ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 5

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে সর্বমোট ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

রাজনীতির মাঠের বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পেশা ছিল শিক্ষকতা। একপর্যায়ে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসার পর মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে নেতা, পৌরসভা চেয়ারম্যান এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। আর এখন বসতে যাচ্ছেন দেশের রাষ্ট্রপতির আসনে।

শিক্ষাজীবন শেষ করে মির্জা ফখরুল যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষকতায়। কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার ও রাজপথের রাজনীতি তাকে বরাবরই টানত। সেই তাগিদ থেকেই ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জিতে হন চেয়ারম্যান। সেই থেকে শুরু বর্ণাঢ্য পথচলা।

আশির দশকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আর ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপির কঠিন সময়ে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রধান টার্গেটও ছিলেন তিনি। এমন বাস্তবতায় সহ্য করেছেন হামলা-মামলা-কারাবরণ।

গত চার দশক রাজপথের আন্দোলন আর দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে অনবদ্য ভূমিকা রেখে এই মুহূর্তে দেশের জনপ্রিয়তম রাজনীতিবিদদের একজন মির্জা ফখরুল। ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জাতিকে পথ দেখিয়েছে গভীর সংকটময় মুহুর্তে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা ক্ষমতার করিডর ধরে শুরু হয়নি। রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষার মাঠ- রাজপথেই তিনি বারবার প্রশ্ন করেছেন গণবিরোধী ক্ষমতাকে।

২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁওসহ দুই আসনে প্রার্থী হলেও বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সারা দেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি মহাসচিব সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেননি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

বর্তমান তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশের আসনটিই মির্জা ফখরুলের আসন ছিল। সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির ঢাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে কয়েকটি মামলার আসামি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

একাধারে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব এবং শক্ত হাতে দলীয় সংকট মোকাবিলা করে দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। রাজপথ থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া তার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক মাইলফলক।

ব্যক্তিজীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ মির্জা ফখরুলের দুই কন্যাসন্তান। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়া নিবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানী ঢাকার একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপতির আসনে মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ১০:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে সর্বমোট ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ১১ দলীয় ঐক্যের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।

রাজনীতির মাঠের বর্ষীয়ান ব্যক্তিত্ব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পেশা ছিল শিক্ষকতা। একপর্যায়ে শিক্ষকতা ছেড়ে রাজনীতিতে আসার পর মাঠপর্যায়ের কর্মী থেকে নেতা, পৌরসভা চেয়ারম্যান এবং পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। আর এখন বসতে যাচ্ছেন দেশের রাষ্ট্রপতির আসনে।

শিক্ষাজীবন শেষ করে মির্জা ফখরুল যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষকতায়। কর্মজীবনের শুরুতে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের অধিকার ও রাজপথের রাজনীতি তাকে বরাবরই টানত। সেই তাগিদ থেকেই ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জিতে হন চেয়ারম্যান। সেই থেকে শুরু বর্ণাঢ্য পথচলা।

আশির দশকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার পর ১৯৯২ সালে বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আর ২০১৬ সালে মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপির কঠিন সময়ে দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অন্যতম প্রধান টার্গেটও ছিলেন তিনি। এমন বাস্তবতায় সহ্য করেছেন হামলা-মামলা-কারাবরণ।

গত চার দশক রাজপথের আন্দোলন আর দলের সাংগঠনিক রাজনীতিতে অনবদ্য ভূমিকা রেখে এই মুহূর্তে দেশের জনপ্রিয়তম রাজনীতিবিদদের একজন মির্জা ফখরুল। ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জাতিকে পথ দেখিয়েছে গভীর সংকটময় মুহুর্তে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক যাত্রা ক্ষমতার করিডর ধরে শুরু হয়নি। রাজনীতির অগ্নিপরীক্ষার মাঠ- রাজপথেই তিনি বারবার প্রশ্ন করেছেন গণবিরোধী ক্ষমতাকে।

২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ও পরে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন তিনি। এরপর ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁওসহ দুই আসনে প্রার্থী হলেও বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে সারা দেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি মহাসচিব সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ করেননি, যা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা।

বর্তমান তারেক রহমানের সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশের আসনটিই মির্জা ফখরুলের আসন ছিল। সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

২০১৩ সালের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির ঢাকা মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুলকে গ্রেপ্তার করে কয়েকটি মামলার আসামি করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

একাধারে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব এবং শক্ত হাতে দলীয় সংকট মোকাবিলা করে দেশের রাজনীতিতে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। রাজপথ থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া তার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক মাইলফলক।

ব্যক্তিজীবনে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ মির্জা ফখরুলের দুই কন্যাসন্তান। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়া নিবাসী এবং সিডনিতে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানী ঢাকার একটি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।