বাজেটের প্রভাব নেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে
- আপডেট সময় : ০৩:১৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
- / 14
জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর দিন সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়। তবে এবারের চিত্রটা বেশ ভিন্ন। আগের মতোই বাজারে ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। মৌসুম না হওয়ায় বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের সবজি তালিকায় রয়েছে টমেটো, যা প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি সবজিগুলো আগের সপ্তাহের মতোই ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে চলছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
এসব বাজারে প্রতিকেজি পটল ও ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা ও আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে প্রতিকেজি কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, সাজনা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে পেঁপে কেজিতে ২০ টাকা কমে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে বাজারগুলোতে লেবুর দাম কমেছে। এক হালি লেবু ৮ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা কেজি ২৫০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ১৮০, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস ও ক্যাপসিকাম ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে লাল শাক আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৪০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, বাজেটের পরের দিন বাজারে এলাম। সব ধরনের সবজির দাম আগের মতোই রয়েছে। দাম বাড়েওনি আবার কমেওনি। সব ধরনের সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে, তবে দুই একটি সবজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাড্ডার একটি বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সুলতান আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহ থেকে সবজির বাজার প্রায় একই রকমই যাচ্ছে। গতকাল বাজেট ঘোষণার পর তার কোনো প্রভাব বর্তমানে সবজির বাজারে পড়েনি। আগের দামেই সবজি বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামের বিষয়ে রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা ইয়াসিন আলি বলেন, চলতি মাসের শুরুতে সবজির দাম যেমন বাড়তি ছিল সেই তুলনায় বর্তমানে সবজির দাম কম যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজারে বেশিরভাগ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুম না হওয়ায় টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকায়, শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাকি সবজিগুলোর দাম বলতে গেলে আগের চেয়ে কম রয়েছে। মোটামুটি এক সপ্তাহ ধরে সবজির বাজার ৫০ থেকে ৮০ টাকার ঘরে।
বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তেলের দাম গত এক সপ্তাহ ধরে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বেশি করে বিক্রি হচ্ছে।
মধ্য বাড্ডা কাঁচাবাজারের মুদি ব্যবসায়ী মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাজেটের কারণে বাজারে এখনো কোনো প্রভাব দেখিনি। বেশিরভাগ পণ্যের দাম আগের মতোই আছে। শুধু সয়াবিন তেলের দাম কোম্পানি বাড়িয়ে দিয়েছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে তেলের বাড়তি দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মেরুল বাড্ডার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিত্যপণ্যের মধ্যে তেল এমন একটি জিনিস, যা প্রতিদিনই লাগে। কয়েক টাকা বাড়লেও মাস শেষে বড় চাপ পড়ে। তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে।’
একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের দাম না বাড়লেও তেলের দাম বারবার বাড়ছে। সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকারকে এই পণ্যের বাজারে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে।’
এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি কক মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৩০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৭০ টাকা, ব্রয়লার ১৫৫ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এসব বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১৫০০ টাকা থেকে ১৬০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘ঈদের পর মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আজকে এক কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করছি। তেলাপিয়া ২০০ টাকা। সব মাছ আগের মতোই আছে। মাছের বাজারে বাজেটের প্রভাব পড়েনি। পাইকারি বাজারে না বাড়লে খুচরা বাজারেও কম। আর মাছের বাজার নিয়মিত ভাবে ২০-৩০ টাকা দাম ওঠানামা করে।’
চাকরিজীবী আবু দাউদ বলেন, ‘ঈদের পর থেকে মাছ ও মুরগি বাজার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাজারে আজকে বাজেটের প্রভাব পড়েনি। মাছ ও মুরগির দাম আগের মতোই আছে।’
ডিম ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ বলেন, ‘ব্রয়লার সাদা ডিম ডজন ১২০ টাকা, ব্রাউন রঙের ডিম ১৩০ টাকা বিক্রি করছি। গতকালও একই দামে বিক্রি করেছি। বাজেটের প্রভাব পড়েনি। সরকার তো এখানে দাম বাড়ার মতো কর বাড়ায়নি। যদি বাড়ে তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাড়তে পারে।’





















জুলাইয়ের মাসের শেষদিকে দেয়া হবে স্কুল ড্রেস: শিক্ষামন্ত্রী