ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ভারতের তৈরি আধুনিক ১৯ কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি ১৯টি সর্বাধুনিক এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম চালান উন্মোচন করেছে ভারতের রেলকোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ)।

বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় আরসিএফ কারখানায় নতুন এই রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

নতুন এই রেকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের রেল যোগাযোগের অংশীদারত্বে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হলো।

প্রথম চালানে রয়েছে মোট ১৯টি কোচ। এর মধ্যে ৩টি এসি স্লিপার কার, ৩টি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং ২টি পাওয়ার কার।

বাংলাদেশের যাত্রীদের চাহিদা ও স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনায় কোচগুলোতে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানিসহ আধুনিক হেলান দেওয়া চেয়ার। নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও জরুরি অ্যালার্ম ব্যবস্থা। এসি কোচে রয়েছে অতিরিক্ত ফ্যান। সুবিধাজনক জানালার পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ প্রার্থনা কক্ষ ও শিশু পরিচর্যা কক্ষ।

কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎসব বা অতিরিক্ত যাত্রীচাপের সময় ছাদে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভার সামলাতে ছাদের কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুসরণ করে কোচগুলোতে ‘সংঘর্ষ-সহনশীল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলে প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলো ৪১৫ ভোল্ট সিস্টেমে চলার উপযোগী করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি কোচ সরবরাহ করেছিল ভারতের আরসিএফ। সেই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ভারতীয় সংস্থা রাইটসের মাধ্যমে আরও ২০০টি নতুন কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আরসিএফে উন্মোচিত ১৯টি কোচের এই চালান সেই কার্যাদেশেরই প্রথম হস্তান্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রেলবহরে যুক্ত হচ্ছে ভারতের তৈরি আধুনিক ১৯ কোচ

আপডেট সময় : ০২:১৪:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি ১৯টি সর্বাধুনিক এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম চালান উন্মোচন করেছে ভারতের রেলকোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ)।

বুধবার (১২ আগস্ট) ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় আরসিএফ কারখানায় নতুন এই রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়।

নতুন এই রেকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের রেল যোগাযোগের অংশীদারত্বে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হলো।

প্রথম চালানে রয়েছে মোট ১৯টি কোচ। এর মধ্যে ৩টি এসি স্লিপার কার, ৩টি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং ২টি পাওয়ার কার।

বাংলাদেশের যাত্রীদের চাহিদা ও স্থানীয় পরিবেশ বিবেচনায় কোচগুলোতে বেশ কিছু নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পাদানিসহ আধুনিক হেলান দেওয়া চেয়ার। নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও জরুরি অ্যালার্ম ব্যবস্থা। এসি কোচে রয়েছে অতিরিক্ত ফ্যান। সুবিধাজনক জানালার পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ প্রার্থনা কক্ষ ও শিশু পরিচর্যা কক্ষ।

কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎসব বা অতিরিক্ত যাত্রীচাপের সময় ছাদে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভার সামলাতে ছাদের কাঠামো শক্তিশালী করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুসরণ করে কোচগুলোতে ‘সংঘর্ষ-সহনশীল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলে প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলো ৪১৫ ভোল্ট সিস্টেমে চলার উপযোগী করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি কোচ সরবরাহ করেছিল ভারতের আরসিএফ। সেই চুক্তির সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ভারতীয় সংস্থা রাইটসের মাধ্যমে আরও ২০০টি নতুন কোচ তৈরির কার্যাদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

আরসিএফে উন্মোচিত ১৯টি কোচের এই চালান সেই কার্যাদেশেরই প্রথম হস্তান্তর।