ঢাকা ১১:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে নির্বাচনের অপেক্ষায় তুরস্ক, প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনে আগ্রহ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 37

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

সোমবার (৬ অক্টোবর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আসেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনও ছিলেন।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

এক ঘণ্টারও অধিক সময়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুই দেশের মধ্যে আমাদের যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, তা জিয়াউর রহমানের সময় থেকে গড়ে উঠেছে। ওআইসিতে জিয়াউর রহমানসহ তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল—সেই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনে ওআইসিকে শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশ-সৌদি আরব চুক্তি স্বাক্ষর

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, সবক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। তুর্কি বিনিয়োগ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও কিভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কথা হয়েছে। আপনারা জানেন, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ— নাম দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে অধিক বিনিয়োগের জন্য। দুই দেশের চেম্বারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়েছে। তুরস্কও সেই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। তারাও নির্বাচন পরবর্তী ‘আগামীর বাংলাদেশ’ দেখতে চায়, সেই সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেছি। সবার মতো তুর্কিরাও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসলে সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তারা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প (জয়েন্ট ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি) স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল সরকারের সঙ্গে তাদের এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা তাদেরকে জানিয়েছি।

আগামীকাল ঢাকায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে। এতে তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

এর আগে দুইদিনের সফরে সকালে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নির্বাচনের অপেক্ষায় তুরস্ক, প্রতিরক্ষা শিল্প স্থাপনে আগ্রহ

আপডেট সময় : ০৮:২২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

সোমবার (৬ অক্টোবর) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আসেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনও ছিলেন।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

এক ঘণ্টারও অধিক সময়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের পর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দুই দেশের মধ্যে আমাদের যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, তা জিয়াউর রহমানের সময় থেকে গড়ে উঠেছে। ওআইসিতে জিয়াউর রহমানসহ তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল—সেই বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনে ওআইসিকে শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশ-সৌদি আরব চুক্তি স্বাক্ষর

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, সবক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে কথা হয়েছে। তুর্কি বিনিয়োগ বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও কিভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কথা হয়েছে। আপনারা জানেন, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ— নাম দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি আরও বলেন, তুরস্ক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে অধিক বিনিয়োগের জন্য। দুই দেশের চেম্বারগুলোকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়েছে। তুরস্কও সেই নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। তারাও নির্বাচন পরবর্তী ‘আগামীর বাংলাদেশ’ দেখতে চায়, সেই সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী কীভাবে করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা করেছি। সবার মতো তুর্কিরাও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসলে সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তুরস্ক সরকার বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা (ডিফেন্স) খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। তারা একটি যৌথ প্রতিরক্ষা শিল্প (জয়েন্ট ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি) স্থাপনের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আগামীকাল সরকারের সঙ্গে তাদের এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা তাদেরকে জানিয়েছি।

আগামীকাল ঢাকায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চতুর্থ পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে। এতে তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি।

এর আগে দুইদিনের সফরে সকালে তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।