ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ
- আপডেট সময় : ০১:১১:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
- / 51
আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে, যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হিসেবে পরিচিত, এক বিশাল জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র ১৮ মিনিটের সেই কালজয়ী ভাষণে তিনি বাঙালির দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রাম ও আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরেন এবং পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ বজ্রকণ্ঠই পরবর্তীতে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মুক্তিসেনাদের মূল প্রেরণা ও সাহস হিসেবে কাজ করেছে।
১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিরুদ্ধে বাঙালির যে দীর্ঘ আন্দোলন ও জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটেছিল, তারই চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটে ১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চের এই দিনে। পড়ন্ত বিকেলের সেই উত্তাল জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখ লাখ মানুষ প্রিয় নেতার দিকনির্দেশনা শুনতে ঢাকায় ছুটে এসেছিলেন এবং নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল রাজপথ।
জ্বালানি তেল বিক্রিতে কড়াকড়ি: নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বিক্রি করা যাবে না
৭ মার্চের এই ভাষণের গুরুত্ব আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। এটি এখন পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম কালজয়ী ভাষণ হিসেবে সমাদৃত।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ রিলে না করার প্রতিবাদে ঢাকা বেতারের বাঙালি কর্মচারীরা কাজ বর্জন করেছিলেন, যার ফলে বিকেল থেকে কেন্দ্রের সব অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। সামরিক কর্তৃপক্ষের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে বেতার কর্তৃপক্ষ ভাষণের পূর্ণ বিবরণ প্রচারের অনুমতি দিতে বাধ্য হয় এবং পুনরায় বেতার কেন্দ্রটি সচল হয়। বাঙালির অধিকার আদায়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি প্রতিবছর বিনম্র শ্রদ্ধা ও যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
























এনসিপির সমাবেশস্থলে বোমা বিস্ফোরণ