টানা বৃষ্টিতে অস্থির রাজধানীর বাজার
- আপডেট সময় : ০২:১১:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 20
বৃষ্টির অজুহাতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে সবজির দাম। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে বিক্রেতারা প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।
বাজারে মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও বেশি দামে থাকায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়, আর ডিম ১৩০ টাকা ডজন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারগুলোতে করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটো প্রকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা এবং হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনে পাতা ২৫০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে লাল শাক আঁটি প্রতি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৪০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ঢাকায় সবজির ট্রাক কম আসছে। ফলে বাজার কিছুটা চড়া রয়েছে।
এদিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া বাজারের নিয়মিত ক্রেতা জয়নাল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আকাশে মেঘ দেখলেই পণ্যের দামের পারদ ওপরে উঠে যায়। বৃষ্টি হলে নাকি মাল আসে না, অথচ বাজারে এসে দেখি কোনো সবজির ঘাটতি নেই। সব দোকানেই ভরপুর মাল, শুধু দামটাই বাড়তি।
এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি। সোনালি কক মুরগি ৩৩০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৪০ টাকা, ব্রয়লার ১৬৫ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডিম ব্যবসায়ী মাসুম বলেন, ডিমের দাম আগের তুলনা ১০–১৫ টাকা ডজনে বেড়েছে। এক ডজন সাদা ব্রয়লার মুরগির ডিমের দাম ১২০ টাকা আর ব্রাউন কালারের ১৩০টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ১১০ থেকে ১১৫ টাকা ডজন ছিল।
প্রতি কেজি গরুর মাংসের কেজি ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস কিনতে গেলে কেজিতে খরচ করতে হবে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।
চালের বাজারে নতুন করে দাম না বাড়লেও আগের তুলনায় কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বর্তমানে মিনিকেট চাল ৭৫ টাকা, মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৯০ টাকা এবং চিনিগুড়া চাল ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
কয়েকটি মাছের দাম বেশ চড়া দেখা গেছে। ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি মাছ ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা।
বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায়, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৪০০ টাকায় এবং পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায়ের বাজারের মাছের ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন বলেন, মাছের বাজার কয়েক মাস ধরে প্রায় একই রয়েছে। তার দাবি, চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল, বড় আকারের রুই– এসব মাছের দাম সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। কারণ, মোটামুটি সামর্থ্যবান মানুষ এসব মাছ কেনেন। তবে ইলিশের দাম এত বেশি হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।
এই মাছ বিক্রেতা বলেন, গত তিন-চার বছরে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে ইলিশের। কারণ, বাজারে মাছের চেয়ে ক্রেতা বেশি।
বাজারে মাছ কিনতে আসা ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, ‘শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি কিনেছি। ভেটকি ৪০০ টাকায় নিয়েছে। সব মাছের দাম বেশি। বৃষ্টি কারণে দাম বেশি কিনা জানি না।
সাধারণ ক্রেতা এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও বাজারে যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। নিয়মিত এবং কঠোর বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন।























দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি পদক্ষেপ