাশের আরও সাড়ে ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পেতে জোর লবিং অব্যাহত রেখেছে। ওইসব এলাকায় রয়েছে রশিদপুর, ছাতক ও সুনেত্রসহ কয়েকটি প্রমাণিত গ্যাসক্ষেত্র। রশিদপুর থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি, আর আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার কারণে এতোদিন বন্ধ ছিল ছাতক গ্যাসক্ষেত্র।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আবিষ্কৃত গ্যাসফিল্ডগুলো আলোচনার মধ্যে নেই। এর বাইরে যেসব এলাকা রয়েছে সেগুলোতে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন করতে চায় শেভরন।

বিষয়টি সামনে আসে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। শেভরনের পক্ষ থেকে ব্লক-৮, ব্লক-১১ ও ব্লক-১২ নম্বরের পাশ্ববর্তী এলাকায় (রশিদপুর) তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকার রশিদপুরের বিষয়টি নাকচ করে ব্লক-৮ ও ১১ বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছিল।

এরপর শেভরন বিস্তারিত প্রস্তাবে অফশোর (সাগর) মডেল পিএসসি ২০২৩ এর আলোকে চুক্তির প্রস্তাব দেয়। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়, এতে বলা হয়েছে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন অনেক ব্যয়বহুল এবং ঝুঁকিপুর্ণ, সে কারণে সেখানে গ্যাসের দর অনেক বেশি হয়ে থাকে। স্থলভাগে ওই দর অনুযায়ী চুক্তি হতে পারে না।

উল্লেখ্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধিসহ অনেক ছাড় দিয়ে মডেল পিএসসি-২০১৯ সংশোধন করে মডেল পিএসসি-২০২৩ করা হয়। প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ধরা হয় ব্রেন্ট ক্রডের ১০ শতাংশ দরের সমান। অর্থাৎ ব্রেন্ট ক্রডের দাম ১০০ ডলার হলে গ্যাসের দাম হবে ১০ ডলার। যা আগের পিএসসিতে যথাক্রমে অগভীর ও গভীর সমুদ্রে ৫.৬ ডলার ও ৭.২৫ ডলার স্থির দর ছিল। শেভরন বাংলাদেশের ব্লক-১২ এলাকায় ইজারা চুক্তি রয়েছে ২.৭৬ ডলারে।

এরপর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটিও পিএসসি ছাড়া ব্লক ইজারার বিষয়টি নাকচ করে দেয়। সম্প্রতি জিটুজি ভিত্তিতে চুক্তির বিষয়টি বেশ জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে। তারই মধ্যে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। পুরনো গ্যাসক্ষেত্র বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেছেন, শেভরন অনেকদিন ধরেই প্রমাণিত গ্যাসক্ষেত্র ছাতক ও রশিদপুর পেতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রমাণিত মজুদ থাকা ফিল্ডি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া সঠিক হবে না। এতে করে বর্তমান দরের চেয়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ গুণ বেশি দরে গ্যাস কিনতে হতে পারে।

কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো কর্তৃক ফিল্ডটি উন্নয়নের সময় ২০০৫ সালে (৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন) দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ছাতকে। এরপর ক্ষতিপুরণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারাধীন থাকায় এতেদিন পড়েছিল গ্যাসক্ষেত্রটি। মামলা শেষ হলে নতুন করে কূপ খননের ডিপিপি প্রস্তুত করছেন বাপেক্স। যদিও রহস্যজনক কারনে গতি দৃশ্যমান নয়।

অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিমের একটি স্তুরের গ্যাস পুড়ে যায়, অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্বের মজুদ অক্ষত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সম্ভাব্য মজুদ ২ থেকে ৫ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে সিলেট গ্যাস ফিল্ডের পরিচালনাধীন রশিদপুর অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে (২টি জুন ৩০, ২০২৪) ১.৪৮ টিসিএফ। ফিল্ডটি থেকে দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ঘনমিটারের দাম পড়ছে ১ টাকা।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে ত্রিমাত্রিক জরিপ করেছে বাপেক্স। সম্ভাবনাময় ১১ নম্বর ব্লকে ২ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। শেভরন বাংলাদেশ এসব ব্লকে দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ করার কথা। জরিপের ফলাফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী ধাপে (কূপ খনন) যেতে চায় কোম্পানিটি।

বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ মোট ৩টি ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে। তাদের হাতে রয়েছে ব্লক-১২ নম্বরে থাকা বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র, ব্লক-১৩ নম্বরে থাকা জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র এবং ব্লক-১৪ নম্বরে থাকা মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র। শেভরন বাংলাদেশের মালিকানাধীন ৩টি গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক (১৩ সেপ্টেম্বর) ৮৬৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দিয়েছে। ওইদিন দেশীয় গ্যাসফিল্ডগুলোর মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট।

আইন অনুযায়ী চুক্তির পর ৭ বছর কোন কাজ না করলে স্বয়ংক্রিভাবে ওই এলাকায় পেট্রোবাংলার অধীনে চলে যাবে। শেভরন বাংলাদেশ ব্লক-১২ চুক্তি করলে পরে কিছু এলাকা ছেড়ে দেয়। ২০২২ সালের অক্টোবরে বিবিয়ানা ফিল্ডের ছেড়ে দেওয়া কিছু এলাকায় কূপ খনন করতে ত্রিপক্ষীয় সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও শেভরন বাংলাদেশ।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তারা কেউই নাম প্রকাশ করতে রাজি হন নি। অন্যদিকে শেভরন বাংলাদেশের ঢাকা অফিসে যোগাযোগ করা হলে ম্যানেজার (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ জাহিদুর রহমান বলেছেন, এই মুহুর্তে শেভরন বাংলাদেশ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চায় না।

তিনি আরও বলেন, শেভরন বাংলাদেশ, সরকার ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে ৩০ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ করে যাচ্ছে। জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা অন্বেষণ অব্যাহত রাখতে চায়।