ঢাকা ০৬:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • / 16

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম বড় অঘটন ঘটিয়ে দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে গিয়ে ভেঙে যায় জার্মানির বহুদিনের অপরাজেয় রেকর্ড।

বোস্টনের ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখলে ছিল জার্মানি। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করে দক্ষিণ আমেরিকার দলই। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে জার্মানি সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে জার্মানি। তার ফলও মেলে দ্রুত। ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গোল শোধ করার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, লিরয় সানে, হাভার্টজরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিল।

অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল। জনাথন টাহের হেডে গোল হলেও ভিএআরের সাহায্যে সেটি বাতিল করেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে ভালডেমার আন্টন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ওপর ফাউল করেছিলেন। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জার্মানি। প্রথম শট নিতে এসে ব্যর্থ হন কাই হাভার্টজ। তাঁর শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন অরলান্দো হিল। পরে জোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা সফল হলেও চতুর্থ শটে নিক ভোল্টেমাডের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন হিল। অন্যদিকে প্যারাগুয়েরও দুটি শট ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচ শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩।

সাডেন ডেথে ভাগ্য পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেয় জার্মানির। জনাথন টাহের শট লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোসে কানালে নিখুঁত শটে জাল কাঁপিয়ে প্যারাগুয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। সঙ্গে নিশ্চিত হয় শেষ ষোলোর টিকিট।

এই জয়ের নেপথ্যের নায়ক নিঃসন্দেহে গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। টাইব্রেকারে দুটি শট রুখে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের ১২০ মিনিটে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত জার্মানির আক্রমণভাগকে হতাশ করে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টাইব্রেকারে বরাবরই সফল ছিল জার্মানি। এর আগে চারবার টাইব্রেকারে নেমে একবারও হারেনি তারা। কিন্তু সেই গৌরবময় রেকর্ড এবার ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নকআউট পর্বেই এমন স্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল তারা।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির হতাশা আরও দীর্ঘ হলো। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটে উঠেও প্রথম ম্যাচে বিদায় নিতে হলো তাদের। আর বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটন ঘটিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে শেষ ষোলোয় পা রাখল প্যারাগুয়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জার্মানিকে বিদায় করে শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে

আপডেট সময় : ১২:৪০:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম বড় অঘটন ঘটিয়ে দিল প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে গিয়ে ভেঙে যায় জার্মানির বহুদিনের অপরাজেয় রেকর্ড।

বোস্টনের ম্যাচে শুরু থেকেই বলের দখলে ছিল জার্মানি। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানালেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। বরং সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম গোলটি করে দক্ষিণ আমেরিকার দলই। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে জার্মানি সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও সফল হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে মাঠে নামে জার্মানি। তার ফলও মেলে দ্রুত। ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গোল শোধ করার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় জার্মানি। ফ্লোরিয়ান ভির্টৎজ, লিরয় সানে, হাভার্টজরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো হিল।

অতিরিক্ত সময়ে জার্মানি একবার বল জালেও পাঠিয়েছিল। জনাথন টাহের হেডে গোল হলেও ভিএআরের সাহায্যে সেটি বাতিল করেন রেফারি। রিপ্লেতে দেখা যায়, গোলের আগে ভালডেমার আন্টন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের ওপর ফাউল করেছিলেন। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জার্মানি। প্রথম শট নিতে এসে ব্যর্থ হন কাই হাভার্টজ। তাঁর শট দুর্দান্তভাবে রুখে দেন অরলান্দো হিল। পরে জোশুয়া কিমিখ ও জামাল মুসিয়ালা সফল হলেও চতুর্থ শটে নিক ভোল্টেমাডের প্রচেষ্টাও ঠেকিয়ে দেন হিল। অন্যদিকে প্যারাগুয়েরও দুটি শট ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচ শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩।

সাডেন ডেথে ভাগ্য পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে নেয় জার্মানির। জনাথন টাহের শট লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। সুযোগ কাজে লাগিয়ে হোসে কানালে নিখুঁত শটে জাল কাঁপিয়ে প্যারাগুয়েকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন। সঙ্গে নিশ্চিত হয় শেষ ষোলোর টিকিট।

এই জয়ের নেপথ্যের নায়ক নিঃসন্দেহে গোলরক্ষক অরলান্দো হিল। টাইব্রেকারে দুটি শট রুখে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের ১২০ মিনিটে তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত জার্মানির আক্রমণভাগকে হতাশ করে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে টাইব্রেকারে বরাবরই সফল ছিল জার্মানি। এর আগে চারবার টাইব্রেকারে নেমে একবারও হারেনি তারা। কিন্তু সেই গৌরবময় রেকর্ড এবার ভেঙে দিল প্যারাগুয়ে। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নকআউট পর্বেই এমন স্মরণীয় জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল তারা।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির হতাশা আরও দীর্ঘ হলো। গত দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার নকআউটে উঠেও প্রথম ম্যাচে বিদায় নিতে হলো তাদের। আর বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটন ঘটিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভর করে শেষ ষোলোয় পা রাখল প্যারাগুয়ে।