ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে ভয়াবহ জট, রমজানে পণ্যে সংকটের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 85
103

লাইটারেজ জাহাজের তীব্র সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। বন্দরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জট। এতে রমজানে দেশে নিত্য ও ভোগ্য পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

আমদানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু লাইটারেজ সংকটে এখন সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ দিন। ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

পবিত্র রমজানের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে তৈরি হয়েছে পণ্যবাহী বড় জাহাজের জট। চিনি, ডাল, গমসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেল ও শিল্প কাঁচামাল নিয়ে অপেক্ষায় আছে ১৩৪টি জাহাজ। এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে মিলছে না পর্যাপ্ত লাইটারেজ।

পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে রোডম্যাপ দিতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পণ্য নিয়ে যে অপেক্ষা। এতে বিশাল পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে যা আসবে সেটা কিন্তু আমদানিকারকদের বহন করতে হবে। এতে পণ্যের মূল্যও বাড়বে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা থাকছে। ডব্লিউটিসিসি বলছে, দেশের ৪১টি ঘাটে ৬৩১টি লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে আছে।

ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, বিভিন্ন জায়গা সারবোঝাই জাহাজ গেছে, সেখানে আপলোড হচ্ছে না। রমজান উপলক্ষে যেসব খাদ্যপণ্য যেমন– গম, চিকপি; এগুলো নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে নৌ পরিবহন বিভাগ। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, পণ্যগুলো সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে যেন তাদের গন্তব্যে চলে যায়, ব্যবসায়িক ফায়দার জন্য কেউ হয়তো এটা করতে পারে। তবে আমরা নজরদারি রেখেছি।

বহির্নোঙ্গরে শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, আটকে আছে বিভিন্ন শিল্পখাতের জরুরি কাঁচামালও।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্দরে ভয়াবহ জট, রমজানে পণ্যে সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৩৩:১৬ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
103

লাইটারেজ জাহাজের তীব্র সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। বন্দরে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ জট। এতে রমজানে দেশে নিত্য ও ভোগ্য পণ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

আমদানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। কিন্তু লাইটারেজ সংকটে এখন সময় লাগছে ২০ থেকে ৩০ দিন। ফলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ গুনতে হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

পবিত্র রমজানের আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে তৈরি হয়েছে পণ্যবাহী বড় জাহাজের জট। চিনি, ডাল, গমসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেল ও শিল্প কাঁচামাল নিয়ে অপেক্ষায় আছে ১৩৪টি জাহাজ। এসব জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে মিলছে না পর্যাপ্ত লাইটারেজ।

পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ইশতেহারে রোডম্যাপ দিতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পণ্য নিয়ে যে অপেক্ষা। এতে বিশাল পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে যা আসবে সেটা কিন্তু আমদানিকারকদের বহন করতে হবে। এতে পণ্যের মূল্যও বাড়বে।

অভিযোগ উঠেছে, অনেক আমদানিকারক পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির শঙ্কা থাকছে। ডব্লিউটিসিসি বলছে, দেশের ৪১টি ঘাটে ৬৩১টি লাইটার জাহাজ পণ্য নিয়ে আটকা পড়ে আছে।

ইনল্যান্ড ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব চিটাগংয়ের মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, বিভিন্ন জায়গা সারবোঝাই জাহাজ গেছে, সেখানে আপলোড হচ্ছে না। রমজান উপলক্ষে যেসব খাদ্যপণ্য যেমন– গম, চিকপি; এগুলো নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছে নৌ পরিবহন বিভাগ। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, পণ্যগুলো সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে যেন তাদের গন্তব্যে চলে যায়, ব্যবসায়িক ফায়দার জন্য কেউ হয়তো এটা করতে পারে। তবে আমরা নজরদারি রেখেছি।

বহির্নোঙ্গরে শুধু ভোগ্যপণ্য নয়, আটকে আছে বিভিন্ন শিল্পখাতের জরুরি কাঁচামালও।