ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 1

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

একই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।

সভায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই দুর্গাপূজার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে এবার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি জানান, এবার পূজামণ্ডপের সরকারি বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগের চার কোটি টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর যেখানে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপ ছিল, এবার তা বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ হয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তাবোধের একটি প্রতিফলন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং:
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে ব্যবহৃত একটি অ্যাপ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে যাতে দ্রুত বিষয়টি জানা যায় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, সে লক্ষ্যেই অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং টিম থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বিদ্যুৎ না থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা:
পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্য ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জেনারেটরেও কোনো সমস্যা হলে চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পূজার ছুটি এবার কার্যত পাঁচ দিন:
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এবার তিন দিন করা হয়েছে। আগে সরকারি ছুটি ছিল একদিন। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরও একদিন বাড়ানো হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আরও একদিন বাড়িয়ে মোট তিনদিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি হবে বলেও জানান তিনি।

এখনো ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের তথ্য নেই:
কোনো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে কোথাও ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক রয়েছে।

পূজার প্রতিমা তৈরির সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট ও মানিকগঞ্জে প্রতিমা ভাঙচুরের খবরের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রচারিত খবর সঠিক হলে পুলিশ প্রধান বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে:
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময় থাকে এবং এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
নতুন করে তালিকা করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত আছে এবং আরও জোরদার করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখা হচ্ছে:

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলে সরকার সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার ও মামলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, কোনো ঘটনায় সরকার বা পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে ব্যর্থতার প্রশ্ন আসতে পারে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরের ঘটনায় সমন্বয়ের অভাবের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:
এদিন রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি তিনি তদন্ত করতে বলেছেন। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জেনেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট-রাজউক বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ সম্পন্ন করেননি। তার কাছে বিষয়টি সমন্বয়ের অভাব বলে মনে হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এক-দুইটি ঘটনা দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ঠিক হবে না:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, কোনো একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

একই সঙ্গে প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।

সভায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছরই দুর্গাপূজার আগে পর্যাপ্ত সময় হাতে রেখে নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে এবার ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি জানান, এবার পূজামণ্ডপের সরকারি বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আগের চার কোটি টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যাও বেড়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত বছর যেখানে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপ ছিল, এবার তা বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ হয়েছে। মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তাবোধের একটি প্রতিফলন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং:
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে ব্যবহৃত একটি অ্যাপ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো ধরনের অঘটন ঘটলে যাতে দ্রুত বিষয়টি জানা যায় এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়, সে লক্ষ্যেই অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং টিম থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে।

প্রতিটি পূজামণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, যাতে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

বিদ্যুৎ না থাকলেও বিকল্প ব্যবস্থা:
পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে যাতে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্য ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জেনারেটরেও কোনো সমস্যা হলে চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পূজার ছুটি এবার কার্যত পাঁচ দিন:
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এবার তিন দিন করা হয়েছে। আগে সরকারি ছুটি ছিল একদিন। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরও একদিন বাড়ানো হয়েছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আরও একদিন বাড়িয়ে মোট তিনদিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবার যুক্ত হওয়ায় কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি হবে বলেও জানান তিনি।

এখনো ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপের তথ্য নেই:
কোনো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করা হয়েছে কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে কোথাও ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিকভাবে সতর্ক রয়েছে।

পূজার প্রতিমা তৈরির সময় বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। সাংবাদিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিলেট ও মানিকগঞ্জে প্রতিমা ভাঙচুরের খবরের কথা উল্লেখ করলে তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রচারিত খবর সঠিক হলে পুলিশ প্রধান বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের তালিকা পুলিশের কাছে:
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময় থাকে এবং এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
নতুন করে তালিকা করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত আছে এবং আরও জোরদার করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখা হচ্ছে:

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করলে সরকার সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখে। ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেপ্তার ও মামলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, কোনো ঘটনায় সরকার বা পুলিশ ব্যবস্থা না নিলে ব্যর্থতার প্রশ্ন আসতে পারে। তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মিরপুরের ঘটনায় সমন্বয়ের অভাবের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:
এদিন রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে সংঘর্ষ, পুলিশের গাড়ি ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি তিনি তদন্ত করতে বলেছেন। প্রাথমিকভাবে যতটুকু জেনেছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট-রাজউক বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে সঠিকভাবে যোগাযোগ সম্পন্ন করেননি। তার কাছে বিষয়টি সমন্বয়ের অভাব বলে মনে হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এক-দুইটি ঘটনা দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ঠিক হবে না:
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার অব্যাহতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, কোনো একটা-দুইটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা সামনে নিয়ে এসে সার্বিক দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।