ঢাকা ১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপের গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার জিতলেন সিডনি লোপেস কাব্রাল

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 4

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেরা গোলের পুরস্কার জিতেছেন কেপ ভার্দের ফুটবলার সিডনি লোপেস কাব্রাল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর ম্যাচে করা তার অসাধারণ গোলটি নির্বাচিত হয়েছে হুন্দাই ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হিসেবে।

ম্যাচের আগে লোপেস কাব্রাল বলেছিলেন, ‘আমি আশা করছি, মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলতে পারব।’ পরে শুধু মেসির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোই নয়, নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বের নজরও কেড়ে নেন এই কাবো ভার্দের তারকা।

মায়ামির মাঠে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াইয়ে কেপ ভার্দের ছোট দলটি যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলেছিল, তখনই জ্বলে ওঠে লোপেস কাব্রালের ডান পা।

অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠান এমিলিয়ানো মার্তিনেজের গোলপোস্টের ওপরের কোণে। তার সেই গোলেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।

পরে ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরে গেলেও, লোপেস কাব্রালের সেই মুহূর্তটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দৃশ্য হয়ে থেকে যায়।

এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোর দুর্দান্ত গোলকে। এর আগে, এই পুরস্কার জিতেছিলেন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেঞ্জামিন প্যাভার্ড এবং রিচার্লিসনের মতো তারকারা।

লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পার হওয়ার পর আমি একটু জায়গা দেখতে পাই এবং মনে হলো, চেষ্টা করে দেখি। আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। আমি ওপরের কোণ লক্ষ্য করেছিলাম এবং সেভাবেই বলটি মেরেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বল যখন গোলের ওপরের কোণের দিকে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, আমি আসলে কী করে ফেললাম! আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে দেখি, সবাই চিৎকার করছে, মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে গেছে।’

গোলের পর নিজের উদযাপনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেই গোল করার মুহূর্তের উত্তেজনায় কিছু না ভেবেই দৌড় শুরু করেছিলেন। পরে মনে হলো, আমি বিশ্বকাপে গোল করেছি। সবাই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপে গোল করার। কিন্তু এত বড় মঞ্চে, এত বড় একটি দলের বিপক্ষে এমন গোল করা, এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমি খুব খুশি ছিলাম।’

মায়ামি স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৬৫ হাজার দর্শক এবং বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন সেই উদযাপনের দৃশ্য। তবে লোপেস কাব্রালের আনন্দের মুহূর্তে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, তার গোলের পর আবেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তার মা তেরেসা।

লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি আমার মা ও বান্ধবীকে বলেছিলাম, গোল করলে আমি তাদের কাছে ছুটে যাব। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মা কাঁদছেন। তিনি বুঝতেই পারেননি যে আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সবাই তখন তাকে সামলাতে ব্যস্ত ছিল, কারণ গোলের পর তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।’

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ছেলে লিলিয়ান থুরামের গোল দেখে তার মা জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এবার সেই আবেগঘন ঘটনার সঙ্গে নিজের নামও জড়িয়ে ফেললেন লোপেস কাব্রাল।

ফুটবল বিশ্বের আরেক কিংবদন্তি, ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা মার্সেলোও তার গোলের প্রশংসা করেছেন। লোপেস কাব্রাল জানান, ম্যাচের পর মার্সেলো তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে তিনি লোপেস কাব্রালের গোলকে ভোট দিয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, ‘মার্সেলো আমার অন্যতম বড় আদর্শ। তিনি একজন লেফটব্যাক, দুই পায়ে খেলতে পারেন এবং তার টেকনিক অসাধারণ। তিনি যখন বললেন যে আমার গোলকে সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

লোপেস কাব্রালের ক্যারিয়ারের উত্থানও রূপকথার মতো। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ফুটবল খেলতেন। তখন তার থাকার ঘরে পর্দার পরিবর্তে ব্যবহার করতে হতো প্লাস্টিকের ব্যাগ।

সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে এসে এখন জিতেছেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। লোপেস কাব্রালের গল্প যেন প্রমাণ করে—ফুটবলে অসম্ভব বলে আসলে কিছুই নেই।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার জিতলেন সিডনি লোপেস কাব্রাল

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেরা গোলের পুরস্কার জিতেছেন কেপ ভার্দের ফুটবলার সিডনি লোপেস কাব্রাল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘রাউন্ড অব ৩২’-এর ম্যাচে করা তার অসাধারণ গোলটি নির্বাচিত হয়েছে হুন্দাই ‘গোল অব দ্য টুর্নামেন্ট’ হিসেবে।

