ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 3

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, একই ব্যক্তির নামে রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়। তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে দল আগাম কোনো ঘোষণা দেবে না। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই প্রার্থীর নাম জানা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এরই মধ্যে জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সূত্রের দাবি, গত শনিবার মির্জা ফখরুল ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলা

বিএনপির সূত্র বলছে, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর এবার সেই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রথম পছন্দ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সামনে এসেছে।

১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হলেও বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যান মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল!

আপডেট সময় : ০৫:১৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। একই দলের পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানিয়েছে, একই ব্যক্তির নামে রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়। তবে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থীই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা বুধবার গণমাধ্যমকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব চেয়ারম্যানের ওপর দিয়েছে। তাই এ বিষয়ে দল আগাম কোনো ঘোষণা দেবে না। বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ই প্রার্থীর নাম জানা যাবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।

এদিকে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অনেকটাই নিশ্চিত বলে জানা গেছে। দলটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এরই মধ্যে জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছেন।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সূত্রের দাবি, গত শনিবার মির্জা ফখরুল ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।

গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতিতে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ পথচলা

বিএনপির সূত্র বলছে, সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর পর এবার সেই নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রথম পছন্দ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সামনে এসেছে।

১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একই সময়ে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের কাছে পরাজিত হলেও বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যান মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। পরে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি ভারমুক্ত হয়ে মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।