ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা ও খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:১৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / 54

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ওই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির এবং নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা উপস্থিত হন।

এদিন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরায়েলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।

এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একই সময় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?

জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ নেয়, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এ সময় জাতিসংঘ ও ওআইসিকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে: নাহিদ

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইরানে হামলার পেছনে কেবল ইসরায়েল নয়, আরও শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিশ্ববাসীর ধারণা। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রযোজ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের পর থেকে দেশটিকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রতিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবিও জানান তিনি।

অন্যদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শক্তিধর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছোট রাষ্ট্রের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। তাই মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।

এদিন সমাবেশে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং আরও কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ সময় হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিম। মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বহু কর্মী ও ছাত্র-জনতা এতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানে হামলা ও খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:২৪:১৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ওই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির এবং নবনির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতা ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা উপস্থিত হন।

এদিন বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরায়েলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে ইরানের পার্লামেন্টে হামলা, অর্থনৈতিক অবরোধসহ নানা ষড়যন্ত্রের পরও দেশটির অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।

এ সময় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একই সময় প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?

জাতিসংঘের ভূমিকার সমালোচনা করে জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত জাতিসংঘ যদি প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ নেয়, তবে বিশ্ববাসীর মধ্যে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এ সময় জাতিসংঘ ও ওআইসিকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে: নাহিদ

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইরানে হামলার পেছনে কেবল ইসরায়েল নয়, আরও শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে বিশ্ববাসীর ধারণা। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়াতে পারে। তাই ছোট-বড় সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রযোজ্য করার আহ্বান জানান তিনি।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের পর থেকে দেশটিকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। সাম্প্রতিক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবিও জানান তিনি।

অন্যদের মধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, শক্তিধর রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ছোট রাষ্ট্রের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। তাই মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল ইরানে সংঘটিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি।

এদিন সমাবেশে চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান হত্যার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা বলেন, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ইফতারের পর বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমানকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এবং আরও কয়েকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ সময় হাফিজুর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচারের জোর দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর দায় সরকারকেই বহন করতে হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও ড. রেজাউল করিম। মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বহু কর্মী ও ছাত্র-জনতা এতে উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।