ম্যাচের আগে লোপেস কাব্রাল বলেছিলেন, ‘আমি আশা করছি, মেসির পাশে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলতে পারব।’ পরে শুধু মেসির সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়ানোই নয়, নিজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্বের নজরও কেড়ে নেন এই কাবো ভার্দের তারকা।

মায়ামির মাঠে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াইয়ে কেপ ভার্দের ছোট দলটি যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চাপে ফেলেছিল, তখনই জ্বলে ওঠে লোপেস কাব্রালের ডান পা।

অতিরিক্ত সময়ের রোমাঞ্চকর সেই ম্যাচে, আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে কাটিয়ে বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত বাঁকানো শটে বল পাঠান এমিলিয়ানো মার্তিনেজের গোলপোস্টের ওপরের কোণে। তার সেই গোলেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।

পরে ম্যাচে ৩-২ গোলে হেরে গেলেও, লোপেস কাব্রালের সেই মুহূর্তটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দৃশ্য হয়ে থেকে যায়।

এই পুরস্কারের দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন উজবেকিস্তানের এলদর শোমুরোদভ এবং হাইতির উইলসন ইসিদোর দুর্দান্ত গোলকে। এর আগে, এই পুরস্কার জিতেছিলেন ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, দিয়েগো ফোরলান, হামেস রদ্রিগেজ, বেঞ্জামিন প্যাভার্ড এবং রিচার্লিসনের মতো তারকারা।

লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘প্রতিপক্ষকে ড্রিবল করে পার হওয়ার পর আমি একটু জায়গা দেখতে পাই এবং মনে হলো, চেষ্টা করে দেখি। আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। আমি ওপরের কোণ লক্ষ্য করেছিলাম এবং সেভাবেই বলটি মেরেছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বল যখন গোলের ওপরের কোণের দিকে যাচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, আমি আসলে কী করে ফেললাম! আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে দেখি, সবাই চিৎকার করছে, মাথায় হাত দিয়ে অবাক হয়ে গেছে।’

গোলের পর নিজের উদযাপনের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সেই গোল করার মুহূর্তের উত্তেজনায় কিছু না ভেবেই দৌড় শুরু করেছিলেন। পরে মনে হলো, আমি বিশ্বকাপে গোল করেছি। সবাই স্বপ্ন দেখে বিশ্বকাপে গোল করার। কিন্তু এত বড় মঞ্চে, এত বড় একটি দলের বিপক্ষে এমন গোল করা, এটা অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমি খুব খুশি ছিলাম।’

মায়ামি স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রায় ৬৫ হাজার দর্শক এবং বিশ্বের কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন সেই উদযাপনের দৃশ্য। তবে লোপেস কাব্রালের আনন্দের মুহূর্তে ঘটে যায় আরেক ঘটনা, তার গোলের পর আবেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তার মা তেরেসা।

লোপেস কাব্রাল বলেন, ‘ম্যাচের আগে আমি আমার মা ও বান্ধবীকে বলেছিলাম, গোল করলে আমি তাদের কাছে ছুটে যাব। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি, আমার মা কাঁদছেন। তিনি বুঝতেই পারেননি যে আমি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। সবাই তখন তাকে সামলাতে ব্যস্ত ছিল, কারণ গোলের পর তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।’

১৯৯৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে সেমিফাইনালে ছেলে লিলিয়ান থুরামের গোল দেখে তার মা জ্ঞান হারিয়েছিলেন। এবার সেই আবেগঘন ঘটনার সঙ্গে নিজের নামও জড়িয়ে ফেললেন লোপেস কাব্রাল।

ফুটবল বিশ্বের আরেক কিংবদন্তি, ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা মার্সেলোও তার গোলের প্রশংসা করেছেন। লোপেস কাব্রাল জানান, ম্যাচের পর মার্সেলো তাকে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে তিনি লোপেস কাব্রালের গোলকে ভোট দিয়েছেন।

২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার বলেন, ‘মার্সেলো আমার অন্যতম বড় আদর্শ। তিনি একজন লেফটব্যাক, দুই পায়ে খেলতে পারেন এবং তার টেকনিক অসাধারণ। তিনি যখন বললেন যে আমার গোলকে সেরা হিসেবে ভোট দিয়েছেন, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’

লোপেস কাব্রালের ক্যারিয়ারের উত্থানও রূপকথার মতো। মাত্র তিন বছর আগেও তিনি জার্মানির পঞ্চম বিভাগের ফুটবল খেলতেন। তখন তার থাকার ঘরে পর্দার পরিবর্তে ব্যবহার করতে হতো প্লাস্টিকের ব্যাগ।

সেখান থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে উঠে এসে এখন জিতেছেন ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার। লোপেস কাব্রালের গল্প যেন প্রমাণ করে—ফুটবলে অসম্ভব বলে আসলে কিছুই নেই।