অবিশ্বাস্য গল্প লিখল বেলজিয়াম, সেনেগালের বিদায়
- আপডেট সময় : ১১:১৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
- / 9
বেলজিয়ামের সৃজনশীল ফুটবলের সামনে আফ্রিকার অদম্য লড়াইয়ের প্রতীক সেনেগাল এগিয়ে গেল জোড়া গোলে। সেটি তারা ধরে রাখল নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগ পর্যন্ত। কিন্তু শেষের নাটকীয়তায় জিতল বেলজিয়াম। অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর টিকিট কাটল রুডি গার্সিয়ার দল।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল স্টেডিয়ামে সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। প্রথমার্ধে হাবিব দিয়ারার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেনেগাল লিড দ্বিগুণ করে ইসমাইল সারের গোলে। শেষ দিকে বেলজিয়ামের হয়ে ব্যবধান কমানো গোল দুটি করেন রোমেলু লুকাকু ও ইউরি টিলেমানস। আর অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোলটিও করেন টিলেমানস।
এদিন নবম মিনিটে ডান দিক দিয়ে টিমোথি কাস্তানিয়ে ওভারল্যাপিং করে উপরে উঠেন। তাঁর দেওয়া থ্রু বলে বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ড লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড ডান দিকের নিচের কোণায় জোরাল শট নেন, কিন্তু সেনেগাল গোলকিপার মোরি দিয়াও দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দেন।
১৪ মিনিটে সেনেগালের লেফট-ব্যাক ইসমাইল জ্যাকব বাম দিক দিয়ে দ্রুতগতিতে উপরে উঠেন। বক্সে ঢুকে শটও নেন, কিন্তু পোস্টের ৬ গজ দূরত্বে বেলজিয়াম গোলকিপার থিবো কর্তোয়ার ডাইভিংয়ের পর বল তাঁর নিচ দিয়ে পোস্টের কোনায় গড়িয়ে যাচ্ছিল। দৌড়ে গিয়ে ফিরতি শট নেন ইসমাইল সার, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড। ভালো সুযোগ হারায় আফ্রিকানরা।
তবে লিড নিতে খুব একটা দেরি করেনি সেনেগাল। ২৫ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। বাম দিকে বক্সের একটু সামনে থেকে ক্রস দেন সাদিও মানে, লাফিয়ে উঠে হেড নেওয়ার পর পোস্টে লেগে ফিরে আসলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ডান পায়ের শটে জাল কাঁপান দিয়ারা। সেনেগালের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ গোলের দেখা পেলেন ইংল্যান্ডের সান্ডারল্যান্ডে খেলা এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার।
ম্যাচের প্রথম ভালো আক্রমণ বেলজিয়াম করলেও পরের সময়টা প্রভাব বিস্তার করেছে সেনেগাল। বিশেষ করে টেকনিকে তাদের সঙ্গে যেন পিছিয়ে পড়ছিল ইউরোপের দেশটি।
আক্রমণের সময় সেনেগাল খেলছিল ৪-৩-৩ ফর্মেশন মেনে। কিন্তু বলের দখল না থাকলে আবার ৪-৫-১ নেমে যায় তারা। সেনেগালের এই ফর্মেশন জটিলতার কারণে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে হিমশিম খাচ্ছিল বেলজিয়াম। দুই পাশের দুই উইঙ্গার জেরেমি ডোকু ও ট্রোসার্ডের ওপর বেলজিয়াম অনেকটাই নির্ভরশীল, যদিও প্রথমার্ধে তারা সে অর্থে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি।
৪৫ মিনিটে সেনেগাল গোলকিপারের দারুণ সেভে গোল পায়নি বেলজিয়াম। বক্সের সামনে বা দিকে ছোট পাস দেন কেভিন ডি ব্রুইনে; কোনা থেকে গতিময় শট নেন ম্যাক্সিম ডে কুইপার, কিন্তু দারুণ ক্ষীপ্রতায় বল কর্নারে ঠেলে দেন দিয়াও। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেনেগাল।
