ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
  • / 69

দেশে জ্বালানি তেলের দাম এপ্রিলে বাড়ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত দাম বাড়ানো হবে না। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণায়।

এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিন প্রতি লিটার ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ আর অকটেনের দাম ১২০ টাকা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এ দামেই বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেল।

এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি জানান, চলমান পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে আজই জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে জ্বালানি খাতে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও পূর্বানুমেয় নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হতে পারে।

মালয়েশিয়া থেকে এল ৩০ হাজার টন ডিজেল

বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। সরকারি ভাণ্ডারে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি এপ্রিল মাসের জন্য আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিকল্প কিছু পদক্ষেপও বিবেচনায় নিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগ নিয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ব্যবহারে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এর আগে জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ২ টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে আরও ২ টাকা করে কমানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়।

জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের সূত্র নির্ধারণ করে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। নির্দেশিকায় বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রল ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই বাস্তবতার নিরিখে বিলাসদ্রব্য (লাক্সারি আইটেম) হিসেবে সব সময় ডিজেলের চেয়ে অকটেন ও পেট্রলের দাম বেশি রাখা হয়।

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বিপিসি সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বর্তমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে ডিজেলের দাম হবে প্রায় ২০০ টাকা। দাম না বাড়ানোয় এক মাসেই পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

দেশে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের দাম এপ্রিলে বাড়ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত দাম বাড়ানো হবে না। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণায়।

এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিন প্রতি লিটার ১১২ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১১৬ আর অকটেনের দাম ১২০ টাকা করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এ দামেই বিক্রি হয়েছে জ্বালানি তেল।

এর আগে, সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি জানান, চলমান পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে আজই জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে জ্বালানি খাতে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও পূর্বানুমেয় নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হতে পারে।

মালয়েশিয়া থেকে এল ৩০ হাজার টন ডিজেল

বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই। সরকারি ভাণ্ডারে ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। পাশাপাশি এপ্রিল মাসের জন্য আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার বিকল্প কিছু পদক্ষেপও বিবেচনায় নিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, অফিস সময় কমানো এবং প্রয়োজন হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালুর মতো উদ্যোগ নিয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস অনলাইনে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি ব্যবহারে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এর আগে জানুয়ারিতে প্রতি লিটারে ২ টাকা ও ফেব্রুয়ারিতে আরও ২ টাকা করে কমানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়।

জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণের সূত্র নির্ধারণ করে নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয় ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। নির্দেশিকায় বলা হয়, দেশে ব্যবহৃত অকটেন ও পেট্রল ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই বাস্তবতার নিরিখে বিলাসদ্রব্য (লাক্সারি আইটেম) হিসেবে সব সময় ডিজেলের চেয়ে অকটেন ও পেট্রলের দাম বেশি রাখা হয়।

জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বিপিসি সূত্র বলছে, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। বর্তমান আমদানি মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা হলে ডিজেলের দাম হবে প্রায় ২০০ টাকা। দাম না বাড়ানোয় এক মাসেই পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।