ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 74

সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসছেন। আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসছেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেছেন। তখন কিছু সময়ের জন্য জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পরে উন্মুক্ত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যা দায়িত্ব পালন করছেন।

খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা

জিয়ারতকারীদের মধ্যে ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল। তিনি পাঁচ বছরের কন্যা ওয়ানিয়া ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারতে আসেন। দোয়া শেষে তিনি বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন। তিনি আলেম-ওলামাদের ভালোবাসতেন এবং তাদের সম্মানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতেন। এসব কারণেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে তার জন্য দোয়া করতে এসেছি।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে আসা শাফিউর রহমান সাফি বলেন, নেত্রীর বিদায় জানাবার দিন অফিস থাকায় আসতে পারিনি। গতকালও চেষ্টা করেছিলাম আসার জন্য কিন্তু সুযোগ হয়নি। আজ বন্ধ থাকায় রাতে রওনা হয়েছিলাম। সকালে এসে ঢাকায় পৌঁছেছি। নেত্রীর কবর জিয়ারত করলাম। আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুক।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। আজ দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচি হিসাবে আজও বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ জুমার নামাজের পর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।

গত ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। ছেলে তারেক রহমান (জাইমা রহমানের বাবা) স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারতে মানুষের ঢল

আপডেট সময় : ০১:২৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নেতাকর্মীরা জিয়া উদ্যানে আসছেন। আজ (শুক্রবার) সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে আসছেন।

এর আগে খালেদা জিয়ার নাতনি ও তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান ও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমানসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়রা কবর জিয়ারত করেছেন। তখন কিছু সময়ের জন্য জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ থাকলেও পরে উন্মুক্ত করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে সড়কে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও মাইক্রোবাস নিয়ে নেতাকর্মীদের আসতে দেখা যায়। তারা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জিয়া উদ্যানে প্রবেশ করেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেখানে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যা দায়িত্ব পালন করছেন।

খালেদা জিয়ার সমাধিতে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের শ্রদ্ধা

জিয়ারতকারীদের মধ্যে ছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী নাজমুল। তিনি পাঁচ বছরের কন্যা ওয়ানিয়া ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে কবর জিয়ারতে আসেন। দোয়া শেষে তিনি বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন। তিনি আলেম-ওলামাদের ভালোবাসতেন এবং তাদের সম্মানে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতেন। এসব কারণেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে তার জন্য দোয়া করতে এসেছি।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থেকে আসা শাফিউর রহমান সাফি বলেন, নেত্রীর বিদায় জানাবার দিন অফিস থাকায় আসতে পারিনি। গতকালও চেষ্টা করেছিলাম আসার জন্য কিন্তু সুযোগ হয়নি। আজ বন্ধ থাকায় রাতে রওনা হয়েছিলাম। সকালে এসে ঢাকায় পৌঁছেছি। নেত্রীর কবর জিয়ারত করলাম। আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুক।

উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ দেশজুড়ে তৃতীয় ও শেষ দিনের মতো রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। আজ দেশের সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের কর্মসূচি হিসাবে আজও বাংলাদেশের সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আজ জুমার নামাজের পর সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া করা হবে।

এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে মারা যান খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে।

গত ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে শায়িত করা হয়। ছেলে তারেক রহমান (জাইমা রহমানের বাবা) স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে মাকে কবরে দাফন করেন। দাফনের আগে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমার প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়।

এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউ সংলগ্ন বিশাল এলাকায় খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।