ঢাকা ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বর পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের অনুরোধ কৃষি উপদেষ্টার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 141
162

আলু চাষীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরাতন আলু সংরক্ষণ করতে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত আলু উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা বলেন, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লক্ষ মেট্রিক টন বেশি। ২০২৫ সালে আলুর উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি স্থানভেদে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ, পরিবহন, বস্তা, লেবার ও অন্যান্য খরচসহ কেজি প্রতি আলুর হিমাগার গেটে খরচ দাঁড়িয়েছে ২০-২৫ টাকা। বিপরীতে আলু চাষীরা হিমাগার গেটে ৮ থেকে ১৬ টাকা কেজি মূল্যে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি তাদের উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। ফলে আলু চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরাতন আলু সংরক্ষণ করতে কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাছাড়া এ বছর নতুন আলু বাজারে আসতে ১৫ দিন বেশি সময় লাগবে। তাই কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে বলে এতে স্টোরেজ মালিকরা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে খাদ্য উৎপাদনের কারিগর কৃষকরা লাভবান হবেন। তিনি এসময় কেজি প্রতি আলু উৎপাদনের খরচ কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

সবজির দামে নেই শীতের ছোঁয়া,পেঁয়াজে বাড়তি দাম

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। বাংলাদেশে মাত্র ২% আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয় অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যার পরিমাণ ৭%। তাই আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রক্রিয়াজাত উপযোগী আলুর উত্তম জাত নির্বাচন ও তার চাষাবাদ।

উপদেষ্টা বলেন, আমদানিকৃত আলু বীজের প্যাকেটে নির্দিষ্ট দাম লিখে দিতে হবে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

কৃষি উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তারপরও কিছু ব্যক্তির কারসাজিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩৫ টাকা বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তাদের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছি। বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা না নামা পর্যন্ত এ আমদানি চলবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে. ফজলুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের নেতা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হিমাগার মালিক, আলু চাষী কৃষক, ব্যবসায়িক নেতা ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসেম্বর পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণের অনুরোধ কৃষি উপদেষ্টার

আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
162

আলু চাষীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরাতন আলু সংরক্ষণ করতে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ (শুক্রবার) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রথমবারের মতো আয়োজিত আলু উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অনুরোধ জানান।

উপদেষ্টা বলেন, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১২ লক্ষ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লক্ষ মেট্রিক টন বেশি। ২০২৫ সালে আলুর উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি স্থানভেদে ১৪ থেকে ১৭ টাকা। হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ, পরিবহন, বস্তা, লেবার ও অন্যান্য খরচসহ কেজি প্রতি আলুর হিমাগার গেটে খরচ দাঁড়িয়েছে ২০-২৫ টাকা। বিপরীতে আলু চাষীরা হিমাগার গেটে ৮ থেকে ১৬ টাকা কেজি মূল্যে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি তাদের উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম। ফলে আলু চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরাতন আলু সংরক্ষণ করতে কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তাছাড়া এ বছর নতুন আলু বাজারে আসতে ১৫ দিন বেশি সময় লাগবে। তাই কৃষকদের বৃহত্তর স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে বলে এতে স্টোরেজ মালিকরা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে খাদ্য উৎপাদনের কারিগর কৃষকরা লাভবান হবেন। তিনি এসময় কেজি প্রতি আলু উৎপাদনের খরচ কমিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

সবজির দামে নেই শীতের ছোঁয়া,পেঁয়াজে বাড়তি দাম

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণে আলু উৎপাদিত হলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। বাংলাদেশে মাত্র ২% আলু প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয় অথচ বিশ্বের অন্যান্য দেশে যার পরিমাণ ৭%। তাই আলু প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপর আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে। আর এজন্য প্রয়োজন প্রক্রিয়াজাত উপযোগী আলুর উত্তম জাত নির্বাচন ও তার চাষাবাদ।

উপদেষ্টা বলেন, আমদানিকৃত আলু বীজের প্যাকেটে নির্দিষ্ট দাম লিখে দিতে হবে। এতে কৃষকরা উপকৃত হবেন।

কৃষি উপদেষ্টা আরও বলেন, এ বছর পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তারপরও কিছু ব্যক্তির কারসাজিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৩৫ টাকা বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তাদের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছি। বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা না নামা পর্যন্ত এ আমদানি চলবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ.কে. ফজলুল হক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের নেতা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হিমাগার মালিক, আলু চাষী কৃষক, ব্যবসায়িক নেতা ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন।