ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ ঘিরে নতুন সংঘাত, ভেস্তে যাওয়ার মুখে যুদ্ধবিরতি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • / 31

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে কোনো সমঝোতা চুক্তির খবর প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। এর আগে ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের একটি ড্রোন পরিচালনাকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এই নতুন সংঘাতের ফলে গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন হুমকির মুখে পড়েছে, যা শান্তি চুক্তির আশাকে ম্লান করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা ইরানের ৪টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করেছেন এবং বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছেন, যেখান থেকে পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। মার্কিন প্রশাসন একে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা বলে দাবি করলেও, আইআরজিসি তাসনিম নিউজের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে ভোরের হামলার জবাবে তারা সেই নির্দিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে; এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৮৮% হ্রাস পেয়েছে। বুধবার এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প চলমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নাকচ করে দেন এবং ওমান ও ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করার একটি খসড়া চুক্তি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এর ওপর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তারা সঠিক আচরণ না করলে তাদেরকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। এদিকে ট্রেন্জারি বিভাগ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় গঠিত ইরানি সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সমস্ত অবরুদ্ধ তহবিল নিঃশর্তে ফেরত দেওয়ার আইনি দাবি জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার মতো মৌলিক বিষয়গুলোই এখন আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হরমুজ ঘিরে নতুন সংঘাত, ভেস্তে যাওয়ার মুখে যুদ্ধবিরতি!

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে কোনো সমঝোতা চুক্তির খবর প্রত্যাখ্যান করার কয়েক ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি)। এর আগে ওয়াশিংটনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের একটি ড্রোন পরিচালনাকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। এই নতুন সংঘাতের ফলে গত এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন হুমকির মুখে পড়েছে, যা শান্তি চুক্তির আশাকে ম্লান করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা ইরানের ৪টি আক্রমণাত্মক ড্রোন ভূপাতিত করেছেন এবং বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আঘাত হেনেছেন, যেখান থেকে পঞ্চম ড্রোনটি উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল। মার্কিন প্রশাসন একে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা বলে দাবি করলেও, আইআরজিসি তাসনিম নিউজের মাধ্যমে জানিয়েছে যে, বন্দর আব্বাস বিমানবন্দরের কাছে ভোরের হামলার জবাবে তারা সেই নির্দিষ্ট মার্কিন বিমানঘাঁটিটিকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। এই উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত ও ইসরায়েলেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে; এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচল ৮৮% হ্রাস পেয়েছে। বুধবার এক ক্যাবিনেট বৈঠকে ট্রাম্প চলমান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নাকচ করে দেন এবং ওমান ও ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক চলাচল স্বাভাবিক করার একটি খসড়া চুক্তি সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এর ওপর কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এমনকি দীর্ঘদিনের মিত্র ওমানকে হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, তারা সঠিক আচরণ না করলে তাদেরকে উড়িয়ে দেওয়া হবে। এদিকে ট্রেন্জারি বিভাগ হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় গঠিত ইরানি সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

অন্যদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপ-সচিব আলী বাঘেরি কানি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সমস্ত অবরুদ্ধ তহবিল নিঃশর্তে ফেরত দেওয়ার আইনি দাবি জানিয়েছেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার মতো মৌলিক বিষয়গুলোই এখন আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।