ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’: গোলাম পরওয়ার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 3

‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সেখানে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বেড়ে জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তারা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়েছিল। এখন আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে।’

দেশকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তখন সরকার গদি রক্ষা করতে পারবে না বলে সতর্ক করেন গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে।’ সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে’ তারা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতিটি সেক্টর জড়িত থাকায় তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে। জনগণের কথা বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনে দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন সাদিক কায়েম।

তিনি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।

তিনি বলেন, পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাদের অংশগ্রহণে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভূতে ধরেছে বলেই সরকার একের পর এক গণবিরোধী কাজ করছে।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সেখানে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার গণভোটের রায় মেনে নেয়নি। সংসদে জুলাই সনদ অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ বাতিল করেছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি সরাসরি জনগণের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে দ্রব্যমূল্যসহ সবকিছুর দাম বেড়ে জনগণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তারা তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু তখনও সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী টুকুর ব্যর্থতায় সরকার বেকায়দায় পড়েছিল। এখন আবার তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জনগণ এখন আর বলেন না, বিদ্যুৎ যায় আর আসে; জনগণ বলে টুকু যায় আর আসে।’

দেশকে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষা করতে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তা না হলে জনগণ যেভাবে লংমার্চে রাজপথে নেমে এসেছে, পরে গ্রামগঞ্জ থেকে মানুষ লংমার্চ নিয়ে ঢাকার দিকে ছুটবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তখন সরকার গদি রক্ষা করতে পারবে না বলে সতর্ক করেন গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার রাতের অন্ধকারে প্রতি লিটার তেলের দাম ২০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছে।’ সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের ঘাড়ে ভোগান্তির বোঝা চাপিয়েছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সর্বস্তরে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি চলছে। পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিতে মানুষ উদ্বিগ্ন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং করে’ তারা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অবিলম্বে গভীর রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসে তিনবার তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে প্রতিটি সেক্টর জড়িত থাকায় তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সব সেক্টরে পড়ে। জনগণের কথা বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের স্বার্থে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী সাদিক কায়েম বলেন, গত সাত মাসে বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার জন্য জনগণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।

তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধান করতে না পারলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনে দলীয়করণ এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন সাদিক কায়েম।

তিনি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার কথা বলে তেলের দাম বৃদ্ধি করছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যার চেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সিন্ডিকেট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা।

তিনি বলেন, পে-স্কেল দেওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের পকেট থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাদের অংশগ্রহণে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।