ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিশেষ সতর্কীকরণ নোটিশ ::
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করা হবে। এ জন্য ০১৩১৮২৩৪৯৬২, ০১৩১৮২৩৪৯৬৩, ০১৩২১১৩৯৫৪২ ও ০১৭০৯৬৫৪৭৯১ মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া ffwcbwdb@gmail.com এবং ffwc05@yahoo.com ই-মেইলেও তথ্য পাওয়া যাবে।

একটানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কলকাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • / 4

টানা দুদিনের বৃষ্টিতে কার্যত পানির নিচে তলিয়ে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ভেঙে পড়েছে গাছ, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। এদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

মূলত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে, কোথাও পানিতে ডুবে গেছে গাড়ি। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে বেহাল চিত্র দেখা গেছে কলকাতাজুড়ে। কালো মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে শহর থেকে জেলা— সবখানেই চলছে বৃষ্টিপাত। এর ফলে বেহালা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার একাধিক সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ঝড়বৃষ্টির কারণে স্ট্র্যান্ড রোডে স্টেট ব্যাংকের সদর দপ্তরের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টানা বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কলকাতা পৌরসভার অধিকাংশ পাম্পিং স্টেশন সচল রাখা হলেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তবে বৃষ্টি কমলেই দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে একটি সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুই আবহাওয়াগত কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করছে। ফলে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এমন অবস্থায় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।

এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সপ্তাহের শেষদিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে ভারতের ২২টি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পর্যটকদের উত্তাল সমুদ্রে নামা থেকে বিরত রাখতে সমুদ্রসৈকতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকাগুলোতেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

একটানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কলকাতা

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা দুদিনের বৃষ্টিতে কার্যত পানির নিচে তলিয়ে গেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ভেঙে পড়েছে গাছ, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। এদিকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

মূলত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে টানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে কোথাও গাছ ভেঙে পড়েছে, কোথাও পানিতে ডুবে গেছে গাড়ি। সকাল থেকেই বৃষ্টিতে বেহাল চিত্র দেখা গেছে কলকাতাজুড়ে। কালো মেঘে ঢাকা আকাশের নিচে শহর থেকে জেলা— সবখানেই চলছে বৃষ্টিপাত। এর ফলে বেহালা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন এলাকা এবং জেলার একাধিক সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে ঝড়বৃষ্টির কারণে স্ট্র্যান্ড রোডে স্টেট ব্যাংকের সদর দপ্তরের কাছে একটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত গাছ সরানোর কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

টানা বৃষ্টিতে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য কলকাতা পৌরসভার অধিকাংশ পাম্পিং স্টেশন সচল রাখা হলেও টানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তবে বৃষ্টি কমলেই দ্রুত পানি নেমে যাবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে একটি সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুই আবহাওয়াগত কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করছে। ফলে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এমন অবস্থায় হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, দক্ষিণবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।

এছাড়া পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। সপ্তাহের শেষদিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এ সময় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

এদিকে আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি এলাকায় লাল সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে ভারতের ২২টি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পর্যটকদের উত্তাল সমুদ্রে নামা থেকে বিরত রাখতে সমুদ্রসৈকতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুন্দরবন এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকাগুলোতেও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।