বিরতি থেকে রোমেলু লুকাকুকে নিয়ে মাঠে নামে বেলজিয়াম। ৫১ মিনিটে গোছাল আক্রমণে পর বক্সের সামনে থেকে নেওয়া দিয়ারার শট লাগে পোস্টে। কয়েক সেকেন্ড পর আরেকটি আক্রমণ থেকে গোল আদায় করে সেনেগাল।
নিজেদের অর্ধ থেকে মুসা নিয়াখাতের লম্বা পাস, বেলজিয়াম ডিফেন্ডার ব্র্যান্ডন মেখেলে বেশ পেছনে ছিলেন, আর তাঁর পেছন থেকেই দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেলেন সার। সেনেগালের এই ফরোয়ার্ড বুক দিয়ে চমৎকারভাবে বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন, এরপর কর্তোয়াকে পরাস্ত করে হাফ-ভলিতে বল জালে জড়ান। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তেরেঙ্গার সিংহরা।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। যদিও কার্যকরী কোনো আক্রমণ শানাতে পারেনি তারা। ৭৮ মিনিটে দোদি লুকেবাকিওর দূরপাল্লার শট চলে যায় পোস্টের সামান্য উপরে দিয়ে।
৮৬ মিনিটে সাদিও মানে একাই পেয়েছিলেন বেলজিয়ামের গোলকিপারকে। কিন্তু তাঁর নিচু শট আটকে দেন কর্তোয়া। কয়েক সেকেন্ড পর প্রতি আক্রমণে বক্সে ক্রস পেয়ে প্লেসিং শটে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে জালে বল জড়িয়ে খেলা জমিয়ে তোলের লুকাকু।
এক গোল শোধের পর সিয়াটলে যা হলো তা রীতিমত মহানাটক। বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরে আসল অবিশ্বাস্যভাবে। তিন মিনিটের মধ্যে ২ গোল দিয়ে সমতায় ফিরল ইউরোপের কালো ঘোরারা। ৮৯ মিনিটে ট্রোসার্ড দূরের পোস্টে একটি উঁচু ক্রস ভাসিয়ে দিয়েছিলেন, যেখানে ইউরি টিলেমানস অসহায় দিয়াওকে টপকে গিয়ে ফাঁকা জালে হেডে বল পাঠান। ওই গোলের পর ২-২ সমতা নিয়ে অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু করে দুই দল।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে সে অর্থে কোনো দলই সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। দুই দল মিলে শট নিয়েছে মোটে একটি, সেটি বেলজিয়ামের। তবে ১০৫ মিনিটের মাথায় বক্সে দারুণ ক্রস পেয়েছিলেন ট্রোসার্ড। কিন্তু তিনি বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। দূরে থাকা লুকাকু তাতে হতাশা হয়ে পড়েন।
সেনেগাল চাপ বাড়ায় অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে। ১০৯ মিনিটে শট নিয়েছিলেন ইব্রাহিম এমবায়ে, কিন্তু গোলের আক্ষেপ বাড়িয়ে তাঁর বল চলে যায় পোস্টের পাশ দিয়ে।
কিন্তু এর থেকেও বড় আক্ষেপে পুড়তে বসেছিল বেলজিয়াম। কিন্তু পেনাল্টি পেলে আক্ষেপ আর দীর্ঘায়িত হয়নি। ঘটনা খেলার একদম শেষ মুহূর্তের। মোরেইরার বাম দিকের ক্রস প্রতিহত হয়ে লুকেবাকিওর কাছে যায়, কিন্তু এই উইঙ্গার ডান পায়ের শটে ক্রসবার কাঁপান। নিয়ার পোস্টে টিলেমানসকে ফাউল করার জন্য বেলজিয়াম পেনাল্টি দাবি করে। ভিএআর রিভিউয়ে যায় সিদ্ধান্ত। আর সেটি যায় বেলজিয়ামের পক্ষে। সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না সেনেগালের খেলোয়াড়েরা। মাঠেই প্রতিক্রিয়া দেখান তারা।
এরপর সফল স্পট কিকে বেলজিয়ামকে শেষ ষোলোয় নিয়ে যান টিলেমানস। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে যুক্তরাষ্ট্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ম্যাচের জয়ী দল।

























২৪ ঘন্টায় হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু