ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাচদের রুখে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল জাপান

স্পোটর্স ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 15

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সম্ভবত সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটির সাক্ষী থাকল ফুটবলবিশ্ব। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই লড়াই ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘পয়সা উশুল’। মাঠের উত্তেজনায় দর্শকদের চোখ সরানোর উপায় ছিল না। প্রথমার্ধ গোলশূন্য কাটলেও, আসল নাটক যেন তোলা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্যই। নেদারল্যান্ডস গোল করে লিড নেয়, তো মুহূর্তের মধ্যেই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে জাপান। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস ড্র করেছে ২-২ গোলে। ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে লিড নেওয়ার পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। এরপর ক্রেসেনসিও সামারভিলের গোলে লিড পায় রোনাল্ড কোমানের দল। আর শেষে ক্রিস্টল প্যালেসের মিডফিল্ডার ডাইচাই কামাডার গোলে সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাসে ভাসে জাপান। অন্যদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার দুইবার এগিয়ে থেকেও নেদারল্যান্ডস ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হলো।

বল পজেশনে নেদারল্যান্ডস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শট নেওয়ায় ডাচদের সঙ্গে সমানতালেই পাল্লা দিয়েছে জাপান। ৬০ শতাংশ বল নিজেদে কাছে রেখে ৬টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রেখেছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বর দল নেদারল্যান্ডস। আর র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮ নম্বর জাপানের নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে গোলমুখে ছিল ৩টি।

বলের দখল ও আক্রমণে দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। ডাচদের রক্ষণ জমাট রেখে বারবার পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছে জাপানও। বিরতির আগে ৬৯ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল নেদারল্যান্ডস। গোলমুখে তারা শট নিয়েছে ৬টি, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে জাপান ৩টি শট নিলেও একটিও ডাচ গোলকিপার বার্থ ফারব্রুগেনকে সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।

শুরু থেকেই ছোট ছোট পাসে জাপানকে নিজেদের অর্ধেই আটকে ফেলে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ডনিয়েল মালেনের জোরালো শট রুখে দেন জাপানি কিপার জিওন সুজুকি। এরপর ৩০ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় ডাচদের। ৩৫ মিনিটে মালেনের আরেকটি দুর্দান্ত হেড জাপানি গোলকিপারের দক্ষতায় নস্যাৎ হয়ে যায়। গাকপোর দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে লিড নেওয়া হয়নি নেদারল্যান্ডসের।

শুরুর দিকে রক্ষণাত্মক থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে জাপান ম্যাচে ফিরতে শুরু করে। নাকামুরা ও দাইচি মায়েদাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাদের দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণ বেশ বিপদজনক ছিল। ২৮ মিনিটে হিরোকি ইতো এবং ৪১ মিনিটে নাকামুরার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে উয়েদাও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার শটটিও সাইড নেটিংয়ে বাধা পায়।

আসল খেলা শুরু হয় বিরতির পরই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জাপানের খেলায় অনেকটা ছন্দপতন ঘটে। বিরতির পর প্রথম ১০ মিনিটে ডাচরা যেখানে ৬২টি সফল পাস দেয়, সেখানে জাপান মাত্র ১৬টি পাস খেলে। ৫১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফন ডাইক। লিভারপুলের দুই তারকার রসায়নে তৈরি এই গোলটি ছিল দুর্দান্ত। তিজানি রেইন্ডার্সের ফ্রি-কিক থেকে বল ক্লিয়ার হলেও ডাচরা আবারও গুছিয়ে আক্রমণ সাজায়। ডান দিকে বল পেয়ে যান গ্রাভেনবার্খ, দুর্দান্ত দক্ষতায় বল খুঁজে নেওয়া ডাচ অধিনায়ক নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।

৩৪ বছর ৩৪১ দিন বয়সী ভার্জিল ফন ডাইক এখন নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। এই তালিকার শীর্ষে আছেন জিওভানি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট, যিনি ২০১০ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করেছিলেন ৩৫ বছর ১৫১ দিন বয়সে ।

৫৭ মিনিটে একেবারেই খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ১-১ সমতা ফেরালেন নাকামুরা! কুবোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডাচ ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ভ্যান হেককে’র গায়ে লেগে বলটি যখন বাঁদিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়াল, তখন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না কারও। খাদের কিনারা থেকে জাপান যেন তখন নতুন জীবন পেল।

