ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 38

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।’

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, পাঁচ শতাধিক মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে।

তিনি আরও জানান, শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত হয়েছে।

‘নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে, বর্তমান সরকার আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে,’ যোগ করেন তিনি।

হট্টগোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু, ওয়াক আউট বিরোধী দলের

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে।

‘এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা জাতির নিকট দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আ.লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে ইসির প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে দেয়া ভাষণে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনআস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে।’

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, পাঁচ শতাধিক মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে।

তিনি আরও জানান, শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত হয়েছে।

‘নির্বাচন কমিশন যাতে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে বলীয়ান থাকতে পারে, বর্তমান সরকার আগামী দিনের নির্বাচনী কার্যক্রমে সেটি সমুন্নত রাখবে। নির্বাচন কমিশনের মতো দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইনানুযায়ী স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, বর্তমান সরকার সেটি নিশ্চিত করবে,’ যোগ করেন তিনি।

হট্টগোলের মধ্যে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু, ওয়াক আউট বিরোধী দলের

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ। সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ১৫ লাখের বেশি প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এটি নির্বাচন কমিশনের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যক্রমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা ও চর্চার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে।

‘এক্ষেত্রে নবগঠিত সরকারের সামনে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই বিরাট চ্যালেঞ্জ। পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়। সরকারি এবং বিরোধী দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করলে খুব সহজেই দ্রুততার সঙ্গে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।’

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘যেসব পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার জনরায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে, সে অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। জাতীয় অগ্রগতি ও উন্নয়নের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলীয় সম্মানিত সংসদ সদস্যরা জাতির নিকট দায়বদ্ধ। ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়—এ বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন করতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’