বাপেক্সের ঋণ ছাড়িয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 3
দেশের একমাত্র গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনকারী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) মোট ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিপুল অঙ্কের এই ঋণের বোঝা এবং তীব্র তারল্য সংকটের কারণে একদিকে যেমন স্থবির হয়ে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কার্যক্রম, অন্যদিকে বাপেক্সের কার্যক্রম ও সক্ষমতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর আগে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জবাবদিহিতার জায়গা শক্ত করা। বর্তমানে বাপেক্সের ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। আর আগামী পাঁচ বছরে ৪৪টি কূপ খননেই প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এদিকে, কমছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন। এমন বাস্তবতায় বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে প্রশাসনিক, আর্থিক ও কারিগরি কার্যক্রম সংস্কারের দাবি বিশেষজ্ঞদের।
১৯৮৯ সালের ১ জুলাই পেট্রোবাংলার অনুসন্ধান অধিদপ্তরকে আলাদা করে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি, বাপেক্স। প্রতিষ্ঠানটির মূল দায়িত্ব ভূতাত্ত্বিক ও ভূ-প্রকৌশলিক জরিপ, কূপ খনন এবং গ্যাস উৎপাদন।
বাপেক্সের মালিকানাধীন গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে প্রায় ৭৩৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এর বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। আর অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৫৬ বিলিয়ন ঘনফুট, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা।
বাপেক্সের বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে পুরোনো প্রশাসনিক কাঠামো, কারিগরি ও আর্থিক সক্ষমতার ঘাটতি, দক্ষ জনবলের অভাব এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা। এর সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলছেন, এসব নিরসন জরুরি।
বাপেক্সের লক্ষ্য, দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে কূপ খননেই প্রয়োজন হবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে বাপেক্সের ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। পাইপলাইন প্রস্তুত না থাকায় ১২০–১২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিক্রি করতে না পেরে আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাপেক্স, ফলে বাড়ছে ঋণের বোঝা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
অধ্যাপক ম. তামিমের মতে, বড় বিনিয়োগের আগে প্রয়োজন প্রশাসনিক, কারিগরি ও আর্থিক কাঠামোর কার্যকর সংস্কার।






















৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