সমতায় ফেরার পরই ম্যাচ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। ৬৪ মিনিটে আবার লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। জাপানের পেনাল্টি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া সামারভিলের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় জালে। জাপানি গোলকিপার জিওন সুজুকির কিছুই করার ছিল না চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া।

৬৭ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক শট নেন কুবো, তবে অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হন। বিরতির পর জাপানকে খুব একটা আক্রমণভাগে দেখা না গেলেও, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে তারা দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরার খুব কাছে চলে আসে। দূরপাল্লা থেকে কুবোর নেওয়া জোরালো শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ডাচরা।

পুরো ম্যাচজুড়ে ডাচরা সেট-পিসে হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও, শেষ মুহূর্তে এসে জুনিয়া ইতোর কর্নার থেকে জাপান যেন এক মরণ কামড় দিল। বদলি খেলোয়াড় ইতোর দারুণ সেই ক্রস খুঁজে নেয় ওগাওয়ার মাথা। তার হেড থেকে বল যায় কামাদার মাথায়, এরপর নেদারল্যান্ডস গোলকিপার ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায় ডাচদের জালে। দ্বিতীয় দফায় সমতায় ফেরা জাপানের খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো! এরপর যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে কোনো দল লক্ষ্যভেদ করতে না পারলে শেষ হয় জাপানের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।

বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডসের পরের ম্যাচ আগামী ২০ জুন সুইডেনের বিপক্ষে। আর ২১ জুন জাপান মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়ার।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাচদের রুখে পয়েন্ট ছিনিয়ে নিল জাপান

আপডেট সময় : ০১:৪৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সম্ভবত সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচটির সাক্ষী থাকল ফুটবলবিশ্ব। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের এই লড়াই ছিল আক্ষরিক অর্থেই ‘পয়সা উশুল’। মাঠের উত্তেজনায় দর্শকদের চোখ সরানোর উপায় ছিল না। প্রথমার্ধ গোলশূন্য কাটলেও, আসল নাটক যেন তোলা ছিল দ্বিতীয়ার্ধের জন্যই। নেদারল্যান্ডস গোল করে লিড নেয়, তো মুহূর্তের মধ্যেই দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে জাপান। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।

বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে নেদারল্যান্ডস ড্র করেছে ২-২ গোলে। ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে লিড নেওয়ার পর জাপানকে সমতায় ফেরান কেইতো নাকামুরা। এরপর ক্রেসেনসিও সামারভিলের গোলে লিড পায় রোনাল্ড কোমানের দল। আর শেষে ক্রিস্টল প্যালেসের মিডফিল্ডার ডাইচাই কামাডার গোলে সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাসে ভাসে জাপান। অন্যদিকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার দুইবার এগিয়ে থেকেও নেদারল্যান্ডস ম্যাচ জিততে ব্যর্থ হলো।

বল পজেশনে নেদারল্যান্ডস কিছুটা এগিয়ে থাকলেও শট নেওয়ায় ডাচদের সঙ্গে সমানতালেই পাল্লা দিয়েছে জাপান। ৬০ শতাংশ বল নিজেদে কাছে রেখে ৬টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রেখেছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বর দল নেদারল্যান্ডস। আর র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৮ নম্বর জাপানের নেওয়া ১০টি শটের মধ্যে গোলমুখে ছিল ৩টি।

বলের দখল ও আক্রমণে দাপট দেখালেও প্রথমার্ধে জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। ডাচদের রক্ষণ জমাট রেখে বারবার পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়িয়েছে জাপানও। বিরতির আগে ৬৯ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখেছিল নেদারল্যান্ডস। গোলমুখে তারা শট নিয়েছে ৬টি, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে জাপান ৩টি শট নিলেও একটিও ডাচ গোলকিপার বার্থ ফারব্রুগেনকে সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।

শুরু থেকেই ছোট ছোট পাসে জাপানকে নিজেদের অর্ধেই আটকে ফেলে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ডনিয়েল মালেনের জোরালো শট রুখে দেন জাপানি কিপার জিওন সুজুকি। এরপর ৩০ মিনিটে ডেনজেল ডামফ্রিসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে হতাশ হতে হয় ডাচদের। ৩৫ মিনিটে মালেনের আরেকটি দুর্দান্ত হেড জাপানি গোলকিপারের দক্ষতায় নস্যাৎ হয়ে যায়। গাকপোর দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে লিড নেওয়া হয়নি নেদারল্যান্ডসের।

