ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬
  • / 50

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত নির্মম গণহত্যার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটিতে সেসময়কার ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মতো নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

‘আমি এই কাজ করিনি’, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফয়সাল

প্রস্তাবটিতে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বরোচিত দমন অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী উগ্রপন্থী দলগুলোর সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সে সময় কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন এবং দুই লাখের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হন। বিশেষ করে বাঙালি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধন চালানো হয়েছিল বলে এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৃশংসতার প্রামাণ্য দলিল হিসেবে প্রস্তাবে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন, তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের পাঠানো বিখ্যাত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ এবং সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির তদন্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর্চার ব্লাড তার বার্তায় সে সময়কার ঘটনাকে ‘সিলেকটিভ জেনোসাইড’ বা বেছে বেছে চালানো গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন সরকারের নীরবতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট-এর গবেষণার কথাও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অকাট্য প্রমাণের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানানো, ধর্ম ও লিঙ্গনির্বিশেষে নির্বিচার হত্যা, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত অপচেষ্টার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ১৯৭১ সালের এই বর্বরোচিত ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

একাত্তরে বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন, রোববার, ২২ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত নির্মম গণহত্যার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটিতে সেসময়কার ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির মতো নৃশংসতার কথা উল্লেখ করে অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রস্তাবটি কংগ্রেসের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে।

‘আমি এই কাজ করিনি’, হাদি হত্যা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত ফয়সাল

প্রস্তাবটিতে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলা হয়, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ২৫ মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বরোচিত দমন অভিযান শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের সহযোগী উগ্রপন্থী দলগুলোর সহায়তায় এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সে সময় কয়েক লাখ মানুষ নিহত হন এবং দুই লাখের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হন। বিশেষ করে বাঙালি ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে জাতিগত নিধন চালানো হয়েছিল বলে এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নৃশংসতার প্রামাণ্য দলিল হিসেবে প্রস্তাবে সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের প্রতিবেদন, তৎকালীন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের পাঠানো বিখ্যাত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ এবং সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির তদন্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর্চার ব্লাড তার বার্তায় সে সময়কার ঘটনাকে ‘সিলেকটিভ জেনোসাইড’ বা বেছে বেছে চালানো গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন সরকারের নীরবতার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব জুরিস্ট-এর গবেষণার কথাও প্রস্তাবে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণে নির্বিচারে হত্যা ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অকাট্য প্রমাণের কথা বলা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানানো, ধর্ম ও লিঙ্গনির্বিশেষে নির্বিচার হত্যা, নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পিত অপচেষ্টার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবতাবিরোধী এসব অপরাধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ১৯৭১ সালের এই বর্বরোচিত ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে এই প্রস্তাবে।