ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সার কেনার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি), মরক্কো থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, বিভিন্ন দেশ থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে। এসব সার কিনতে খরচ হবে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

সৌদি আরব থেকে আসবে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া সার
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

রাশিয়া থেকে আসবে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)’ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। মোট আমদানি ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা।

বিএডিসি রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এমওপি সার আমদানির জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৪ মে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে এবারের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হয়েছে।

মরক্কো থেকে আসবে ৪০ হাজার টন ডিএপি
জিটুজি পদ্ধতিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ এবং বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ঐচ্ছিক তৃতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার। এতে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ মরক্কো।

একইভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ঐচ্ছিক চতুর্থ লটে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ লটেও প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার এবং মোট ক্রয়মূল্য ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা একই প্রতিষ্ঠান।

বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ টন ডিএপি
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

এতে প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৯৩৮ মার্কিন ডলার। মোট ক্রয়মূল্য ৪৬ কোটি ৯০ লাখ নয়, ৪৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ৫ লাখ টন ডিএপির মোট আমদানি ব্যয় ৪৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাবে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর ও তিউনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎপাদক দেশ থেকে সার আমদানির কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— এনআরকে হোল্ডিং, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মুগ্ধ ট্রেডার্স, বাস্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স আকন এন্টারপ্রাইজ, সান সাইনিং লিমিটেড, মেসার্স দীপা এন্টারপ্রাইজ, মৌনতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স ফারিহা ট্রেডিং, মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেডিং, সাইফুল্লাহ তাকওয়া, তাইবা সাইফুল্লাহ (জিএল), মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশন, সাইফুল্লাহ গালফ, নোয়াপাড়া ট্রেডার্স এবং মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেডিং করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিএপি আমদানির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদক দেশ হিসেবে মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর ও তিউনেশিয়ার নাম রয়েছে।

২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম ৩৯৮ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার।

এ জন্য ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স আকন এন্টারপ্রাইজ, এনআরকে হোল্ডিং, বাঙ্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, মেসার্স নীপা এন্টারপ্রাইজ, মুগ্ধ ট্রেডার্স, মেসার্স মৌনতা ট্রেড ইনডেক্স, নোয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আলিফ ট্রেডিং, তাইবা সাইফুল্লাহ (এসএ), সাইফুল্লাহ গালফ, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেডিং এবং সাইফুল্লাহ তাকওয়া।

প্রস্তাব অনুযায়ী রাশিয়া, কানাডা ও বেলারুশ থেকে এসব এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানভেদে আমদানির পরিমাণ ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত। কমিটি এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।

২ লাখ টন টিএসপি সার
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
এতে মোট ক্রয়মূল্য ১৫ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম ৭৫৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ জন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেডিং করপোরেশন, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, এনআরকে হোল্ডিং, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নোয়াপাড়া ট্রেডার্স, সাইফুল্লাহ তাকওয়া, মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশন এবং নোয়াপাড়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেবানন, বুলগেরিয়া, মরক্কো, মিশর ও তিউনেশিয়া থেকে টিএসপি সার আমদানির কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সার আমদানির পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকার সার কেনার অনুমোদন

আপডেট সময় : ১১:০২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ সার আমদানির একাধিক প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি), মরক্কো থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, বিভিন্ন দেশ থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি এবং ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে। এসব সার কিনতে খরচ হবে ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

সৌদি আরব থেকে আসবে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া সার
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফরমুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

রাশিয়া থেকে আসবে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ)’ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ষষ্ঠ লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় হবে ১৬৬ কোটি ৯ লাখ ৯০ হাজার ৪৫০ টাকা। কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। মোট আমদানি ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রা।

বিএডিসি রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এমওপি সার আমদানির জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৪ মে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে এবারের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হয়েছে।

মরক্কো থেকে আসবে ৪০ হাজার টন ডিএপি
জিটুজি পদ্ধতিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ এবং বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ঐচ্ছিক তৃতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার। এতে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা ওসিপি নিউট্রিক্রপস এসএ মরক্কো।

একইভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ঐচ্ছিক চতুর্থ লটে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এ লটেও প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার এবং মোট ক্রয়মূল্য ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সুপারিশকৃত দরদাতা একই প্রতিষ্ঠান।

বিভিন্ন দেশ থেকে ৫ লাখ টন ডিএপি
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।

এতে প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৯৩৮ মার্কিন ডলার। মোট ক্রয়মূল্য ৪৬ কোটি ৯০ লাখ নয়, ৪৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ ৫ লাখ টন ডিএপির মোট আমদানি ব্যয় ৪৬ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রস্তাবে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর ও তিউনেশিয়াসহ বিভিন্ন উৎপাদক দেশ থেকে সার আমদানির কথা বলা হয়েছে।

প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— এনআরকে হোল্ডিং, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মুগ্ধ ট্রেডার্স, বাস্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স আকন এন্টারপ্রাইজ, সান সাইনিং লিমিটেড, মেসার্স দীপা এন্টারপ্রাইজ, মৌনতা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স ফারিহা ট্রেডিং, মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেডিং, সাইফুল্লাহ তাকওয়া, তাইবা সাইফুল্লাহ (জিএল), মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশন, সাইফুল্লাহ গালফ, নোয়াপাড়া ট্রেডার্স এবং মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেডিং করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

প্রস্তাবে প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ হাজার থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত ডিএপি আমদানির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। উৎপাদক দেশ হিসেবে মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিশর ও তিউনেশিয়ার নাম রয়েছে।

২ লাখ ২০ হাজার টন এমওপি
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে মোট ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম ৩৯৮ দশমিক ৯৭ মার্কিন ডলার।

এ জন্য ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স আকন এন্টারপ্রাইজ, এনআরকে হোল্ডিং, বাঙ্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, মেসার্স নীপা এন্টারপ্রাইজ, মুগ্ধ ট্রেডার্স, মেসার্স মৌনতা ট্রেড ইনডেক্স, নোয়াপাড়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আলিফ ট্রেডিং, তাইবা সাইফুল্লাহ (এসএ), সাইফুল্লাহ গালফ, মেসার্স নোয়াপাড়া ট্রেডিং এবং সাইফুল্লাহ তাকওয়া।

প্রস্তাব অনুযায়ী রাশিয়া, কানাডা ও বেলারুশ থেকে এসব এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানভেদে আমদানির পরিমাণ ৬ হাজার থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত। কমিটি এ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে।

২ লাখ টন টিএসপি সার
বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকারকদের মাধ্যমে ২ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি।
এতে মোট ক্রয়মূল্য ১৫ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলার এবং প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম ৭৫৬ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ জন্য ১০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেসার্স রত্না এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স ফাইয়াজ ট্রেডিং করপোরেশন, দেশ ট্রেডিং করপোরেশন, এনআরকে হোল্ডিং, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, বাল্ক ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, নোয়াপাড়া ট্রেডার্স, সাইফুল্লাহ তাকওয়া, মেসার্স সুফলা ট্রেডিং করপোরেশন এবং নোয়াপাড়া ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেবানন, বুলগেরিয়া, মরক্কো, মিশর ও তিউনেশিয়া থেকে টিএসপি সার আমদানির কথা বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পর্যন্ত সার আমদানির পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে।