ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের সই অযৌক্তিক: বদিউল আলম

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 111
128

সামান্য কারণে মনোনয়ন বাতিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে এবং এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার, এটি অযৌক্তিক। আজ (সোমবার, ৫ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’- শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্থার কমিশনের পক্ষ থেকে বলেছিলাম, শুধু ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা যেন থাকে এবং এ স্বাক্ষরগুলো যেন হলফনামার মাধ্যমে দেয়া যায়। শনাক্তের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারীদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আছে। এর মাধ্যমে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। সংস্কার প্রস্তাবটি আরপিওতে সংযুক্ত হলে এ ধরনের কারসাজি করার আর সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এটি আরপিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি, যে কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের প্রার্থিতা অকারণে বাতিল করা হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাদের একটি বিরাট অংশ স্বতন্ত্র। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার, এটি অযৌক্তিক।’

প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বদিউল আলম মজুমদার।

এসময় তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। যদিও দলীয়করণ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এ দলীয়করণের কারণে আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় সদস্যে পরিণত হয়েছে, স্বার্থ রক্ষা করেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ নয়। যেহেতু এখন নির্বাচন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, আশা করবো সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে যাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত সৃষ্টি করবে। তাই এ নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। নির্বাচনের পরে আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়া দরকার। কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার করা দরকার। আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কাঠামোগত সংস্কার। যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে। প্রতিবারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মাঝে মাঝে নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কিন্তু শুরু হইতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এর জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের সই অযৌক্তিক: বদিউল আলম

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
128

সামান্য কারণে মনোনয়ন বাতিল অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করবে এবং এর দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার, এটি অযৌক্তিক। আজ (সোমবার, ৫ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’- শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্থার কমিশনের পক্ষ থেকে বলেছিলাম, শুধু ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা যেন থাকে এবং এ স্বাক্ষরগুলো যেন হলফনামার মাধ্যমে দেয়া যায়। শনাক্তের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারীদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আছে। এর মাধ্যমে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। সংস্কার প্রস্তাবটি আরপিওতে সংযুক্ত হলে এ ধরনের কারসাজি করার আর সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এটি আরপিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি, যে কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের প্রার্থিতা অকারণে বাতিল করা হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাদের একটি বিরাট অংশ স্বতন্ত্র। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার, এটি অযৌক্তিক।’

প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি

অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বদিউল আলম মজুমদার।

এসময় তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। যদিও দলীয়করণ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এ দলীয়করণের কারণে আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় সদস্যে পরিণত হয়েছে, স্বার্থ রক্ষা করেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ নয়। যেহেতু এখন নির্বাচন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, আশা করবো সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে যাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।’

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত সৃষ্টি করবে। তাই এ নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। নির্বাচনের পরে আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়া দরকার। কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার করা দরকার। আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কাঠামোগত সংস্কার। যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে। প্রতিবারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মাঝে মাঝে নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কিন্তু শুরু হইতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এর জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।’