শুরুর দিকে রক্ষণাত্মক থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে জাপান ম্যাচে ফিরতে শুরু করে। নাকামুরা ও দাইচি মায়েদাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাদের দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণ বেশ বিপদজনক ছিল। ২৮ মিনিটে হিরোকি ইতো এবং ৪১ মিনিটে নাকামুরার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমার্ধের শেষদিকে উয়েদাও গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু তার শটটিও সাইড নেটিংয়ে বাধা পায়।

আসল খেলা শুরু হয় বিরতির পরই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই জাপানের খেলায় অনেকটা ছন্দপতন ঘটে। বিরতির পর প্রথম ১০ মিনিটে ডাচরা যেখানে ৬২টি সফল পাস দেয়, সেখানে জাপান মাত্র ১৬টি পাস খেলে। ৫১ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন ফন ডাইক। লিভারপুলের দুই তারকার রসায়নে তৈরি এই গোলটি ছিল দুর্দান্ত। তিজানি রেইন্ডার্সের ফ্রি-কিক থেকে বল ক্লিয়ার হলেও ডাচরা আবারও গুছিয়ে আক্রমণ সাজায়। ডান দিকে বল পেয়ে যান গ্রাভেনবার্খ, দুর্দান্ত দক্ষতায় বল খুঁজে নেওয়া ডাচ অধিনায়ক নিখুঁত হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন।

৩৪ বছর ৩৪১ দিন বয়সী ভার্জিল ফন ডাইক এখন নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা। এই তালিকার শীর্ষে আছেন জিওভানি ফন ব্রঙ্কহর্স্ট, যিনি ২০১০ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করেছিলেন ৩৫ বছর ১৫১ দিন বয়সে ।

৫৭ মিনিটে একেবারেই খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে ১-১ সমতা ফেরালেন নাকামুরা! কুবোর কাছ থেকে বল পেয়ে ডাচ ডি-বক্সের প্রান্ত থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ভ্যান হেককে’র গায়ে লেগে বলটি যখন বাঁদিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়াল, তখন হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় ছিল না কারও। খাদের কিনারা থেকে জাপান যেন তখন নতুন জীবন পেল।

সমতায় ফেরার পরই ম্যাচ যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। ৬৪ মিনিটে আবার লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। জাপানের পেনাল্টি বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া সামারভিলের দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় জালে। জাপানি গোলকিপার জিওন সুজুকির কিছুই করার ছিল না চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া।

৬৭ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক শট নেন কুবো, তবে অল্পের জন্য গোলবঞ্চিত হন। বিরতির পর জাপানকে খুব একটা আক্রমণভাগে দেখা না গেলেও, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে তারা দ্বিতীয়বারের মতো সমতায় ফেরার খুব কাছে চলে আসে। দূরপাল্লা থেকে কুবোর নেওয়া জোরালো শটটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় ডাচরা।

পুরো ম্যাচজুড়ে ডাচরা সেট-পিসে হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও, শেষ মুহূর্তে এসে জুনিয়া ইতোর কর্নার থেকে জাপান যেন এক মরণ কামড় দিল। বদলি খেলোয়াড় ইতোর দারুণ সেই ক্রস খুঁজে নেয় ওগাওয়ার মাথা। তার হেড থেকে বল যায় কামাদার মাথায়, এরপর নেদারল্যান্ডস গোলকিপার ভারব্রুগেনকে পরাস্ত করে জড়িয়ে যায় ডাচদের জালে। দ্বিতীয় দফায় সমতায় ফেরা জাপানের খেলোয়াড়দের উল্লাস ছিল দেখার মতো! এরপর যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে কোনো দল লক্ষ্যভেদ করতে না পারলে শেষ হয় জাপানের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনের গল্প।

বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডসের পরের ম্যাচ আগামী ২০ জুন সুইডেনের বিপক্ষে। আর ২১ জুন জাপান মুখোমুখি হবে তিউনিসিয়ার।