গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
- আপডেট সময় : ১১:৩১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
- / 38
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কোনো সুযোগ নেই, কারণ বিষয়টি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং তা গণভোটের পরেই নির্ধারিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সম্মিলিত কমিশন ইতোমধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করেছে সেখানে “ভিন্নমত নোট” বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে। সুতরাং, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেবল গণভোটের পরই কার্যকর হবে। এই পর্যায়ে এর কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।’
আজ (বুধবার, ২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘তারা (সম্মিলিত কমিশন) আমাদের স্বাক্ষরের জন্য আহ্বান জানিয়েছে এবং আমাদের উদ্বেগগুলো বিবেচনা করবে বলেছে। কমিশন তাদের সুপারিশ দিলে উপদেষ্টা পরিষদ সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।’
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর বিএনপি : ডা. জাহিদ
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সনদটিকে শুধু কাগজের দলিল হিসেবে দেখি না। বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা পেলে তবেই স্বাক্ষরের বিষয়ে বিবেচনা করব। যেহেতু জুলাই সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আমাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে, তাই আমরা সরকারের ও সম্মিলিত কমিশনের কাছে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’
নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে একটি সাংবিধানিক আদেশ জারির প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে, রাষ্ট্রপতির নয়।’
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘আজকের বৈঠকে জুলাই গণহত্যার বিচার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। আমরা দেখেছি, কিছু সামরিক কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই এবং বিচার অগ্রগতির জন্য সরকার ও ট্রাইব্যুনাল উভয়কেই ধন্যবাদ জানাই।’
তবে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মামলার অগ্রগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইসিটি ছাড়া শহীদ পরিবারের দায়ের করা অসংখ্য মামলা রয়েছে। আমরা পত্রিকায় দেখছি, অভিযুক্তদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে এবং তারা শহীদ ও জীবিত পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচারের একটি রূপরেখা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। এই রূপরেখা নির্বাচনের আগেই প্রকাশ করা উচিত।’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত সরকারেরই।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার একটি সমতল ক্ষেত্র ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করবে, যাতে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হয়।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা নিবন্ধন পাওয়া থেকে শুরু করে, জাতীয় লীগ নামে যে আরেকটা দলকে নিবন্ধন দেয়া হলো এবং শাপলা প্রতীক নিয়ে আমাদের সঙ্গে কীরকম আচরণ করা হচ্ছে এবং ইশরাক হোসেনের মামলায় নির্বাচন কমিশনের যে অবস্থান ছিল, নির্বাচন কমিশন যে আগের আইনে নিয়োগ হয়েছে। পুরো প্রসেসে নির্বাচন কমিশনের যে কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে যে, সে বিষয়টা আমরা তুলে ধরেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যদি প্রতীক না থাকে তাহলে তো আমাদের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না। আর অন্য কোনো প্রতীক আমরা নেবো না, এটা আমরা বলেছি। আমরা বলেছি, শাপলা কেন আমরা পাবো না, তার আইনি, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা আমাদের দিলে তখন আমরা অন্য প্রতীকের বিষয়ে বিবেচনা করবো। তার আগ পর্যন্ত সেটা যদি নির্বাচন কমিশন না দেয়, তার মানে সেটা শুধু প্রতীকের ইস্যু না, এটা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন।’
নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপি প্রতিনিধিদল বিকাল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রতিনিধিদলে ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামন্তা শারমিন ও খালেদ সাইফুল্লাহ এবং প্রধান সংগঠক (উত্তর) সারজিস আলম।






















এখন নতুন করে আরেকটি শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে: মির্জা ফখরুল