ঢাকা ১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীবিদ্বেষী পোস্ট সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা: মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, রোববার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 65

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের উদ্দেশ্য যে নোংরা, জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করার দেশব্যাপী যে আলোচনা চলছে, তা সঠিক হলে সেটি পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য বলেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগেও আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতা প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আগেও আমরা দেখেছি এই দলের একজন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনদের উদ্দেশ্যে ঠিক একইভাবে শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমরা দেখেছি, এই দলের প্রধান স্বয়ং প্রকাশ্যে নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন— যে দলটি মুখে মুখে ইনসাফ কায়েমের কথা বলে বেড়ায়। কিন্তু একটি আসনেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী, অথচ তাদের একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীও নেই। এই বিষয়টি নিশ্চয়ই নারীদের প্রতি তাদের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

নিহত রেজাউলের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির

তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে এই দীর্ঘ সময় তারা কেন জাতির সামনে সেটি উন্মোচন করেননি এবং কেন প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে জিডি করতে হলো, যখন সারা দেশের মানুষ সংক্ষুব্ধ হয়েছে? এই বিলম্বের কি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে? তাছাড়া ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিটাই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এই প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরছে। মানুষ প্রশ্নগুলোর উত্তর যৌক্তিকভাবে জানতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। জামায়াত আমিরের এই ফেসবুক পোস্ট যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।

এসময় মাহদী আমিন বলেন, ‘জামায়াতের জন্য নারীবিদ্বেষী আচরণ নতুন কিছু নয়, এর আগেও নানা সময়ে নারীদের নিয়ে তাদের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড লক্ষ্যণীয় ছিলো। নির্বাচন সামনে রেখে গণজোয়ার ঠেকাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নারীবিদ্বেষী পোস্ট সমাজকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ০২:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, রোববার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের উদ্দেশ্য যে নোংরা, জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করার দেশব্যাপী যে আলোচনা চলছে, তা সঠিক হলে সেটি পুরো সমাজব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য বলেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

আজ (রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি) সকালে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগেও আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতা প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আগেও আমরা দেখেছি এই দলের একজন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনদের উদ্দেশ্যে ঠিক একইভাবে শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমরা দেখেছি, এই দলের প্রধান স্বয়ং প্রকাশ্যে নারীদের জন্য কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার মতো পশ্চাৎপদ বক্তব্য দিয়েছেন— যে দলটি মুখে মুখে ইনসাফ কায়েমের কথা বলে বেড়ায়। কিন্তু একটি আসনেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী, অথচ তাদের একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীও নেই। এই বিষয়টি নিশ্চয়ই নারীদের প্রতি তাদের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

নিহত রেজাউলের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির

তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে এই দীর্ঘ সময় তারা কেন জাতির সামনে সেটি উন্মোচন করেননি এবং কেন প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে জিডি করতে হলো, যখন সারা দেশের মানুষ সংক্ষুব্ধ হয়েছে? এই বিলম্বের কি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে? তাছাড়া ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিটাই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এই প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরছে। মানুষ প্রশ্নগুলোর উত্তর যৌক্তিকভাবে জানতে চায়। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। জামায়াত আমিরের এই ফেসবুক পোস্ট যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।

এসময় মাহদী আমিন বলেন, ‘জামায়াতের জন্য নারীবিদ্বেষী আচরণ নতুন কিছু নয়, এর আগেও নানা সময়ে নারীদের নিয়ে তাদের বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ড লক্ষ্যণীয় ছিলো। নির্বাচন সামনে রেখে গণজোয়ার ঠেকাতে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’